শুরুতেই কিট সংকট
jugantor
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ
শুরুতেই কিট সংকট
উপকরণের যেন সংকট সৃষ্টি না হয় সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী * পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলেও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি -অতিরিক্ত মহাপরিচালক * দুর্নীতি বন্ধের অজুহাতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব নয় -ড. মোশতাক

  রাশেদ রাব্বি  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতেই কিট ও সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহৃত আরটি-পিসিআর কিট, ল্যাব কনজিউমেবলস এবং পিপিই’র মজুদ প্রায় শেষ। বর্তমানে মজুদ কিটের একটি বড় অংশই ব্যবহার উপযোগী নয়।

বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রাপ্ত কিট দিয়েই চলছে রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা। কিট কেনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। বাধাগ্রস্ত হতে পারে দ্বিতীয় সংক্রমণ মোকাবেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কেনাকাটার সব দায়িত্ব সিএমএসডির। কিন্তু তারা যথাসময়ে মালামাল সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে বিভিন্ন দাতাদের দেয়া কিট দিয়েই ল্যাবগুলোর কাজ চালানো হচ্ছে। সরকারিভাবে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হয় এমন তিনটি বড় ল্যাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ নেই। প্রতিদিনই পরীক্ষা চালাতে তাদের নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ববিদ এবং আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পর্যাপ্ত রোগী শনাক্তকরণ না হলে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটবে। তাতে রোগের বিস্তার হওয়া স্বাভাবিক। তাই পরীক্ষার সব সরঞ্জামের সরবরাহ অব্যাহত থাকতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করা দরকার। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধের অজুহাতে ক্রয় প্রক্রিয়া যেন বিলম্বিত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক যুগান্তরকে বলেন, কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কোনো উপকরণের যেন সংকট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিপিএম এবং ওটিএম দুই পদ্ধতির অনুমতি দিয়েছি। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, বারবার বলা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক ব্যবহার করছে না। এমনকি কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই বাইরে যথেচ্ছ ঘোরাফেরা করছে। এভাবে চললে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই বাড়বে।

জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা পিসিআর কিট সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে লিখিতভাবে জানান। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়ার অনুরোধও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টেস্ট কিটের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে যে কোনো সময় টেস্টের বিপর্যয় ঘটবে।’

ডা. ফরিদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে যে বার্তা দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে অধিদফতর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে টেস্ট কিটের সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন সরকারিভাবে ১০ থেকে ১২ হাজার পরীক্ষা করা হয়। সব রুটে বিমান যাত্রা শুরু হওয়ায় পরীক্ষা সংখ্যা আরও বেড়েছে। এই সপ্তাহে কিট পাওয়া না গেলে অধিদফতরের সব মজুদ শেষ হয়ে যাবে।

এ সংক্রান্ত ২৪ পাতার বিস্তারিত চিঠির সারসংক্ষেপে বলা হয়, ৯ নভেম্বর পর্যন্ত কোভিড শনাক্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে মজুদ কিটের সংখ্যা ৫০ হাজার। এর মধ্যে সানসিউরের ১২ হাজার, বায়োনেয়ারের ৮ হাজার এবং মলজেনের ৩০ হাজার। কিন্তু মলজেন কোম্পানির কিটের সঙ্গে পূর্বপ্রতিশ্রুত অটো এক্সট্রাকশন মেশিন সরবরাহ না করায় এই কিটগুলো ল্যাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এক্সট্রাকশন ম্যানুয়ালি করতে হলে প্রচুর সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে সব ল্যাবেই সানসিউর কিটের চাহিদা বেশি। তাছাড়া সরকারিভাবে বিদেশগামী যাত্রীদের পরীক্ষা যে তিনটি ল্যাবে করা হয় সেখানেও সানসিউর কিট ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সব কার্যক্রমে সুরক্ষা সামগ্রী (পার্সনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) সিএমএসডি থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকা জরুরি। সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আরটি-পিসিআর ল্যাব এবং সার্বিক সেবা হুমকির মুখে পড়বে।

