ট্রাম্পকে সরানোর প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ
jugantor
ট্রাম্পকে সরানোর প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিপরিষদ ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করে প্রেসিডেন্টকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু মাইক পেন্স যে সে পথে হাঁটবেন না, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করতে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির চিঠির জবাবে পেন্স বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ তিনি নেবেন না। কারণ, এতে খারাপ নজির তৈরি হবে।

এরপরই স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ট্রাম্পকে অপসারণের প্রস্তাব পাশ করে ডেমোক্রেটিক নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। এই প্রস্তাব পাশের পর ট্রাম্পকে অভিশংসনের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুবার অভিশংসিত হতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এবার ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাদের প্রেসিডেন্টের অভিশংসন চান। যদিও দ্বিতীয় অভিশংসনের মুখে পড়ে ট্রাম্প বলেছেন, অভিশংসনচেষ্টা হাস্যকর। দ্য হিল, সিএনএন, রয়টার্স।

ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হাউজে পাশ হওয়া প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য জ্যামি রাসকিন। এতে পেন্সের প্রতি আহ্বান জানানো হয়: নিজের ক্ষমতা বলে অবিলম্বে ২৫তম সংশোধনীর ৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে উদ্যোগ নিয়ে প্রধান কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিন যে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে প্রস্তাবটিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও করা হয় পেন্সের প্রতি।

এর আগে ট্রাম্পকে সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পেলোসির চিঠির জবাবে পেন্স লেখেন, ‘প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাত্র ৮ দিন বাকি থাকতে আপনি ও আপনার ডেমোক্রেটিক ককাস দাবি করছেন যেন আমি ও মন্ত্রিপরিষদ ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করি। প্রেসিডেন্টকে অযোগ্য ঘোষণা করি। কিন্তু আমি মনে করি না, এমন উদ্যোগ আমাদের জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থরক্ষাকারী হবে এবং সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে।’

পেন্সের এমন জবাব পেয়ে আগে থেকে প্রস্তুত ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে সরানোর প্রস্তাবটি পাশ করে এবং স্থানীয় সময় বুধবার দ্বিতীয়বার ট্রাম্পকে অভিশংসন প্রস্তাব পাশের উদ্যোগ জোরেশোরে শুরু করে। ক্ষমতার একেবারে শেষ সময়ে এসে ট্রাম্পের এই পরিণতির কারণ ৬ জানুয়ারি পরবর্র্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয় সত্যায়নে ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানি দেওয়া।

ওই হামলায় ৫ জনের প্রাণহানির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ট্রাম্পের বিপরীতে চলে যায়। কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে দাঁড়ান। এদের সংখ্যা ১০ জনের বেশি হতে পারে। যে ৬০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ৬ জানুয়ারি বাইডেনের জয় সত্যায়নের পক্ষে ছিলেন তাদের মধ্য থেকে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত বছর প্রথম অভিশংসনেও কিছু রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিপক্ষে রায় দেন।’ অবশ্য দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হলেও ট্রাম্পকে সরে যেতে হবে না। কারণ, তার বিদায়ের আগে সিনেট অধিবেশন বসলেও তাতে বাইডেনের অভিষেক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা থাকবে।

এদিকে নিজের অভিশংসন প্রক্রিয়াকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইতিহাসের সমালোচিত অংশ হতে যাওয়া এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ক্যাপিটলে হামলার আগে দেওয়া তার বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক ছিল।’ ওই বক্তব্যে ভোট কারচুপির অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে বাইডেনের জয় সত্যায়ন থামিয়ে দেওয়ার জন্য সমর্থকদের উসকানি দেন ট্রাম্প। দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বাইডেনকে সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ঘোষণা : ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেনকে কমান্ডার ইন চিফ ঘোষণা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্যাপিটলে হামলায় কংগ্রেস, সংবিধান ও ৪৬তম কমান্ডার ইন চিফ জো বাইডেনের অবমাননা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনী বাইডেনকে তাদের পরবর্তী কমান্ডার ইন চিফ হিসাবে ঘোষণা দিল। বিবৃতিতে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি ও অন্য জেনারেলরা স্বাক্ষর করেন।

ক্যাপিটলে হামলাকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিদ্রোহ বললেন জেনারেলরা : ক্যাপিটলে হামলাকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিদ্রোহ বলে অভিযোগ এনেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা। সবচেয়ে শীর্ষ জেনারেলরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা দেখেছি ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে নানা কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এটি আইনের শাসনের সঙ্গে যায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার ও পার্লামেন্ট কাউকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার, দেশদ্রোহিতার ও বিদ্রোহের অনুমোদন দেয় না। অভাবনীয় এই বিবৃতি আসে পার্লামেন্ট ভবন ও রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ থেকে।

