ফাইজারের টিকার প্রথম অনুমোদন যুক্তরাজ্যে
jugantor
আগামী সপ্তাহে প্রয়োগ শুরু
ফাইজারের টিকার প্রথম অনুমোদন যুক্তরাজ্যে
বিভিন্ন দেশে কয়েক কোটি ডোজ টিকা পাঠাবে চীন * বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ৬ কোটি ৪৩ লাখ ছাড়াল

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইজার ও বায়োএনটেকের করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বিশ্বে যুক্তরাজ্যই প্রথম এ টিকার অনুমোদন দিল। করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই এ টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।

বিশেষ করে যেসব দেশে তাদের পাঁচটি টিকার পরীক্ষা চলছে, সেসব দেশে কয়েক মাসের মধ্যে এসব টিকা সরবরাহ করা হবে। এদিকে বিশ্বে গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও পৌনে ৬ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে মোট রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৪৩ লাখ ছাড়িয়েছে। খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

গত মাসে ফাইজার ও বায়োএনটেক জানায়, তাদের টিকাটি করোনা থেকে ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম। সেই সঙ্গে এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) বলছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাটি নিরাপদ। এ কারণে তারা অনুমোদন দিয়েছে।

এমএইচআরএ’র প্রধান নির্বাহী সাইমন স্টিভেন্স জানিয়েছেন, তারা এখন তাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেয়ার হোমের বাসিন্দা ও স্টাফ, ৮০ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষ, অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কর্মীসহ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রত্যেককে ২১ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও সবাইকে এখনও সতর্ক থাকতে হবে এবং করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রুখতে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা এবং উপসর্গ দেখা দিলে শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মতো নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

সাধারণত টিকা উদ্ভাবনের পর পরীক্ষা করতেই লেগে যায় বছরের পর বছর। সেখানে মাত্র ১০ মাসেই এ সাফল্য পেয়েছে ফাইজারের টিকাটি। এর ৪ কোটি ডোজের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছিল যুক্তরাজ্য, যা তারা দুই কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে দিতে পারবে। চলতি বছরই তারা এক কোটি ডোজ পাবে বলে আশা করছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্য টিকার প্রয়োগ শুরু করবে।

এক পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের ভ্যাকসিনটি ৯৪ শতাংশ কার্যকর। এই পরীক্ষায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৪১ হাজার মানুষকে। তাদের অর্ধেকের মধ্যে এ ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয় আর বাকি অর্ধেককে দেয়া হয় ‘ছায়া ভ্যাকসিন’।

জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সহকারী অধ্যাপক অ্যান্ড্র– পিটারসন বলেছেন, ফাইজারের টিকা পরিবহনে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। টিকাটি পরিবহন ও মজুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রাখতে হবে।

ফাইজার ছাড়াও ইতোমধ্যে আরেক মার্কিন কোম্পানি মডার্না জানিয়েছে, তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার উদ্ভাবিত স্পুটনিক নামে ভ্যাকসিনটিও ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে, দাম কত : ফাইজারের এ টিকাকে নতুন ধরনের এমআরএনএ জাতীয় টিকা, বলেছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, ভাইরাসের জেনেটিক কোড থেকে ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম এই ভ্যাকসিন। ফাইজার ও বায়োএনটেকের এ টিকার প্রতি ডোজের জন্য ১০ ডলার বা ৮৫০ টাকা খরচ করতে হবে। করোনায় আক্রান্তদের এর দুটি ডোজ নিতে হবে।

চীন কোটি কোটি টিকা সরবরাহ করবে : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডোজ করোনার টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। বর্তমানে দেশটিতে চারটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি টিকা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে সিনোভ্যাক বায়োটেকের টিকা। দেশের অভ্যন্তরে টিকার সফলতার পর চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের ১৬টি দেশে তা পরীক্ষা চালাচ্ছে।

এসব দেশে কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েক কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করবে চীন। চীনের রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, তাদের টিকা পরীক্ষা সফল হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে টিকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া টিকা পরীক্ষা করা দেশগুলোকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের উৎস নিয়ে ভাবমূর্তির সংকটে পড়া চীন টিকা কূটনীতি দিয়ে তা পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং বলেন, টিকা চীনের বৈদেশিক নীতির বিশেষ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রভাব সৃষ্টিকারী বিদেশনীতির একটি সরঞ্জামও হতে পারে তাদের টিকা। করোনা মহামারীর শুরুর দিকে মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল দেশটি।

বিশ্ব পরিস্থিতি : বাংলাদেশ সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার ৭২৩ জন। মারা গেছেন ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬০১ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ১ লাখ ৬ হাজার ৩১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৩ জন। একই সময়ে বিশ্বে ১১ হাজার ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪১ লাখ ৮ হাজার ৬৩৭। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০১ জন। ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৫। সেখানে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৯ জন। ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা ৬৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৫। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৩ জন।

চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫৪ জন। দেশটিতে মারা গেছেন ৪১ হাজার ৫৩ জন। পঞ্চম স্থানে ফ্রান্সে করোনা রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৩ জন। দেশটিতে মারা গেছেন ৫৩ হাজার ৫২৫ জন।

