ভুয়া দাতা বৈধ করে মনিরের সম্পদ
jugantor
অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জালিয়াতি
ভুয়া দাতা বৈধ করে মনিরের সম্পদ
স্বার্থরক্ষায় মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে সখ্য, দেন দামি উপহার

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভুয়া দাতার মাধ্যমে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির তার অবৈধ সব সম্পদ বৈধ করেছেন। এ ধরনের সম্পদ প্রথমে ভুয়া দাতার নামে রেজিস্ট্রি করেন। এরপর তার কাছ থেকে নিজের, স্ত্রী ও মায়ের নামে দান হিসেবে লিখে নিতেন। তবে যেসব দাতার কাছ থেকে তিনি দান গ্রহণ করেছেন বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ বৈধ করেন।

এ বিষয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এর আগে অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় মনিরের বিরুদ্ধে এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তার অবৈধ সম্পদ রক্ষায় সব সময় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং একজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্লট দখল করেন।

সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ওই প্রতিমন্ত্রীকে তিনি তিন কোটি টাকা মূল্যের গাড়িও উপহার দেন। শুধু প্রতিমন্ত্রী নন, সরকারের প্রভাবশালী অনেককেই তিনি দামি উপহার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রক্ষা করতেই তিনি এই কৌশল নেন। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মনির জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) যে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন তাতে অডিট আপত্তি আছে। এতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে আয় করেছেন তা বিবরণীতে দেখাননি। দুই প্রতিষ্ঠানের আয় এবং মূলধন কিছুই নথিতে উল্লেখ করেননি। এখন একে একে সব বেরিয়ে আসছে। গত শনিবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রোববার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, মনিরের অপকর্ম এবং অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব। এনবিআর এবং বিআরটিএ এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে। গোল্ডেন মনিরের কারণে ভুক্তভোগী হয়েছেন এমন কেউ যদি আইনি সহায়তা চায় তবে এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তারা তথ্য পায় ভুয়া দাতায় অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করছে মনির। এরপরই তারা তদন্তে নামে। এতে বেরিয়ে আসে ভুয়া দাতার কাছ থেকে দান গ্রহণ করছেন। তিনি নিজের নামে, স্ত্রী রওশন আক্তার এবং তার মা আয়েশা আক্তারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান গ্রহণ দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন।

জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর গণপূর্তে বেপরোয়া হয়ে ওঠে মনির : গণপূর্তের প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে মনির। দখলবাজি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারি নিতে গণপূর্তের বিভিন্ন দফতরে নিজের পছন্দের কর্মকর্তাদের বসাতে শুরু করেন তদবির। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ পদ মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রদীপ কুমার বসুকে বসান তিনি। পরে এদের কাছ থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও রক্ষায় প্রভাবশালীদের পরিচয় দেন মনির : ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবাসন খাতের ওপর প্রভাব রয়েছে এমন এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। তখনই রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। শুরু করেন নথি চুরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্লট দখল। ওই সময় তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ছেলে পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন দফতরে প্রভাব বিস্তার করতেন।

২০০৯ সালে সরকার পরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করে। ওই সময় তিনি ভোল পাল্টে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। বর্তমান একজন প্রতিমন্ত্রীকে তিনি তিন কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়িও উপহার দিয়েছেন। মনিরের বাসা এবং গাড়ির শোরুম থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গাড়ির মধ্যে একটির মালিক শেরপুর অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য। তার সঙ্গে মনিরের সখ্য রয়েছে। আরও একটি গাড়ির মালিক কুড়িগ্রাম এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য।

রাজউক ও গণপূর্তের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা : রাজউক এবং গণপূর্তের অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা-কর্মচারী গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সংস্থাটির সাবেক সদস্য (এস্টেট) আমজাদ হোসেন, মো. আজহারুল হক, আবদুল হাই ও বর্তমান সদস্য মো. মনির হোসেন খানের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। সাবেক এক পূর্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) সঙ্গে গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠতা হয়। সাবেক একজন রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গেও ছিল তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

তার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন মনির। সাবেক পরিচালক মো. আবু মূসা, আক্তারুজ্জামান, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, চেয়ারম্যানের সাবেক পিএ তরিকুল ইসলাম, পিএ মামুন, সহকারী পরিচালক সামসুল হক মিল্কী, শ্রমিক নেতা আবদুল মালেক, নান্না ও স্কাইয়ের সঙ্গেও রয়েছে মনিরের ঘনিষ্ঠতা আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজউকের অফিস সহকারী হারুন, টাইপিস্ট রফিক ও স্টোর কিপার তুহিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কাজ করাতেন মনির। এভাবে তিনি রাজউকের বিভিন্ন ২০০ প্লট দখল করেছেন।

ছয় প্রতিষ্ঠানের হিসাবে গরমিল : গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গোল্ডেন গিয়ার, মনির ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, মনির বিল্ডার্স, গালফ অটো কারস লিমিটেড, গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার লিমিটেড এবং স্বদেশ প্রপার্টির পরিচালক হিসেবে মনির দায়িত্ব পালন করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু স্বদেশ প্রপার্টিজ থেকে তিনি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সম্মানী হিসেবে আয়ের তথ্য প্রদর্শন করেছেন ২৪ লাখ টাকা।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তিনি কোনো সম্মানী নেয়ার তথ্য বিবরণীতে দেননি। গৃহসম্পত্তির আয় থেকে তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। কিন্তু এর সমর্থনে ভাড়াটিয়ার চুক্তিপত্র কিংবা ব্যাংকে ভাড়া গ্রহণের কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি।

অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জালিয়াতি

ভুয়া দাতা বৈধ করে মনিরের সম্পদ

স্বার্থরক্ষায় মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে সখ্য, দেন দামি উপহার
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভুয়া দাতার মাধ্যমে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির তার অবৈধ সব সম্পদ বৈধ করেছেন। এ ধরনের সম্পদ প্রথমে ভুয়া দাতার নামে রেজিস্ট্রি করেন। এরপর তার কাছ থেকে নিজের, স্ত্রী ও মায়ের নামে দান হিসেবে লিখে নিতেন। তবে যেসব দাতার কাছ থেকে তিনি দান গ্রহণ করেছেন বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ বৈধ করেন।

এ বিষয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এর আগে অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় মনিরের বিরুদ্ধে এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তার অবৈধ সম্পদ রক্ষায় সব সময় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং একজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্লট দখল করেন।

সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ওই প্রতিমন্ত্রীকে তিনি তিন কোটি টাকা মূল্যের গাড়িও উপহার দেন। শুধু প্রতিমন্ত্রী নন, সরকারের প্রভাবশালী অনেককেই তিনি দামি উপহার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রক্ষা করতেই তিনি এই কৌশল নেন। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মনির জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) যে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন তাতে অডিট আপত্তি আছে। এতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে আয় করেছেন তা বিবরণীতে দেখাননি। দুই প্রতিষ্ঠানের আয় এবং মূলধন কিছুই নথিতে উল্লেখ করেননি। এখন একে একে সব বেরিয়ে আসছে। গত শনিবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রোববার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, মনিরের অপকর্ম এবং অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব। এনবিআর এবং বিআরটিএ এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে। গোল্ডেন মনিরের কারণে ভুক্তভোগী হয়েছেন এমন কেউ যদি আইনি সহায়তা চায় তবে এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তারা তথ্য পায় ভুয়া দাতায় অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করছে মনির। এরপরই তারা তদন্তে নামে। এতে বেরিয়ে আসে ভুয়া দাতার কাছ থেকে দান গ্রহণ করছেন। তিনি নিজের নামে, স্ত্রী রওশন আক্তার এবং তার মা আয়েশা আক্তারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান গ্রহণ দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন।

জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর গণপূর্তে বেপরোয়া হয়ে ওঠে মনির : গণপূর্তের প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে মনির। দখলবাজি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারি নিতে গণপূর্তের বিভিন্ন দফতরে নিজের পছন্দের কর্মকর্তাদের বসাতে শুরু করেন তদবির। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ পদ মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রদীপ কুমার বসুকে বসান তিনি। পরে এদের কাছ থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও রক্ষায় প্রভাবশালীদের পরিচয় দেন মনির : ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবাসন খাতের ওপর প্রভাব রয়েছে এমন এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। তখনই রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। শুরু করেন নথি চুরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্লট দখল। ওই সময় তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ছেলে পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন দফতরে প্রভাব বিস্তার করতেন।

২০০৯ সালে সরকার পরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করে। ওই সময় তিনি ভোল পাল্টে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। বর্তমান একজন প্রতিমন্ত্রীকে তিনি তিন কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়িও উপহার দিয়েছেন। মনিরের বাসা এবং গাড়ির শোরুম থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গাড়ির মধ্যে একটির মালিক শেরপুর অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য। তার সঙ্গে মনিরের সখ্য রয়েছে। আরও একটি গাড়ির মালিক কুড়িগ্রাম এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য।

রাজউক ও গণপূর্তের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা : রাজউক এবং গণপূর্তের অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা-কর্মচারী গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সংস্থাটির সাবেক সদস্য (এস্টেট) আমজাদ হোসেন, মো. আজহারুল হক, আবদুল হাই ও বর্তমান সদস্য মো. মনির হোসেন খানের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। সাবেক এক পূর্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) সঙ্গে গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠতা হয়। সাবেক একজন রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গেও ছিল তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

তার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন মনির। সাবেক পরিচালক মো. আবু মূসা, আক্তারুজ্জামান, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, চেয়ারম্যানের সাবেক পিএ তরিকুল ইসলাম, পিএ মামুন, সহকারী পরিচালক সামসুল হক মিল্কী, শ্রমিক নেতা আবদুল মালেক, নান্না ও স্কাইয়ের সঙ্গেও রয়েছে মনিরের ঘনিষ্ঠতা আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজউকের অফিস সহকারী হারুন, টাইপিস্ট রফিক ও স্টোর কিপার তুহিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কাজ করাতেন মনির। এভাবে তিনি রাজউকের বিভিন্ন ২০০ প্লট দখল করেছেন।

ছয় প্রতিষ্ঠানের হিসাবে গরমিল : গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গোল্ডেন গিয়ার, মনির ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, মনির বিল্ডার্স, গালফ অটো কারস লিমিটেড, গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার লিমিটেড এবং স্বদেশ প্রপার্টির পরিচালক হিসেবে মনির দায়িত্ব পালন করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু স্বদেশ প্রপার্টিজ থেকে তিনি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সম্মানী হিসেবে আয়ের তথ্য প্রদর্শন করেছেন ২৪ লাখ টাকা।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তিনি কোনো সম্মানী নেয়ার তথ্য বিবরণীতে দেননি। গৃহসম্পত্তির আয় থেকে তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। কিন্তু এর সমর্থনে ভাড়াটিয়ার চুক্তিপত্র কিংবা ব্যাংকে ভাড়া গ্রহণের কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ‘গোল্ডেন মনির’ গ্রেফতার