ছুটি বাড়ল আরও ১৪ দিন
jugantor
সীমিত পরিসরে খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ছুটি বাড়ল আরও ১৪ দিন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা শুরুর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উভয় স্তরের পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত টেস্ট পরীক্ষাও নেয়া হবে।

এসব কার্যক্রমের ফলে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে। তবে সংক্রমণের দিক থেকে অনুকূল পরিস্থিতি না হলে এ ধরনের সিদ্ধান্তে সরকার যাবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদের আবেদন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনা না করলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা যাবে। এবার পাঠ্যপুস্তক উৎসব হবে না। তবে শিশুদের বই পৌঁছে দেয়া হবে।

গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীও সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এছাড়া এদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একই প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে।

এতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং অভিভাবকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, ভারতে করোনা পরিস্থিতির ফের অবনতি হচ্ছে। আগামী শীতে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি অবনতিরও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু আগামী বছর যারা এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে খুবই সীমিত পরিসরে, স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে এমন কিছু একটা করার চিন্তাভাবনা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক এসএম গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস : ডা. দীপু মনি বলেন, এবার যাদের এইচএসসি দেয়ার কথা ছিল তারা কিন্তু পুরো সিলেবাস শেষ করে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিল।

কিন্তু আগামী বছর যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের পড়াশোনায় কিছুটা হলেও ব্যাঘাত হয়েছে। আট-নয় মাস ক্লাস করতে পারনি।

তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে হলেও যদি সময় (ক্লাস করানো) দেয়া যায়, তবে হয়তো তারা সিলেবাস শেষ করতে পারবে। যদিও নানাভাবে ক্লাস হচ্ছে।

এরপর সীমিত পরিসরে হলেও তাদের ক্লাসরুমে নিয়ে এসে যেখানে সমস্যা আছে তা দূর করতে চাই। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি এবং ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবার এইচসএসসি পরীক্ষা নেয়নি সরকার। এছাড়া পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।

টিউশন ফি বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা : এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফির সঙ্গে আর কোন খাতে অর্থ আদায় করা যাবে তা উল্লেখ করে একটি নির্দেশনা দেয়া হবে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্রীড়া, মিলাদ-মাহফিলসহ অন্যান্য যে কার্যক্রম হয়নি, নির্দেশনায় সেসব ফি বাদ দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, করোনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য এ সুবিধা কার্যকর করতে বলা হবে। সরকারি কোনো চাকরিজীবী কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

কিছু বেসরকারি চাকরিজীবী, কিছু ব্যবসার মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাই এ ধরনের অভিভাবকের ছাড়ের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান উদার হতে পারে। এটা না হলে আমাদের জানালে আমরা দেখব।

নাও পেছাতে পারে এসএসসি : তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলছেন, স্কুলে আসার অভ্যাস চলে যাচ্ছে। নানান বিষয় চিন্তাভাবনা করছি। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেয়া হবে।

আমরা আশা করি, এসএসসি পরীক্ষা পেছাতে হবে না। যদি (পেছানোর) প্রয়োজন হয়, পরিস্থিতির কারণে, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। তবে সময়মতো পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করব।

স্নাতক কলেজ-কারিগরিতে পরীক্ষা হবে : মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে বা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের বিষয়টি ভিন্ন।

কারণ তাদের এটি চূড়ান্ত পরীক্ষা। এরপর তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। কাজেই সে পরীক্ষার যদি সঠিক (মূল্যায়ন) না হয়, তাহলে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। তাই পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও যা আছে তাতে আমরা মনে করছি, পরীক্ষা নেয়া যাবে। এদের সংখ্যাও অত বড় নয়। আশা করছি পরীক্ষা নিতে পারব।

আমি আহ্বান জানাব- এখন থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এক বা দুই মাস পর পরীক্ষা হলে যেন বলতে না হয় যে, প্রস্তুতি নিতে পারিনি।

ভর্তি পরীক্ষা : স্কুলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা এবং লটারি দুটি উপায় আছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কোনটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ হবে- সেটি বেছে নেয়া হবে।

পাঠ্যপুস্তক উৎসব হচ্ছে না : দীপু মনি বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নিশ্চয় আমরা উৎসব ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব না। তবে এবার বই তৈরি থাকবে।

অবশ্য বিকল্প চিন্তা করে কীভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেয়া যায় সেই বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। বিকল্প আমরা জানিয়ে দেব।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল খুব শিগগিরই দেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে এনটিআরসিএ কাজ করছে।

৩ নভেম্বর বৈঠক : এদিকে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ইউজিসি বৃহস্পতিবার বিকালে বৈঠকে বসে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির প্রস্তাবিত সফটওয়্যারে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ত্রিপক্ষীয় অনুরোধের ভিত্তিতে বৈঠকটি ডাকা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের আহ্বান : করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও স্কুল খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক। বিশ্বের ১৫০টি দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে তারা।

