শেয়ারবাজারে বেসামাল এশিয়া ইন্স্যুরেন্স
jugantor
১৬ টাকার শেয়ার সাড়ে চার মাসে ১১৬ টাকা
শেয়ারবাজারে বেসামাল এশিয়া ইন্স্যুরেন্স

  মনির হোসেন  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দামে বেসামাল অবস্থা। যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ১৬ টাকার শেয়ার সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে ১১৬ টাকায় উঠেছে। প্রায় ৮ গুণ দাম বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) নীরব। অস্বাভাবিক দাম বাড়লেও কোম্পানিটির ব্যাপারে সংস্থাটির দৃশ্যমান কোনো তৎপরতাও নেই। বিশ্লেষকরা বলেন, শেয়ারটির দাম কেন বাড়ছে এবং কারা কিনছেন, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যুগান্তরের অনুসন্ধানে শেয়ারটির দাম বৃদ্ধির পেছনে ডিআইটি কো-অপারেশন এবং ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারটির দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অস্বাভাবিক। কেন দাম বাড়ছে এবং কারা কিনছেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, কারা এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন, তার তথ্য সিডিবিএলের কাছে রয়েছে। এক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোম্পানির উদ্যোক্তাদের কী ভূমিকা রয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেউ এখানে জড়িত আছে কি না, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএলের তথ্য অনুসারে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী সংঘবদ্ধভাবে শেয়ারটির দাম বাড়ায়। তিন মাসে তারা অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারটির লেনদেন করেছে। ৩ আগস্ট থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছে ডিআইটি কো-অপারেশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শেয়ার কিনেছে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং বিক্রি করেছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এক্ষেত্রে কোম্পানির নিজ নামে ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছে। বিও অ্যাকাউন্ট ভিন্ন; কিন্তু একই ইমেইল দিয়ে কাজী সাদিয়া হাসান নামে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। এছাড়া জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ৭ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। তিনি নিজ নামে দুটি বিও অ্যাকাউন্টে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। একইভাবে তার প্রতিষ্ঠান শিক্ষিত বেকার কেন্দ্রীয় সংঘ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। এছাড়াও সাউথ ইস্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েটস থেকে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সাউথ ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করা হয়েছে। এছাড়া আলোচ্য সময়ে স্বনামধন্য একজন ক্রিকেট তারকাও তার নিজ অ্যাকাউন্টে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন।

ডিএসইর তথ্য অনুসারে মাত্র ৪৭ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল ১৬ টাকা। বর্তমানে তা ১১৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আয় ১ টাকা ৬৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ পয়সা। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানির আয় ২ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা।

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম শাহীন যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারের দাম কেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, সেটি আমরা বলতে পারব না। তবে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো। তিনি বলেন, দুটি কারণে আমাদের আয় বেড়েছে। প্রথমত, বীমায় কমিশনের হার কমিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দ্বিতীয়ত, সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজার থেকে আমাদের আয় বেড়েছে। এছাড়া আমাদের উদ্যোক্তাদের ভাবমূর্তি ভালো। তবে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন করেছেন। এর সঙ্গে উদ্যোক্তারা দায়ী নন। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ইউসূফ আবদুল্লাহ হারুন এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম। পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন আবুল বাশার চৌধুরী, আলমগীর কবির, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, খালেদা বেগম, ফারজানা আফরোজ, মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার, এম কামাল হোসেন, তারিক সুজাত ও মোহাম্মদ আলী খোকন। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে রয়েছেন জাকির আহমেদ খান ও ড. জায়েদী সাত্তার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম শাহীন।

১৬ টাকার শেয়ার সাড়ে চার মাসে ১১৬ টাকা

শেয়ারবাজারে বেসামাল এশিয়া ইন্স্যুরেন্স

 মনির হোসেন 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দামে বেসামাল অবস্থা। যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ১৬ টাকার শেয়ার সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে ১১৬ টাকায় উঠেছে। প্রায় ৮ গুণ দাম বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) নীরব। অস্বাভাবিক দাম বাড়লেও কোম্পানিটির ব্যাপারে সংস্থাটির দৃশ্যমান কোনো তৎপরতাও নেই। বিশ্লেষকরা বলেন, শেয়ারটির দাম কেন বাড়ছে এবং কারা কিনছেন, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যুগান্তরের অনুসন্ধানে শেয়ারটির দাম বৃদ্ধির পেছনে ডিআইটি কো-অপারেশন এবং ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারটির দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অস্বাভাবিক। কেন দাম বাড়ছে এবং কারা কিনছেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, কারা এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন, তার তথ্য সিডিবিএলের কাছে রয়েছে। এক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোম্পানির উদ্যোক্তাদের কী ভূমিকা রয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেউ এখানে জড়িত আছে কি না, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএলের তথ্য অনুসারে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী সংঘবদ্ধভাবে শেয়ারটির দাম বাড়ায়। তিন মাসে তারা অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারটির লেনদেন করেছে। ৩ আগস্ট থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছে ডিআইটি কো-অপারেশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শেয়ার কিনেছে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং বিক্রি করেছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এক্ষেত্রে কোম্পানির নিজ নামে ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছে। বিও অ্যাকাউন্ট ভিন্ন; কিন্তু একই ইমেইল দিয়ে কাজী সাদিয়া হাসান নামে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। এছাড়া জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ৭ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। তিনি নিজ নামে দুটি বিও অ্যাকাউন্টে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। একইভাবে তার প্রতিষ্ঠান শিক্ষিত বেকার কেন্দ্রীয় সংঘ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন। এছাড়াও সাউথ ইস্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েটস থেকে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সাউথ ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করা হয়েছে। এছাড়া আলোচ্য সময়ে স্বনামধন্য একজন ক্রিকেট তারকাও তার নিজ অ্যাকাউন্টে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার লেনদেন করেছেন।

ডিএসইর তথ্য অনুসারে মাত্র ৪৭ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল ১৬ টাকা। বর্তমানে তা ১১৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আয় ১ টাকা ৬৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ পয়সা। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানির আয় ২ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা।

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম শাহীন যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারের দাম কেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, সেটি আমরা বলতে পারব না। তবে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো। তিনি বলেন, দুটি কারণে আমাদের আয় বেড়েছে। প্রথমত, বীমায় কমিশনের হার কমিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দ্বিতীয়ত, সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজার থেকে আমাদের আয় বেড়েছে। এছাড়া আমাদের উদ্যোক্তাদের ভাবমূর্তি ভালো। তবে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন করেছেন। এর সঙ্গে উদ্যোক্তারা দায়ী নন। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ইউসূফ আবদুল্লাহ হারুন এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম। পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন আবুল বাশার চৌধুরী, আলমগীর কবির, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, খালেদা বেগম, ফারজানা আফরোজ, মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার, এম কামাল হোসেন, তারিক সুজাত ও মোহাম্মদ আলী খোকন। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে রয়েছেন জাকির আহমেদ খান ও ড. জায়েদী সাত্তার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম শাহীন।