ধরলার বুকে শুধু চর আর চর
jugantor
ধরলার বুকে শুধু চর আর চর

  আব্দুল আজিজ মজনু, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)  

০৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধরলা

এক সময়কার খরস্রোত ধরলা নদী এখন মৃতপ্রায়। এ নদীতে ১২-১৩ বছর আগে পানিপ্রবাহের যে স্পন্দন ছিল, তা এখন আর নেই। শুধু বালুচর আর চর। ধরলার বুক দিয়ে মানুষজন হেঁটে পার হয়। অনেক স্থান এখন আবাদি জমি। ধরলা শুধুই এখন কালের সাক্ষী। এর তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর জমি ইরি-বোরো আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কারণ সেচ পাম্পগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি উঠানো যাচ্ছে না।

নদীতে নাব্য না থাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ডিঙি চলাচল করতে পারছে না। যে পরিবারগুলো একসময় মাছ শিকার করে জীবিকা চালাত, পেশা হারিয়ে তারা দিনমজুর। চরগুলোয় বসবাসকারী মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নদীর এই অবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে পরিবেশ-প্রতিবেশ।

ধরলা পার ঘুরে দেখা যায়, তীরবর্তী স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। আর এর মাধ্যমে একটি মহল হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পারে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি এখন হুমকির মুখে।

শিমুলবাড়ী চরের সুধীর চন্দ্র রায় ও বাদল এবং চর-গোরক মণ্ডপের সাহাদ ও সাইদুল জানান, ধরলা যে একটি নদী, তা শুধু বর্ষা মৌসুমে বোঝা যায়। আর বর্ষা শেষ হলে শুধু চর আর চর।

নদীর পারের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময়ে ব্যাবসার কাজে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জের লোকজন বড় বড় নৌকা নিয়ে এই এলাকায় আসত। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় তারা এখন আসেন না। ধরলায় এখন নৌকা চলে না। শরিয়তুল্ল্যাহ, খোকা মাঝি জানান, ধরলা এখন মরা। এখানে কোনো মাছ নেই। সারা দিন জাল ফেলে ২০-৩০ টাকার মাছ পাওয়া যায় না। তাই জেলে পরিবারগুলো বড় কষ্টে আছে। কুটিচন্দ্রখানা, গোরকমন্ডল ও বড়ভিটা জেলেপাড়া গ্রামের প্রায় ২শ’ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩০/৪০টি পরিবার তাদের বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছে। যারা পেশা ছেড়েছেন তারা দেশের বিভিন্ন শহরে রিকশা চালান, কেউবা দোকানে, কেউ মাটি কাটার কাজ করেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার যুগান্তরকে বলেন, ধরলা নদী এখন আমাদের উন্নয়নের অন্তরায়। তলদেশ খনন এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে এ নদী আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরে পাবে। উপকৃত হবে দুই পারের লোকজন।

ধরলার বুকে শুধু চর আর চর

 আব্দুল আজিজ মজনু, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) 
০৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ধরলা
এক সময়ের প্রমত্তা ধরলা নদী এখন মৃতপ্রায়। পানি প্রবাহ না থাকায় নদীতে হচ্ছে ধানচাষ। ফুলবাড়ী শেখ হাসিনা সেতু থেকে বুধবার তোলা। ছবি-যুগান্তর

এক সময়কার খরস্রোত ধরলা নদী এখন মৃতপ্রায়। এ নদীতে ১২-১৩ বছর আগে পানিপ্রবাহের যে স্পন্দন ছিল, তা এখন আর নেই। শুধু বালুচর আর চর। ধরলার বুক দিয়ে মানুষজন হেঁটে পার হয়। অনেক স্থান এখন আবাদি জমি। ধরলা শুধুই এখন কালের সাক্ষী। এর তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর জমি ইরি-বোরো আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কারণ সেচ পাম্পগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি উঠানো যাচ্ছে না।

নদীতে নাব্য না থাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ডিঙি চলাচল করতে পারছে না। যে পরিবারগুলো একসময় মাছ শিকার করে জীবিকা চালাত, পেশা হারিয়ে তারা দিনমজুর। চরগুলোয় বসবাসকারী মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নদীর এই অবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে পরিবেশ-প্রতিবেশ।

ধরলা পার ঘুরে দেখা যায়, তীরবর্তী স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। আর এর মাধ্যমে একটি মহল হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পারে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি এখন হুমকির মুখে।

শিমুলবাড়ী চরের সুধীর চন্দ্র রায় ও বাদল এবং চর-গোরক মণ্ডপের সাহাদ ও সাইদুল জানান, ধরলা যে একটি নদী, তা শুধু বর্ষা মৌসুমে বোঝা যায়। আর বর্ষা শেষ হলে শুধু চর আর চর।

নদীর পারের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময়ে ব্যাবসার কাজে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জের লোকজন বড় বড় নৌকা নিয়ে এই এলাকায় আসত। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় তারা এখন আসেন না। ধরলায় এখন নৌকা চলে না। শরিয়তুল্ল্যাহ, খোকা মাঝি জানান, ধরলা এখন মরা। এখানে কোনো মাছ নেই। সারা দিন জাল ফেলে ২০-৩০ টাকার মাছ পাওয়া যায় না। তাই জেলে পরিবারগুলো বড় কষ্টে আছে। কুটিচন্দ্রখানা, গোরকমন্ডল ও বড়ভিটা জেলেপাড়া গ্রামের প্রায় ২শ’ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩০/৪০টি পরিবার তাদের বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছে। যারা পেশা ছেড়েছেন তারা দেশের বিভিন্ন শহরে রিকশা চালান, কেউবা দোকানে, কেউ মাটি কাটার কাজ করেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার যুগান্তরকে বলেন, ধরলা নদী এখন আমাদের উন্নয়নের অন্তরায়। তলদেশ খনন এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে এ নদী আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরে পাবে। উপকৃত হবে দুই পারের লোকজন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন