হোয়াইট হাউস ছাড়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
jugantor
হোয়াইট হাউস ছাড়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আভাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন। তবে এ লড়াই থামতে এখনও বহু দেরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প পরাজয় অস্বীকার করে আসছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়। সেখানে বাইডেন ৩০৬টি ভোট, অপরদিকে ট্রাম্প ২৩২টি ভোট পেয়েছেন। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না হলে ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে বাইডেনের।

আগামী মাসে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটাররা একত্রিত হবেন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে হেরে গেলে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, নিশ্চয়ই ছেড়ে দেব, আর আপনারা সেটা জানেনও। এরপর তিনি বলেন, বাইডেনকে নির্বাচিত করলে তারা (ইলেকটোরাল) একটা ভুল করবেন। তিনি আরও বলেন, পরাজয় মেনে নেয়া খুবই কঠিন। কারণ আমরা জানি নির্বাচনে প্রবল জালিয়াতি হয়েছে। বাইডেনকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন কিনা তা অবশ্য তিনি জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত এক প্রেসিডেন্ট থেকে অন্য প্রেসিডেন্টে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে আসছে। কিন্তু পরাজয় স্বীকারে ট্রাম্পের অস্বীকৃতির কারণে তা নিয়ে এবার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের ফল জালিয়াতি হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প-শিবির বেশ কয়েকটি রাজ্যে মামলা করে। তবে প্রমাণের অভাবে অধিকাংশ মামলাই খারিজ হয়ে গেছে। বারবার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এদিকে, জো বাইডেন বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আন্তরিক সাড়া পাওয়া গেছে। এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের রুষ্ট আচরণ দেখেননি এবং তা দেখতেও চান না। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি আশা করেন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, এটি ধীরগতির সূচনা। তবে কাজ তো হচ্ছে। আরও ২ মাস বাকি আছে। কাজের গতির ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

হোয়াইট হাউসে প্রথম ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা : একের পর এক ইতিহাসের জন্ম দিয়ে চলেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এবার তিনি আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা হিসেবে প্রথমবারের মতো একজন ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রিমা দোদি হোয়াইট হাউসের আইন প্রণয়নবিষয়ক উপ-পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন।

রিমা দোদিকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে বাইডেন বলেন, আমাদের প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন জনগণ কাজ শুরু করার অপেক্ষায় আছে। ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত নারী দোদিকে নিয়োগের মাধ্যমে সব নাগরিকের প্রতি আমাদের সমান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রিমা দোদি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করার পর ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। ইলিয়নের সিনেটর ডিক দুরবিনের সহকারী হিসেবে তিনি ১৪ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের হেবরন শহরের দুরা এলাকায় তার জন্ম।

হোয়াইট হাউস ছাড়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আভাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন। তবে এ লড়াই থামতে এখনও বহু দেরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প পরাজয় অস্বীকার করে আসছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়। সেখানে বাইডেন ৩০৬টি ভোট, অপরদিকে ট্রাম্প ২৩২টি ভোট পেয়েছেন। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না হলে ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে বাইডেনের।

আগামী মাসে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটাররা একত্রিত হবেন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে হেরে গেলে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, নিশ্চয়ই ছেড়ে দেব, আর আপনারা সেটা জানেনও। এরপর তিনি বলেন, বাইডেনকে নির্বাচিত করলে তারা (ইলেকটোরাল) একটা ভুল করবেন। তিনি আরও বলেন, পরাজয় মেনে নেয়া খুবই কঠিন। কারণ আমরা জানি নির্বাচনে প্রবল জালিয়াতি হয়েছে। বাইডেনকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন কিনা তা অবশ্য তিনি জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত এক প্রেসিডেন্ট থেকে অন্য প্রেসিডেন্টে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে আসছে। কিন্তু পরাজয় স্বীকারে ট্রাম্পের অস্বীকৃতির কারণে তা নিয়ে এবার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের ফল জালিয়াতি হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প-শিবির বেশ কয়েকটি রাজ্যে মামলা করে। তবে প্রমাণের অভাবে অধিকাংশ মামলাই খারিজ হয়ে গেছে। বারবার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এদিকে, জো বাইডেন বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আন্তরিক সাড়া পাওয়া গেছে। এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের রুষ্ট আচরণ দেখেননি এবং তা দেখতেও চান না। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি আশা করেন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, এটি ধীরগতির সূচনা। তবে কাজ তো হচ্ছে। আরও ২ মাস বাকি আছে। কাজের গতির ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

হোয়াইট হাউসে প্রথম ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা : একের পর এক ইতিহাসের জন্ম দিয়ে চলেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এবার তিনি আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা হিসেবে প্রথমবারের মতো একজন ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রিমা দোদি হোয়াইট হাউসের আইন প্রণয়নবিষয়ক উপ-পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন।

রিমা দোদিকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে বাইডেন বলেন, আমাদের প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন জনগণ কাজ শুরু করার অপেক্ষায় আছে। ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত নারী দোদিকে নিয়োগের মাধ্যমে সব নাগরিকের প্রতি আমাদের সমান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রিমা দোদি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করার পর ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। ইলিয়নের সিনেটর ডিক দুরবিনের সহকারী হিসেবে তিনি ১৪ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের হেবরন শহরের দুরা এলাকায় তার জন্ম।