যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে জরিমানা মওকুফ
jugantor
রিটার্ন জমার সময় বাড়ছে না
যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে জরিমানা মওকুফ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ছে না। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে করদাতা সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে বিলম্বে রিটার্ন জমা দেয়ার জরিমানা আদায় করা হবে না।’

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম একথা বলেন। এ সময় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রিটার্ন দাখিলের জন্য কমিশনারের কাছে সময় চাইলে কমিশনার সময় দেবেন। আর জরিমানাটা বাধ্যতামূলক নয়, এটা কমিশনারের ওপর নির্ভর করবে। তবে করদাতারা রিটার্ন দাখিলের সঠিক যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে কমিশনার জরিমানা নিতেও পারেন, আবার মওকুফ করতেও পারেন। আর জরিমানার বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে আয়কর মেলা হয়নি। সেজন্য প্রতিটি কর অঞ্চলে এবং সার্কেলে মেলার আবহ তৈরি করা হয়েছে। সার্কেল এবং জোন থেকে আয়কর মেলার সেবা দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে করদাতাদের তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মেলার চেয়ে কম সময়ে করদাতারা সেবা পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আয়কর রিটার্ন আরও কিভাবে সহজ করা যায়, সে বিষয়ে এনবিআর কাজ করছে। এ বছর থেকে এক পাতার রিটার্ন চালু করা হয়েছে, যাতে করদাতা সহজে রিটার্ন দিতে পারেন।’

৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে করদাতারা চাইলে নির্ধারিত ফরমে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারেন। আয়কর আইন অনুযায়ী উপ-কর কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য ২ মাস সময় দিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ২ শতাংশ বিলম্ব সুদ দিতে হবে। বর্ধিত ২ মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে আরও ২ মাস সময় চেয়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ বছর যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে সুদ আদায় করবে না এনবিআর। তবে আবেদন যৌক্তিক মনে না হলে সুদসহ কর জমা দিতে হবে।

এ বছর রিটার্ন জমার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার ৮২৫টি। আগের বছরের একই সময়ে জমা পড়েছিল ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৬টি। সে হিসাবে রিটার্ন বেড়েছে ৬৩ হাজার ১৯৯টি। অবশ্য রিটার্ন জমা বাড়লেও কমেছে আয়কর আদায়। এ বছর রিটার্নের সঙ্গে কর আদায় হয়েছে ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। গত বছর আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সে হিসাবে কর পরিশোধ কমেছে ১৯৩ কোটি টাকা।

২০১৬ সালের বাজেটে অর্থ বিলের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে পরিবর্তন এনে ৩০ নভেম্বরকে জাতীয় আয়কর দিবস ঘোষণা করা হয় এবং এরপর রিটার্ন জমা না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগে ৩০ সেপ্টেম্বর রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল।

রিটার্ন জমার সময় বাড়ছে না

যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে জরিমানা মওকুফ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ছে না। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে করদাতা সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে বিলম্বে রিটার্ন জমা দেয়ার জরিমানা আদায় করা হবে না।’

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম একথা বলেন। এ সময় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রিটার্ন দাখিলের জন্য কমিশনারের কাছে সময় চাইলে কমিশনার সময় দেবেন। আর জরিমানাটা বাধ্যতামূলক নয়, এটা কমিশনারের ওপর নির্ভর করবে। তবে করদাতারা রিটার্ন দাখিলের সঠিক যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে কমিশনার জরিমানা নিতেও পারেন, আবার মওকুফ করতেও পারেন। আর জরিমানার বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে আয়কর মেলা হয়নি। সেজন্য প্রতিটি কর অঞ্চলে এবং সার্কেলে মেলার আবহ তৈরি করা হয়েছে। সার্কেল এবং জোন থেকে আয়কর মেলার সেবা দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে করদাতাদের তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মেলার চেয়ে কম সময়ে করদাতারা সেবা পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আয়কর রিটার্ন আরও কিভাবে সহজ করা যায়, সে বিষয়ে এনবিআর কাজ করছে। এ বছর থেকে এক পাতার রিটার্ন চালু করা হয়েছে, যাতে করদাতা সহজে রিটার্ন দিতে পারেন।’

৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে করদাতারা চাইলে নির্ধারিত ফরমে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারেন। আয়কর আইন অনুযায়ী উপ-কর কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য ২ মাস সময় দিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ২ শতাংশ বিলম্ব সুদ দিতে হবে। বর্ধিত ২ মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে আরও ২ মাস সময় চেয়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ বছর যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে সুদ আদায় করবে না এনবিআর। তবে আবেদন যৌক্তিক মনে না হলে সুদসহ কর জমা দিতে হবে।

এ বছর রিটার্ন জমার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার ৮২৫টি। আগের বছরের একই সময়ে জমা পড়েছিল ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৬টি। সে হিসাবে রিটার্ন বেড়েছে ৬৩ হাজার ১৯৯টি। অবশ্য রিটার্ন জমা বাড়লেও কমেছে আয়কর আদায়। এ বছর রিটার্নের সঙ্গে কর আদায় হয়েছে ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। গত বছর আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সে হিসাবে কর পরিশোধ কমেছে ১৯৩ কোটি টাকা।

২০১৬ সালের বাজেটে অর্থ বিলের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে পরিবর্তন এনে ৩০ নভেম্বরকে জাতীয় আয়কর দিবস ঘোষণা করা হয় এবং এরপর রিটার্ন জমা না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগে ৩০ সেপ্টেম্বর রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল।