মাস্ক না পরলে ‘কঠিন সাজা’
jugantor
মাস্ক না পরলে ‘কঠিন সাজা’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাধিকবার নির্দেশনার পরও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে যারা মাস্ক পরছেন না, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ‘কঠিন সাজা’ দেয়া হবে বলে হুশিয়ার করেছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাস্কের বিষয়টি (মন্ত্রিসভা বৈঠকে) খুব স্ট্রংলি এসেছে।

গতকাল (রোববার) কমিশনাররা জানিয়েছেন, তারা ম্যাসিভলি ফাইন করছেন। কাল সারা দেশে কয়েক হাজার লোককে ফাইন করা হয়েছে।

আমরা বলেছি, আরও এক সপ্তাহ দেখতে। ফাইনেও যদি কাজ না হয়, তাহলে মোটিভেশন কর, তারপর আরেকটু স্ট্রং পানিশমেন্টে যেতে হবে।

মাস্ক না পরলে কী ধরনের ‘কঠিন’ সাজা দেয়া হতে পারে, সেই প্রশ্নে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ফাইন বাড়িয়ে দিতে পারে। হয়তো এক হাজার টাকা, ৫শ’ টাকা ফাইন হচ্ছে, সেটাকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিল। আমরা আরেকটু স্ট্রং ব্যবস্থায় যেতে বলেছি।

তিনি আরও বলেন, মাস্ক না পরার কারণে যারা ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে জরিমানা বা সাজার মুখে পড়বেন, তাদের হাতে মাস্ক তুলে দেয়া হবে। যারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন, তারা সঙ্গে মাস্ক নিয়ে যাবেন, যাতে মানুষকে জরিমানা করার পর সেগুলো দিয়ে দেয়া যায়।

রোববার কমিশনার সভায় ধর্ম সচিব এবং শিক্ষা সচিব যুক্ত ছিলেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ম্যাসিভ প্রচার করতে।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাসার বাইরে সব জায়গায় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে সরকার। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে প্রতিদিনই মানুষ মারা গেলেও নানা অজুহাতে এখনও অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু দিন ধরে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।

সবার মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে খুলনা ও চট্টগ্রাম ‘স্ট্রং অ্যাকশনে যাচ্ছে’ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রোববার ঢাকার ৩৭টি জায়গায় মোবাইল কোর্ট চালানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজও বলেছেন, যেভাবেই হোক মানুষকে আরও বেশি বেশি করে প্রচার কর, ফোর্স কর, যেভাবেই হোক মানুষ যেন মাস্ক ইউজ করে। মাস্ক ইউজ না করলে ভ্যাকসিন বলেন, ওষুধ বলেন-কোনো কিছুতেই কাজ হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা বিভাগে করোনাভাইরাস বেশি ছড়ালেও রাজধানীর বাইরে ততটা ছড়াচ্ছে না।

অনেক জায়গায় কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হচ্ছে না বলে সংক্রমণের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটা জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সব জায়গায় তো পিসিআর মেশিন নেই। মেডিকেল কলেজে ১৫ দিন আগে যেখানে ৩০০ রোগী ছিল, গতকাল ৬০০ হয়ে গেছে।

অর্থ পাচারে জড়িতদের বিষয়ে কাজ চলছে : সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দেশের বাইরে অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য তদন্ত সংস্থা কাজ করছে।

হাইকোর্ট রোববার দেশের বাইরে অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও পাচার করা অর্থে তাদের বিদেশে বাড়ি তৈরিসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিবাদীদের ১৭ ডিসেম্বের মধ্যে ওই সব তথ্য জানাতে বলেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত রুলসহ এই আদেশ দেয়।

এর আগে ১৮ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, রাজনীতিবিদরা নন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গোপনে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, সেটিতে আমি অবাক হয়েছি।

সরকারি কর্মচারীদের বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা থাকে। আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন ৪ জন।

মাস্ক না পরলে ‘কঠিন সাজা’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাধিকবার নির্দেশনার পরও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে যারা মাস্ক পরছেন না, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ‘কঠিন সাজা’ দেয়া হবে বলে হুশিয়ার করেছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাস্কের বিষয়টি (মন্ত্রিসভা বৈঠকে) খুব স্ট্রংলি এসেছে।

গতকাল (রোববার) কমিশনাররা জানিয়েছেন, তারা ম্যাসিভলি ফাইন করছেন। কাল সারা দেশে কয়েক হাজার লোককে ফাইন করা হয়েছে।

আমরা বলেছি, আরও এক সপ্তাহ দেখতে। ফাইনেও যদি কাজ না হয়, তাহলে মোটিভেশন কর, তারপর আরেকটু স্ট্রং পানিশমেন্টে যেতে হবে।

মাস্ক না পরলে কী ধরনের ‘কঠিন’ সাজা দেয়া হতে পারে, সেই প্রশ্নে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ফাইন বাড়িয়ে দিতে পারে। হয়তো এক হাজার টাকা, ৫শ’ টাকা ফাইন হচ্ছে, সেটাকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিল। আমরা আরেকটু স্ট্রং ব্যবস্থায় যেতে বলেছি।

তিনি আরও বলেন, মাস্ক না পরার কারণে যারা ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে জরিমানা বা সাজার মুখে পড়বেন, তাদের হাতে মাস্ক তুলে দেয়া হবে। যারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন, তারা সঙ্গে মাস্ক নিয়ে যাবেন, যাতে মানুষকে জরিমানা করার পর সেগুলো দিয়ে দেয়া যায়।

রোববার কমিশনার সভায় ধর্ম সচিব এবং শিক্ষা সচিব যুক্ত ছিলেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ম্যাসিভ প্রচার করতে।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাসার বাইরে সব জায়গায় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে সরকার। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে প্রতিদিনই মানুষ মারা গেলেও নানা অজুহাতে এখনও অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু দিন ধরে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।

সবার মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে খুলনা ও চট্টগ্রাম ‘স্ট্রং অ্যাকশনে যাচ্ছে’ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রোববার ঢাকার ৩৭টি জায়গায় মোবাইল কোর্ট চালানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজও বলেছেন, যেভাবেই হোক মানুষকে আরও বেশি বেশি করে প্রচার কর, ফোর্স কর, যেভাবেই হোক মানুষ যেন মাস্ক ইউজ করে। মাস্ক ইউজ না করলে ভ্যাকসিন বলেন, ওষুধ বলেন-কোনো কিছুতেই কাজ হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা বিভাগে করোনাভাইরাস বেশি ছড়ালেও রাজধানীর বাইরে ততটা ছড়াচ্ছে না।

অনেক জায়গায় কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হচ্ছে না বলে সংক্রমণের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটা জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সব জায়গায় তো পিসিআর মেশিন নেই। মেডিকেল কলেজে ১৫ দিন আগে যেখানে ৩০০ রোগী ছিল, গতকাল ৬০০ হয়ে গেছে।

অর্থ পাচারে জড়িতদের বিষয়ে কাজ চলছে : সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দেশের বাইরে অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। 

হাইকোর্ট রোববার দেশের বাইরে অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও পাচার করা অর্থে তাদের বিদেশে বাড়ি তৈরিসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিবাদীদের ১৭ ডিসেম্বের মধ্যে ওই সব তথ্য জানাতে বলেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত রুলসহ এই আদেশ দেয়।

এর আগে ১৮ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, রাজনীতিবিদরা নন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গোপনে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, সেটিতে আমি অবাক হয়েছি।

সরকারি কর্মচারীদের বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা থাকে। আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন ৪ জন।