দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান সিফাত ও শিপ্রা
jugantor
সিনহা হত্যা মামলা
দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান সিফাত ও শিপ্রা

  মাহমুদুল হাসান নয়ন  

১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেবনাথ। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত রায়ের পরই জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই দুই শিক্ষার্থী মেজর সিনহার ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রডাকশন টিমে কাজ করতেন। কক্সবাজার আদালতে সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ারের দায়েরকৃত মামলায় র‌্যাবের চার্জশিট দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা যুগান্তরের কাছে এসব কথা বলেন।

সাহেদুল ইসলাম সিফাত বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত যা হচ্ছে তাতে আমি মামলার অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি। তদন্ত চলছে, শাস্তিটা হচ্ছে আসল। এটাই মূল চাওয়া-পাওয়ার জায়গা। তবে তদন্ত ভালোই দেখলাম। কিন্তু পুরোপুরি শাস্তি হওয়ার পর বলা যাবে আসলে তা কতটুকু সন্তোষজনক। অপরাধীদের শাস্তি হওয়ার পরই মূল সন্তুষ্টির জায়গাটি তৈরি হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তারা যেটা করেছে, সেটা খুবই জঘন্য কাজ। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ যে শাস্তি আছে সেটাই আমরা চাই।

চার্জশিটে থাকা ১৫ আসামি ও কক্সবাজারের তৎকালীন এসপি মাসুদ হোসেনের বিষয়ে সিফাত বলেন, যাদের নাম এসেছে তাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে ঘটনায় জড়িত ছিল। এটা নিয়ে আসলে সেভাবে বলতেও চাই না। তবে তদন্ত রিপোর্টে যা আছে ঠিকই আছে। তদন্ত যারা করেছেন তারা এ বিষয়ে আরও ভালো জানবেন। ওসি প্রদীপের বিষয়ে তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ অবশ্যই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে।

থানায় ওসি প্রদীপের ইন্টারভিউ আনতে যাওয়ার বিষয়ে সিফাত বলেন, ইন্টারভিউ আনতে গিয়েছি বিষয়টি আসলে তেমন নয়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমি আর শিপ্রা ছিলাম গাড়িতে, সে থানায় ঢুকেছিল। তখন ওসি প্রদীপ হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটি আমরা লাইটলি (হালকাভাবে) নিয়েছিলাম। সেভাবে ‘সিরিয়াসলি’ নেইনি। তাই এ বিষয়ে পরে আর বিস্তারিত কথাও বলিনি।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই কেবল জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

সিনহা মো. রাশেদ খানের আরেক সহযোগী শিপ্রা রানী দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে কমেন্ট (মন্তব্য) করার মতো কোনো শক্তি নেই। আমি শুধু চাই জড়িতদের শাস্তি। বিচার প্রক্রিয়া যেহেতু শুরু হয়েছে যতদিন পর্যন্ত বিচারটা না হবে ততদিন পর্যন্ত শান্তি নেই। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। কেবল তো চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা তো অনেক দীর্ঘমেয়াদি। একদম শেষ পর্যন্ত আমি এটার সঙ্গে থাকতে চাই। একদম শেষটা দেখতে চাই। তার আগে আসলে আমি এ বিষয়ে বলতেও চাই না।

শিপ্রা আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা দোষী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিটাই আমি চাই। চাই না নির্দোষ কারও শাস্তি হোক। এটা যেন নতুন করে আবার ওই ‘ওপেন সিক্রেট’ না হয়ে যায়। আছে না, আমাদের দেশে অনেক বড় বড় কেসে এমন নজির আছে তো অনেক। আমি চাই না এটাও ওপেন সিক্রেট কিছু হয়ে যায় এবং বিচারবহির্ভূতভাবে আমরা বেঁচে থাকি।’

গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ফাঁড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এই ঘটনার পর মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ ও রামু থানায় তিনটি মামলা করে। ওই তিন মামলায় সিনহা মো. রাশেদ এবং ডকুমেন্টারি নির্মাণে তার দুই সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

তবে পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ র‌্যাব। তাই ওই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে র‌্যাব আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। রোববার ১৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়া মামলাটি করা হয়েছিল কক্সবাজার আদালতে। এটি করেন সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার।

চার্জশিটে কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে উঠে এসেছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশ।

ইয়াবা বাণিজ্যসহ টেকনাফে তার অপরাধের অভয়ারণ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে হুমকি মনে করায় পরিকল্পিতভাবে সিনহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চার্জশিটে কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ হোসেন অত্যন্ত উদাসীন ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সিনহা হত্যা মামলা

দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান সিফাত ও শিপ্রা

 মাহমুদুল হাসান নয়ন 
১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেবনাথ। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত রায়ের পরই জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই দুই শিক্ষার্থী মেজর সিনহার ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রডাকশন টিমে কাজ করতেন। কক্সবাজার আদালতে সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ারের দায়েরকৃত মামলায় র‌্যাবের চার্জশিট দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা যুগান্তরের কাছে এসব কথা বলেন।

সাহেদুল ইসলাম সিফাত বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত যা হচ্ছে তাতে আমি মামলার অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি। তদন্ত চলছে, শাস্তিটা হচ্ছে আসল। এটাই মূল চাওয়া-পাওয়ার জায়গা। তবে তদন্ত ভালোই দেখলাম। কিন্তু পুরোপুরি শাস্তি হওয়ার পর বলা যাবে আসলে তা কতটুকু সন্তোষজনক। অপরাধীদের শাস্তি হওয়ার পরই মূল সন্তুষ্টির জায়গাটি তৈরি হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তারা যেটা করেছে, সেটা খুবই জঘন্য কাজ। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ যে শাস্তি আছে সেটাই আমরা চাই।

চার্জশিটে থাকা ১৫ আসামি ও কক্সবাজারের তৎকালীন এসপি মাসুদ হোসেনের বিষয়ে সিফাত বলেন, যাদের নাম এসেছে তাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে ঘটনায় জড়িত ছিল। এটা নিয়ে আসলে সেভাবে বলতেও চাই না। তবে তদন্ত রিপোর্টে যা আছে ঠিকই আছে। তদন্ত যারা করেছেন তারা এ বিষয়ে আরও ভালো জানবেন। ওসি প্রদীপের বিষয়ে তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ অবশ্যই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে।

থানায় ওসি প্রদীপের ইন্টারভিউ আনতে যাওয়ার বিষয়ে সিফাত বলেন, ইন্টারভিউ আনতে গিয়েছি বিষয়টি আসলে তেমন নয়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমি আর শিপ্রা ছিলাম গাড়িতে, সে থানায় ঢুকেছিল। তখন ওসি প্রদীপ হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটি আমরা লাইটলি (হালকাভাবে) নিয়েছিলাম। সেভাবে ‘সিরিয়াসলি’ নেইনি। তাই এ বিষয়ে পরে আর বিস্তারিত কথাও বলিনি।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই কেবল জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

সিনহা মো. রাশেদ খানের আরেক সহযোগী শিপ্রা রানী দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে কমেন্ট (মন্তব্য) করার মতো কোনো শক্তি নেই। আমি শুধু চাই জড়িতদের শাস্তি। বিচার প্রক্রিয়া যেহেতু শুরু হয়েছে যতদিন পর্যন্ত বিচারটা না হবে ততদিন পর্যন্ত শান্তি নেই। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। কেবল তো চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা তো অনেক দীর্ঘমেয়াদি। একদম শেষ পর্যন্ত আমি এটার সঙ্গে থাকতে চাই। একদম শেষটা দেখতে চাই। তার আগে আসলে আমি এ বিষয়ে বলতেও চাই না।

শিপ্রা আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা দোষী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিটাই আমি চাই। চাই না নির্দোষ কারও শাস্তি হোক। এটা যেন নতুন করে আবার ওই ‘ওপেন সিক্রেট’ না হয়ে যায়। আছে না, আমাদের দেশে অনেক বড় বড় কেসে এমন নজির আছে তো অনেক। আমি চাই না এটাও ওপেন সিক্রেট কিছু হয়ে যায় এবং বিচারবহির্ভূতভাবে আমরা বেঁচে থাকি।’

গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ফাঁড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এই ঘটনার পর মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ ও রামু থানায় তিনটি মামলা করে। ওই তিন মামলায় সিনহা মো. রাশেদ এবং ডকুমেন্টারি নির্মাণে তার দুই সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

তবে পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ র‌্যাব। তাই ওই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে র‌্যাব আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। রোববার ১৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়া মামলাটি করা হয়েছিল কক্সবাজার আদালতে। এটি করেন সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার।

চার্জশিটে কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে উঠে এসেছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশ।

ইয়াবা বাণিজ্যসহ টেকনাফে তার অপরাধের অভয়ারণ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে হুমকি মনে করায় পরিকল্পিতভাবে সিনহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চার্জশিটে কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ হোসেন অত্যন্ত উদাসীন ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মেজর সিনহার মৃত্যু