করোনায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে সঠিক পথে বাংলাদেশ
jugantor
ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ
করোনায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে সঠিক পথে বাংলাদেশ
অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২১ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সঠিক পথে রয়েছে দেশটি। এগুলো কোভিড-১৯ প্রভাবিত অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা সামলে ওঠার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। জুন ২০২১-এ সমাপ্ত চলতি অর্থবছরে পতন থেকে দেশটির প্রবৃদ্ধি ভি-আকৃতির উত্থান দেখা যেতে পারে। মহামারীর প্রাথমিক বিপর্যয়-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির উত্তরণের এ সম্ভাবনা প্রবলভাবেই দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, দেশটি বিকাশের সঠিক পথে রয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের সম্প্রতি প্রকাশিত এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, মহামারী-পরবর্তী সীমিত চাহিদা থেকে পরিত্রাণের মতো উন্নতি এবং অন্যান্য সহযোগী মৌল ভিত্তির প্রভাব হবে দেশটির অর্থনীতি বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২৬ সাল নাগাদ অর্থনীতির কলেবর বাড়ার এ চক্রাকার গতি বাৎসরিক সাড়ে ৭ শতাংশে রূপ নেবে। মহামারীর আগে এটির প্রকৃত অবস্থা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। ভবিষ্যতে মৌলভিত্তির অনুমানেও দেশটির অর্থনীতিতে ভাইরাসসৃষ্ট কারণে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

পণ্য রফতানিতে শক্তিশালী অবস্থান দেশটির জন্য সুযোগ বাড়িয়েছে। ফলে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে নতুন বিনিয়োগে। এর ধারাবাহিকতায় গত এক দশকে দেশটির উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব অন্তর্নিহিত কারণই অর্থনৈতিক স্ফীতির মূল চাবিকাঠি রূপে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক লকডাউনের পদক্ষেপ সত্ত্বেও ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ শতাংশ কমতে পারে-মহামারীর আগের যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল তার তুলনায়। ২০২০ অর্থবছরের হারিয়ে যাওয়া উৎপাদনশীলতার কারণেই এমনটা হবে। তার কিছুটা প্রভাব অবশ্য চলতি ২০২১ অর্থবছরেও পড়বে। মহামারী স্বল্পমেয়াদি কিছু বাহ্যিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কমে যাওয়া। গার্মেন্ট খাতে ক্রয়াদেশ বাতিল রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশটির রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশই এ খাত থেকে আসে। এগুলো যদি উৎপাদনশীলতার লাগাম টেনে ধরে, তাহলে সার্বিকভাবেই অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপরিচালিত পোশাক উৎপাদনের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত প্রভাবিত হতে পারে। গার্মেন্ট শিল্পে কর্মরত অনেক অদক্ষ শ্রমিকের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে এ প্রবণতা। সরকারি দেনার সঙ্গতিপূর্ণ অবস্থান বাংলাদেশকে নানা আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করছে। এতে স্বল্পমেয়াদি বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় সাহায্য পাচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বেশকিছু অগ্রগতি অর্জন করছে। নারীর ক্ষমতায়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপন এবং নতুনভাবে প্রণীত মূসক ব্যবস্থার সংস্কার এ জন্য সহায়ক হতে পারে।

তাছাড়া কাঠামোগত সংস্কারের সুবাদে সহজে ব্যবসা করার সুবিধা দেশটির অর্থনীতিতে যোগ করতে পারে আরও ইতিবাচক দিক।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ

করোনায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে সঠিক পথে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে
 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সঠিক পথে রয়েছে দেশটি। এগুলো কোভিড-১৯ প্রভাবিত অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা সামলে ওঠার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। জুন ২০২১-এ সমাপ্ত চলতি অর্থবছরে পতন থেকে দেশটির প্রবৃদ্ধি ভি-আকৃতির উত্থান দেখা যেতে পারে। মহামারীর প্রাথমিক বিপর্যয়-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির উত্তরণের এ সম্ভাবনা প্রবলভাবেই দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, দেশটি বিকাশের সঠিক পথে রয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের সম্প্রতি প্রকাশিত এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, মহামারী-পরবর্তী সীমিত চাহিদা থেকে পরিত্রাণের মতো উন্নতি এবং অন্যান্য সহযোগী মৌল ভিত্তির প্রভাব হবে দেশটির অর্থনীতি বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২৬ সাল নাগাদ অর্থনীতির কলেবর বাড়ার এ চক্রাকার গতি বাৎসরিক সাড়ে ৭ শতাংশে রূপ নেবে। মহামারীর আগে এটির প্রকৃত অবস্থা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। ভবিষ্যতে মৌলভিত্তির অনুমানেও দেশটির অর্থনীতিতে ভাইরাসসৃষ্ট কারণে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

পণ্য রফতানিতে শক্তিশালী অবস্থান দেশটির জন্য সুযোগ বাড়িয়েছে। ফলে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে নতুন বিনিয়োগে। এর ধারাবাহিকতায় গত এক দশকে দেশটির উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব অন্তর্নিহিত কারণই অর্থনৈতিক স্ফীতির মূল চাবিকাঠি রূপে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক লকডাউনের পদক্ষেপ সত্ত্বেও ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ শতাংশ কমতে পারে-মহামারীর আগের যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল তার তুলনায়। ২০২০ অর্থবছরের হারিয়ে যাওয়া উৎপাদনশীলতার কারণেই এমনটা হবে। তার কিছুটা প্রভাব অবশ্য চলতি ২০২১ অর্থবছরেও পড়বে। মহামারী স্বল্পমেয়াদি কিছু বাহ্যিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কমে যাওয়া। গার্মেন্ট খাতে ক্রয়াদেশ বাতিল রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশটির রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশই এ খাত থেকে আসে। এগুলো যদি উৎপাদনশীলতার লাগাম টেনে ধরে, তাহলে সার্বিকভাবেই অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপরিচালিত পোশাক উৎপাদনের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত প্রভাবিত হতে পারে। গার্মেন্ট শিল্পে কর্মরত অনেক অদক্ষ শ্রমিকের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে এ প্রবণতা। সরকারি দেনার সঙ্গতিপূর্ণ অবস্থান বাংলাদেশকে নানা আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করছে। এতে স্বল্পমেয়াদি বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় সাহায্য পাচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বেশকিছু অগ্রগতি অর্জন করছে। নারীর ক্ষমতায়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপন এবং নতুনভাবে প্রণীত মূসক ব্যবস্থার সংস্কার এ জন্য সহায়ক হতে পারে।

তাছাড়া কাঠামোগত সংস্কারের সুবাদে সহজে ব্যবসা করার সুবিধা দেশটির অর্থনীতিতে যোগ করতে পারে আরও ইতিবাচক দিক।