ডা. ফরিদ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে আরও জানান, গত আগস্ট মাসে মন্ত্রণালয় ডিপিএম (ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে কেনাকাট করার যে অনুমোদন দিয়েছিল সেটি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে ওটিম (ওপেন টেন্ডার মেথড) পদ্ধতির প্রস্তুতি নেয়া না হলে কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধে বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য। কিন্তু সিএমএসডি (সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোর ডিপো) ওটিএমের ব্যাপারে কোনো প্রস্তুতি বা অগ্রগতির বিষয়ে জানে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ২৭ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে আরটি-পিসিআর কিট, ল্যাব কনজিউমেবলস (পরীক্ষায় ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণ) এবং পিপিই কেনার অনুমতি দেয়া হয়। পরে ২৯ আগস্ট অধিদফতরের সব ডাইরেক্টর ও লাইন ডাইরেক্টরদের নিয়ে এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর সিএমএসডিকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহারে জন্য ১৮ লাখ টেস্ট কিট ও অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী কিনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়।

এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর সিএমএসডি দেড় লাখ পিসিআর কিট সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অতিদ্রুত এ কিট শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯ অক্টোবর পুনরায় জরুরি ভিত্তিতে দেড় লাখ কিটের চাহিদা সিএমএসডিতে দেয়া হয়। এছাড়া পিসিআর কিট ও ল্যাব কনজিউমেবল আইটেম ছাড়াও পিপিই এবং অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদাপত্র দেয়া হয়। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো কিট পাওয়া না গেলে অধিদফতর থেকে পুনরায় তাগিদ দেয়া হয়।

তারপর সিএমএসডিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সিএমএসডির মৌখিক নির্দেশে তিনটি কোম্পানি ৫ নভেম্বর ৫৩ হাজার কিট অধিদফতরে পাঠায়। এর মধ্যে সায়েন্স হাউস ও সায়েন্স টেক যথাক্রমে ১৮ হাজার ও ৫ হাজার সানসিউর কিট এবং তমা কন্সট্রাকশনের ৩০ হাজার মলজেন কিট রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা রোববার নিজ কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেন, এই বিষয়টি সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা দেখছেন।

অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, গতকালও ৪৫ হাজার কিট এসেছে। অধিদফতরে কিটের পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলেও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো সরবরাহ রয়েছে।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ

শুরুতেই কিট সংকট

উপকরণের যেন সংকট সৃষ্টি না হয় সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী * পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলেও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি -অতিরিক্ত মহাপরিচালক * দুর্নীতি বন্ধের অজুহাতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব নয় -ড. মোশতাক
 রাশেদ রাব্বি 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতেই কিট ও সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহৃত আরটি-পিসিআর কিট, ল্যাব কনজিউমেবলস এবং পিপিই’র মজুদ প্রায় শেষ। বর্তমানে মজুদ কিটের একটি বড় অংশই ব্যবহার উপযোগী নয়।

বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রাপ্ত কিট দিয়েই চলছে রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা। কিট কেনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। বাধাগ্রস্ত হতে পারে দ্বিতীয় সংক্রমণ মোকাবেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কেনাকাটার সব দায়িত্ব সিএমএসডির। কিন্তু তারা যথাসময়ে মালামাল সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে বিভিন্ন দাতাদের দেয়া কিট দিয়েই ল্যাবগুলোর কাজ চালানো হচ্ছে। সরকারিভাবে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হয় এমন তিনটি বড় ল্যাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ নেই। প্রতিদিনই পরীক্ষা চালাতে তাদের নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ববিদ এবং আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পর্যাপ্ত রোগী শনাক্তকরণ না হলে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটবে। তাতে রোগের বিস্তার হওয়া স্বাভাবিক। তাই পরীক্ষার সব সরঞ্জামের সরবরাহ অব্যাহত থাকতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করা দরকার। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধের অজুহাতে ক্রয় প্রক্রিয়া যেন বিলম্বিত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক যুগান্তরকে বলেন, কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কোনো উপকরণের যেন সংকট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিপিএম এবং ওটিএম দুই পদ্ধতির অনুমতি দিয়েছি। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, বারবার বলা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক ব্যবহার করছে না। এমনকি কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই বাইরে যথেচ্ছ ঘোরাফেরা করছে। এভাবে চললে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই বাড়বে।

জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা পিসিআর কিট সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে লিখিতভাবে জানান। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়ার অনুরোধও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টেস্ট কিটের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে যে কোনো সময় টেস্টের বিপর্যয় ঘটবে।’

ডা. ফরিদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে যে বার্তা দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে অধিদফতর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে টেস্ট কিটের সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন সরকারিভাবে ১০ থেকে ১২ হাজার পরীক্ষা করা হয়। সব রুটে বিমান যাত্রা শুরু হওয়ায় পরীক্ষা সংখ্যা আরও বেড়েছে। এই সপ্তাহে কিট পাওয়া না গেলে অধিদফতরের সব মজুদ শেষ হয়ে যাবে।

এ সংক্রান্ত ২৪ পাতার বিস্তারিত চিঠির সারসংক্ষেপে বলা হয়, ৯ নভেম্বর পর্যন্ত কোভিড শনাক্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে মজুদ কিটের সংখ্যা ৫০ হাজার। এর মধ্যে সানসিউরের ১২ হাজার, বায়োনেয়ারের ৮ হাজার এবং মলজেনের ৩০ হাজার। কিন্তু মলজেন কোম্পানির কিটের সঙ্গে পূর্বপ্রতিশ্রুত অটো এক্সট্রাকশন মেশিন সরবরাহ না করায় এই কিটগুলো ল্যাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এক্সট্রাকশন ম্যানুয়ালি করতে হলে প্রচুর সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে সব ল্যাবেই সানসিউর কিটের চাহিদা বেশি। তাছাড়া সরকারিভাবে বিদেশগামী যাত্রীদের পরীক্ষা যে তিনটি ল্যাবে করা হয় সেখানেও সানসিউর কিট ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সব কার্যক্রমে সুরক্ষা সামগ্রী (পার্সনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) সিএমএসডি থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকা জরুরি। সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আরটি-পিসিআর ল্যাব এবং সার্বিক সেবা হুমকির মুখে পড়বে।

ডা. ফরিদ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে আরও জানান, গত আগস্ট মাসে মন্ত্রণালয় ডিপিএম (ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে কেনাকাট করার যে অনুমোদন দিয়েছিল সেটি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে ওটিম (ওপেন টেন্ডার মেথড) পদ্ধতির প্রস্তুতি নেয়া না হলে কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধে বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য। কিন্তু সিএমএসডি (সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোর ডিপো) ওটিএমের ব্যাপারে কোনো প্রস্তুতি বা অগ্রগতির বিষয়ে জানে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ২৭ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে আরটি-পিসিআর কিট, ল্যাব কনজিউমেবলস (পরীক্ষায় ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণ) এবং পিপিই কেনার অনুমতি দেয়া হয়। পরে ২৯ আগস্ট অধিদফতরের সব ডাইরেক্টর ও লাইন ডাইরেক্টরদের নিয়ে এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর সিএমএসডিকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহারে জন্য ১৮ লাখ টেস্ট কিট ও অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী কিনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়।

এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর সিএমএসডি দেড় লাখ পিসিআর কিট সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অতিদ্রুত এ কিট শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯ অক্টোবর পুনরায় জরুরি ভিত্তিতে দেড় লাখ কিটের চাহিদা সিএমএসডিতে দেয়া হয়। এছাড়া পিসিআর কিট ও ল্যাব কনজিউমেবল আইটেম ছাড়াও পিপিই এবং অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদাপত্র দেয়া হয়। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো কিট পাওয়া না গেলে অধিদফতর থেকে পুনরায় তাগিদ দেয়া হয়।

তারপর সিএমএসডিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সিএমএসডির মৌখিক নির্দেশে তিনটি কোম্পানি ৫ নভেম্বর ৫৩ হাজার কিট অধিদফতরে পাঠায়। এর মধ্যে সায়েন্স হাউস ও সায়েন্স টেক যথাক্রমে ১৮ হাজার ও ৫ হাজার সানসিউর কিট এবং তমা কন্সট্রাকশনের ৩০ হাজার মলজেন কিট রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা রোববার নিজ কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেন, এই বিষয়টি সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা দেখছেন।

অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, গতকালও ৪৫ হাজার কিট এসেছে। অধিদফতরে কিটের পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলেও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো সরবরাহ রয়েছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস