সাবেক ছয় এমডিসহ ২২ জনই কারাগারে
jugantor
বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা
সাবেক ছয় এমডিসহ ২২ জনই কারাগারে

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়লা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ছয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খনির ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৮ টন কয়লা লোপাটের অভিযোগে করা মামলায় বুধবার দিনাজপুর জেলার বিশেষ জজ মাহমুদুল করিম তাদের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলায় ২৩ জন আসামি হলেও সাবেক এক এমডি মারা যাওয়ায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিন মামলার নির্ধারিত তারিখে আসামিরা জেলার বিশেষ জজ মাহমুদুল করিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। কোর্ট ইনস্পেকটর মো. ইস্রাফিল জানান, তারা সবাই জামিনে ছিলেন। বুধবার মামলার শুনানির দিন থাকলেও তা হয়নি।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন : বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক এমডি আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক জিএম (প্রশাসন) শরিফুল আলম, আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের নুর-উজ-জামান চৌধুরী (মাইন অপারেশন বিভাগ), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান হাওলাদার, আরিফুর রহমান (ম্যানেজার, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার সৈয়দ ইমাম হাসান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম মো. মোর্শেদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম হাবিবুর রহমান, মাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিজিএম জাহেদুর রহমান, ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ডিজিএম সত্যেন্দ্রনাথ বর্মণ ও মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার শোয়েবুর রহমান, স্টোর ডিপার্টমেন্টের ডিজিএম একেএম খালেদুল ইসলাম, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার অশোক কুমার হালদার ও মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডিজিএম মো. জোবায়ের আলী।

দুদকের দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা গত বছর ২৪ জুলাই আশিকুর রহমানের আদালতে সাবেক সাত এমডিসহ ২৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত গত বছর ১৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র আমলে নেন। তাদের মধ্যে সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান মারা যাওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ২২ জন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯৯ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত। যার বাজারমূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

খনির কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদককে। দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলম তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র তৈরি করেন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া তদন্তে নতুন করে সাতজন সাবেক এমডিসহ নয়জনের নাম বেরিয়ে আসে। পরে অভিযোগপত্রে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা

সাবেক ছয় এমডিসহ ২২ জনই কারাগারে

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়লা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ছয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খনির ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৮ টন কয়লা লোপাটের অভিযোগে করা মামলায় বুধবার দিনাজপুর জেলার বিশেষ জজ মাহমুদুল করিম তাদের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলায় ২৩ জন আসামি হলেও সাবেক এক এমডি মারা যাওয়ায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিন মামলার নির্ধারিত তারিখে আসামিরা জেলার বিশেষ জজ মাহমুদুল করিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। কোর্ট ইনস্পেকটর মো. ইস্রাফিল জানান, তারা সবাই জামিনে ছিলেন। বুধবার মামলার শুনানির দিন থাকলেও তা হয়নি।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন : বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক এমডি আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক জিএম (প্রশাসন) শরিফুল আলম, আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের নুর-উজ-জামান চৌধুরী (মাইন অপারেশন বিভাগ), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান হাওলাদার, আরিফুর রহমান (ম্যানেজার, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার সৈয়দ ইমাম হাসান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম মো. মোর্শেদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম হাবিবুর রহমান, মাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিজিএম জাহেদুর রহমান, ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ডিজিএম সত্যেন্দ্রনাথ বর্মণ ও মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার শোয়েবুর রহমান, স্টোর ডিপার্টমেন্টের ডিজিএম একেএম খালেদুল ইসলাম, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার অশোক কুমার হালদার ও মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডিজিএম মো. জোবায়ের আলী।

দুদকের দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা গত বছর ২৪ জুলাই আশিকুর রহমানের আদালতে সাবেক সাত এমডিসহ ২৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত গত বছর ১৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র আমলে নেন। তাদের মধ্যে সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান মারা যাওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ২২ জন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯৯ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত। যার বাজারমূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

খনির কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদককে। দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলম তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র তৈরি করেন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া তদন্তে নতুন করে সাতজন সাবেক এমডিসহ নয়জনের নাম বেরিয়ে আসে। পরে অভিযোগপত্রে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।