ট্রাম্পকে সরানোর প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিপরিষদ ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করে প্রেসিডেন্টকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু মাইক পেন্স যে সে পথে হাঁটবেন না, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করতে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির চিঠির জবাবে পেন্স বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ তিনি নেবেন না। কারণ, এতে খারাপ নজির তৈরি হবে।

এরপরই স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ট্রাম্পকে অপসারণের প্রস্তাব পাশ করে ডেমোক্রেটিক নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। এই প্রস্তাব পাশের পর ট্রাম্পকে অভিশংসনের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুবার অভিশংসিত হতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এবার ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাদের প্রেসিডেন্টের অভিশংসন চান। যদিও দ্বিতীয় অভিশংসনের মুখে পড়ে ট্রাম্প বলেছেন, অভিশংসনচেষ্টা হাস্যকর। দ্য হিল, সিএনএন, রয়টার্স।

ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হাউজে পাশ হওয়া প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য জ্যামি রাসকিন। এতে পেন্সের প্রতি আহ্বান জানানো হয়: নিজের ক্ষমতা বলে অবিলম্বে ২৫তম সংশোধনীর ৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে উদ্যোগ নিয়ে প্রধান কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিন যে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে প্রস্তাবটিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও করা হয় পেন্সের প্রতি।

এর আগে ট্রাম্পকে সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পেলোসির চিঠির জবাবে পেন্স লেখেন, ‘প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাত্র ৮ দিন বাকি থাকতে আপনি ও আপনার ডেমোক্রেটিক ককাস দাবি করছেন যেন আমি ও মন্ত্রিপরিষদ ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করি। প্রেসিডেন্টকে অযোগ্য ঘোষণা করি। কিন্তু আমি মনে করি না, এমন উদ্যোগ আমাদের জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থরক্ষাকারী হবে এবং সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে।’

পেন্সের এমন জবাব পেয়ে আগে থেকে প্রস্তুত ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে সরানোর প্রস্তাবটি পাশ করে এবং স্থানীয় সময় বুধবার দ্বিতীয়বার ট্রাম্পকে অভিশংসন প্রস্তাব পাশের উদ্যোগ জোরেশোরে শুরু করে। ক্ষমতার একেবারে শেষ সময়ে এসে ট্রাম্পের এই পরিণতির কারণ ৬ জানুয়ারি পরবর্র্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয় সত্যায়নে ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানি দেওয়া।

ওই হামলায় ৫ জনের প্রাণহানির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ট্রাম্পের বিপরীতে চলে যায়। কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে দাঁড়ান। এদের সংখ্যা ১০ জনের বেশি হতে পারে। যে ৬০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ৬ জানুয়ারি বাইডেনের জয় সত্যায়নের পক্ষে ছিলেন তাদের মধ্য থেকে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত বছর প্রথম অভিশংসনেও কিছু রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিপক্ষে রায় দেন।’ অবশ্য দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হলেও ট্রাম্পকে সরে যেতে হবে না। কারণ, তার বিদায়ের আগে সিনেট অধিবেশন বসলেও তাতে বাইডেনের অভিষেক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা থাকবে।

এদিকে নিজের অভিশংসন প্রক্রিয়াকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইতিহাসের সমালোচিত অংশ হতে যাওয়া এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ক্যাপিটলে হামলার আগে দেওয়া তার বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক ছিল।’ ওই বক্তব্যে ভোট কারচুপির অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে বাইডেনের জয় সত্যায়ন থামিয়ে দেওয়ার জন্য সমর্থকদের উসকানি দেন ট্রাম্প। দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বাইডেনকে সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ঘোষণা : ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেনকে কমান্ডার ইন চিফ ঘোষণা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্যাপিটলে হামলায় কংগ্রেস, সংবিধান ও ৪৬তম কমান্ডার ইন চিফ জো বাইডেনের অবমাননা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনী বাইডেনকে তাদের পরবর্তী কমান্ডার ইন চিফ হিসাবে ঘোষণা দিল। বিবৃতিতে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি ও অন্য জেনারেলরা স্বাক্ষর করেন।

ক্যাপিটলে হামলাকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিদ্রোহ বললেন জেনারেলরা : ক্যাপিটলে হামলাকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিদ্রোহ বলে অভিযোগ এনেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা। সবচেয়ে শীর্ষ জেনারেলরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা দেখেছি ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে নানা কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এটি আইনের শাসনের সঙ্গে যায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার ও পার্লামেন্ট কাউকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার, দেশদ্রোহিতার ও বিদ্রোহের অনুমোদন দেয় না। অভাবনীয় এই বিবৃতি আসে পার্লামেন্ট ভবন ও রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ থেকে।