সীমিত পরিসরে খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ছুটি বাড়ল আরও ১৪ দিন

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা শুরুর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উভয় স্তরের পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত টেস্ট পরীক্ষাও নেয়া হবে।

এসব কার্যক্রমের ফলে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে। তবে সংক্রমণের দিক থেকে অনুকূল পরিস্থিতি না হলে এ ধরনের সিদ্ধান্তে সরকার যাবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদের আবেদন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনা না করলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা যাবে। এবার পাঠ্যপুস্তক উৎসব হবে না। তবে শিশুদের বই পৌঁছে দেয়া হবে।

গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীও সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এছাড়া এদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একই প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে।

এতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং অভিভাবকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ থাকবে। 

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, ভারতে করোনা পরিস্থিতির ফের অবনতি হচ্ছে। আগামী শীতে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি অবনতিরও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু আগামী বছর যারা এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে খুবই সীমিত পরিসরে, স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে এমন কিছু একটা করার চিন্তাভাবনা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক এসএম গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস : ডা. দীপু মনি বলেন, এবার যাদের এইচএসসি দেয়ার কথা ছিল তারা কিন্তু পুরো সিলেবাস শেষ করে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিল।

কিন্তু আগামী বছর যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের পড়াশোনায় কিছুটা হলেও ব্যাঘাত হয়েছে। আট-নয় মাস ক্লাস করতে পারনি।

তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে হলেও যদি সময় (ক্লাস করানো) দেয়া যায়, তবে হয়তো তারা সিলেবাস শেষ করতে পারবে। যদিও নানাভাবে ক্লাস হচ্ছে।

এরপর সীমিত পরিসরে হলেও তাদের ক্লাসরুমে নিয়ে এসে যেখানে সমস্যা আছে তা দূর করতে চাই। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি এবং ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবার এইচসএসসি পরীক্ষা নেয়নি সরকার। এছাড়া পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।

টিউশন ফি বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা : এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফির সঙ্গে আর কোন খাতে অর্থ আদায় করা যাবে তা উল্লেখ করে একটি নির্দেশনা দেয়া হবে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্রীড়া, মিলাদ-মাহফিলসহ অন্যান্য যে কার্যক্রম হয়নি, নির্দেশনায় সেসব ফি বাদ দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, করোনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য এ সুবিধা কার্যকর করতে বলা হবে। সরকারি কোনো চাকরিজীবী কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

কিছু বেসরকারি চাকরিজীবী, কিছু ব্যবসার মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাই এ ধরনের অভিভাবকের ছাড়ের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান উদার হতে পারে। এটা না হলে আমাদের জানালে আমরা দেখব।

নাও পেছাতে পারে এসএসসি : তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলছেন, স্কুলে আসার অভ্যাস চলে যাচ্ছে। নানান বিষয় চিন্তাভাবনা করছি। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেয়া হবে।

আমরা আশা করি, এসএসসি পরীক্ষা পেছাতে হবে না। যদি (পেছানোর) প্রয়োজন হয়, পরিস্থিতির কারণে, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। তবে সময়মতো পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করব।

স্নাতক কলেজ-কারিগরিতে পরীক্ষা হবে : মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে বা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের বিষয়টি ভিন্ন।

কারণ তাদের এটি চূড়ান্ত পরীক্ষা। এরপর তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। কাজেই সে পরীক্ষার যদি সঠিক (মূল্যায়ন) না হয়, তাহলে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। তাই পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও যা আছে তাতে আমরা মনে করছি, পরীক্ষা নেয়া যাবে। এদের সংখ্যাও অত বড় নয়। আশা করছি পরীক্ষা নিতে পারব।

আমি আহ্বান জানাব- এখন থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এক বা দুই মাস পর পরীক্ষা হলে যেন বলতে না হয় যে, প্রস্তুতি নিতে পারিনি।

ভর্তি পরীক্ষা : স্কুলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা এবং লটারি দুটি উপায় আছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কোনটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ হবে- সেটি বেছে নেয়া হবে।

পাঠ্যপুস্তক উৎসব হচ্ছে না : দীপু মনি বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নিশ্চয় আমরা উৎসব ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব না। তবে এবার বই তৈরি থাকবে।

অবশ্য বিকল্প চিন্তা করে কীভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেয়া যায় সেই বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। বিকল্প আমরা জানিয়ে দেব।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল খুব শিগগিরই দেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে এনটিআরসিএ কাজ করছে। 

৩ নভেম্বর বৈঠক : এদিকে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ইউজিসি বৃহস্পতিবার বিকালে বৈঠকে বসে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির প্রস্তাবিত সফটওয়্যারে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ত্রিপক্ষীয় অনুরোধের ভিত্তিতে বৈঠকটি ডাকা হয়। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের আহ্বান : করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও স্কুল খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক। বিশ্বের ১৫০টি দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে তারা।