আগামী সপ্তাহে প্রয়োগ শুরু

ফাইজারের টিকার প্রথম অনুমোদন যুক্তরাজ্যে

বিভিন্ন দেশে কয়েক কোটি ডোজ টিকা পাঠাবে চীন * বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ৬ কোটি ৪৩ লাখ ছাড়াল
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইজার ও বায়োএনটেকের করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বিশ্বে যুক্তরাজ্যই প্রথম এ টিকার অনুমোদন দিল। করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই এ টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।

বিশেষ করে যেসব দেশে তাদের পাঁচটি টিকার পরীক্ষা চলছে, সেসব দেশে কয়েক মাসের মধ্যে এসব টিকা সরবরাহ করা হবে। এদিকে বিশ্বে গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও পৌনে ৬ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে মোট রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৪৩ লাখ ছাড়িয়েছে। খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

গত মাসে ফাইজার ও বায়োএনটেক জানায়, তাদের টিকাটি করোনা থেকে ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম। সেই সঙ্গে এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) বলছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাটি নিরাপদ। এ কারণে তারা অনুমোদন দিয়েছে।

এমএইচআরএ’র প্রধান নির্বাহী সাইমন স্টিভেন্স জানিয়েছেন, তারা এখন তাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেয়ার হোমের বাসিন্দা ও স্টাফ, ৮০ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষ, অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কর্মীসহ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রত্যেককে ২১ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও সবাইকে এখনও সতর্ক থাকতে হবে এবং করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রুখতে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা এবং উপসর্গ দেখা দিলে শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মতো নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

সাধারণত টিকা উদ্ভাবনের পর পরীক্ষা করতেই লেগে যায় বছরের পর বছর। সেখানে মাত্র ১০ মাসেই এ সাফল্য পেয়েছে ফাইজারের টিকাটি। এর ৪ কোটি ডোজের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছিল যুক্তরাজ্য, যা তারা দুই কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে দিতে পারবে। চলতি বছরই তারা এক কোটি ডোজ পাবে বলে আশা করছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্য টিকার প্রয়োগ শুরু করবে।

এক পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের ভ্যাকসিনটি ৯৪ শতাংশ কার্যকর। এই পরীক্ষায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৪১ হাজার মানুষকে। তাদের অর্ধেকের মধ্যে এ ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয় আর বাকি অর্ধেককে দেয়া হয় ‘ছায়া ভ্যাকসিন’।

জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সহকারী অধ্যাপক অ্যান্ড্র– পিটারসন বলেছেন, ফাইজারের টিকা পরিবহনে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। টিকাটি পরিবহন ও মজুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রাখতে হবে।

ফাইজার ছাড়াও ইতোমধ্যে আরেক মার্কিন কোম্পানি মডার্না জানিয়েছে, তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার উদ্ভাবিত স্পুটনিক নামে ভ্যাকসিনটিও ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে, দাম কত : ফাইজারের এ টিকাকে নতুন ধরনের এমআরএনএ জাতীয় টিকা, বলেছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, ভাইরাসের জেনেটিক কোড থেকে ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম এই ভ্যাকসিন। ফাইজার ও বায়োএনটেকের এ টিকার প্রতি ডোজের জন্য ১০ ডলার বা ৮৫০ টাকা খরচ করতে হবে। করোনায় আক্রান্তদের এর দুটি ডোজ নিতে হবে।

চীন কোটি কোটি টিকা সরবরাহ করবে : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডোজ করোনার টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। বর্তমানে দেশটিতে চারটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি টিকা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে সিনোভ্যাক বায়োটেকের টিকা। দেশের অভ্যন্তরে টিকার সফলতার পর চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের ১৬টি দেশে তা পরীক্ষা চালাচ্ছে।

এসব দেশে কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েক কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করবে চীন। চীনের রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, তাদের টিকা পরীক্ষা সফল হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে টিকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া টিকা পরীক্ষা করা দেশগুলোকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের উৎস নিয়ে ভাবমূর্তির সংকটে পড়া চীন টিকা কূটনীতি দিয়ে তা পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং বলেন, টিকা চীনের বৈদেশিক নীতির বিশেষ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রভাব সৃষ্টিকারী বিদেশনীতির একটি সরঞ্জামও হতে পারে তাদের টিকা। করোনা মহামারীর শুরুর দিকে মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল দেশটি।

বিশ্ব পরিস্থিতি : বাংলাদেশ সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার ৭২৩ জন। মারা গেছেন ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬০১ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ১ লাখ ৬ হাজার ৩১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৩ জন। একই সময়ে বিশ্বে ১১ হাজার ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪১ লাখ ৮ হাজার ৬৩৭। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০১ জন। ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৫। সেখানে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৯ জন। ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা ৬৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৫। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৩ জন।

চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫৪ জন। দেশটিতে মারা গেছেন ৪১ হাজার ৫৩ জন। পঞ্চম স্থানে ফ্রান্সে করোনা রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৩ জন। দেশটিতে মারা গেছেন ৫৩ হাজার ৫২৫ জন।