ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন হচ্ছে
jugantor
অবরুদ্ধ-বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন হচ্ছে
জব্দ সম্পত্তির তালিকায় উল্লেখযোগ্য-ক্যাসিনো সম্রাট, জি কে শামীম, এমপি পাপুল, ডেসটিনি, ইউনিপেটু, ক্যাসিনো সেলিম, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো ও ওসি প্রদীপ

  মিজান চৌধুরী  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানি লন্ডারিং মামলায় অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে গঠন হচ্ছে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে এ কর্তৃপক্ষ করা হবে। এ ব্যাপারে আইনগত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আর এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে এসব সম্পত্তি দেখাশোনা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

আরও জানা গেছে, সরকারের উল্লিখিত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানরা। সেখানে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশনাল অফিস অন ড্রাগ অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) একটি গাইডলাইন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (বিএফআইইউ) দেয়া ওই গাইডলাইন অনুযায়ী এসব সম্পত্তি দেখাশোনা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব সম্পত্তি দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইউএনওডিসি ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপদেষ্টা দেব প্রসাদ দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি আছে যারা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত। দু’ভাবে এ কাজটি করা হচ্ছে। প্রথম নিজস্বভাবে (সরকারি), আর দ্বিতীয় হচ্ছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে। তবে দেশে এ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হলে বিভিন্ন সংস্থা থেকে হিসাব এনে এর তথ্য সংরক্ষণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বিগত সভায় উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এটি অবরুদ্ধ সম্পত্তির যাবতীয় কার্যক্রম দেখভাল করবে।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ দেশে অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত স্থাবর-অস্থাবর মিলে মোট কত টাকার সম্পত্তি আছে-এর সঠিক হিসাব কোনো সংস্থার কাছে নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথকভাবে এর হিসাব রাখছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে।

সেখানে অনেক প্রভাবশালীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ক্যাসিনো সম্রাট, অনলাইন ক্যাসিনো সেলিম, এমপি পাপুল, ওসি প্রদীপ, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো ও ডেসটিনির রফিকুল আমিন। বিশেষ করে মানি লন্ডারিংসহ নানা অপরাধে ডেসটিনির স্থাবর-অস্থাবর মিলে ৭শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ আছে। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে এ কোম্পানি ১৮৬৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ক্যাসিনো সম্রাটের ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতে বন্দি লক্ষ্মীপুরের এমপি মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা, মেয়েসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে এরইমধ্যে পাপুলের নামে-বেনামে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে। এটি জব্দ করার প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের সব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তার অর্ধশত ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা টেকনাফের আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টোর দুটি দোতলা বাড়িসহ প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ আছে। মানি লন্ডারিং মামলায় এ সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বরখাস্ত ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়। এদিকে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা নিশানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এটি জব্দ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে।

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় স্থায়ী আমানত ৩৩৬ কোটি টাকার ওপর আদালতের স্থিতাদেশ রয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় দুটি বাড়িসহ তার ৫১ দশমিক ৮৩ কাঠা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এগুলোর দলিলমূল্য ৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা এশীয় প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) তথ্যমতে, বাংলাদেশে অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লেনদেন হয়েছে-এমন সন্দেহে ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়েছে ১৪৩০টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট)। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) জব্দ করেছে ১৩৭৫টি।

বাকি ৫৫টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়। এসব হিসাবে পাওয়া গেছে নগদ প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। গত ছয় বছরে (২০১০-১৫) এই হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। এ ধরনের অনেক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করা হলেও এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আছে।

অবরুদ্ধ-বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন হচ্ছে

জব্দ সম্পত্তির তালিকায় উল্লেখযোগ্য-ক্যাসিনো সম্রাট, জি কে শামীম, এমপি পাপুল, ডেসটিনি, ইউনিপেটু, ক্যাসিনো সেলিম, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো ও ওসি প্রদীপ
 মিজান চৌধুরী 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানি লন্ডারিং মামলায় অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে গঠন হচ্ছে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে এ কর্তৃপক্ষ করা হবে। এ ব্যাপারে আইনগত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আর এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে এসব সম্পত্তি দেখাশোনা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

আরও জানা গেছে, সরকারের উল্লিখিত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানরা। সেখানে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশনাল অফিস অন ড্রাগ অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) একটি গাইডলাইন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (বিএফআইইউ) দেয়া ওই গাইডলাইন অনুযায়ী এসব সম্পত্তি দেখাশোনা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব সম্পত্তি দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইউএনওডিসি ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপদেষ্টা দেব প্রসাদ দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি আছে যারা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত। দু’ভাবে এ কাজটি করা হচ্ছে। প্রথম নিজস্বভাবে (সরকারি), আর দ্বিতীয় হচ্ছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে। তবে দেশে এ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হলে বিভিন্ন সংস্থা থেকে হিসাব এনে এর তথ্য সংরক্ষণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বিগত সভায় উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এটি অবরুদ্ধ সম্পত্তির যাবতীয় কার্যক্রম দেখভাল করবে।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ দেশে অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত স্থাবর-অস্থাবর মিলে মোট কত টাকার সম্পত্তি আছে-এর সঠিক হিসাব কোনো সংস্থার কাছে নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথকভাবে এর হিসাব রাখছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে।

সেখানে অনেক প্রভাবশালীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ক্যাসিনো সম্রাট, অনলাইন ক্যাসিনো সেলিম, এমপি পাপুল, ওসি প্রদীপ, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো ও ডেসটিনির রফিকুল আমিন। বিশেষ করে মানি লন্ডারিংসহ নানা অপরাধে ডেসটিনির স্থাবর-অস্থাবর মিলে ৭শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ আছে। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে এ কোম্পানি ১৮৬৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ক্যাসিনো সম্রাটের ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতে বন্দি লক্ষ্মীপুরের এমপি মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা, মেয়েসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে এরইমধ্যে পাপুলের নামে-বেনামে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে। এটি জব্দ করার প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের সব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তার অর্ধশত ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা টেকনাফের আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টোর দুটি দোতলা বাড়িসহ প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ আছে। মানি লন্ডারিং মামলায় এ সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বরখাস্ত ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়। এদিকে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা নিশানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এটি জব্দ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে।

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় স্থায়ী আমানত ৩৩৬ কোটি টাকার ওপর আদালতের স্থিতাদেশ রয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় দুটি বাড়িসহ তার ৫১ দশমিক ৮৩ কাঠা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এগুলোর দলিলমূল্য ৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা এশীয় প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) তথ্যমতে, বাংলাদেশে অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লেনদেন হয়েছে-এমন সন্দেহে ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়েছে ১৪৩০টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট)। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) জব্দ করেছে ১৩৭৫টি।

বাকি ৫৫টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়। এসব হিসাবে পাওয়া গেছে নগদ প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। গত ছয় বছরে (২০১০-১৫) এই হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। এ ধরনের অনেক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করা হলেও এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আছে।