পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা ৩ দিনের রিমান্ডে
jugantor
পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা ৩ দিনের রিমান্ডে
বান্ধবীর হিসাবে ১০ কোটি টাকা, দামি গাড়ি, ৫ কোটি টাকায় ধানমণ্ডিতে ফ্ল্যাট, ব্যবসায় পার্টনার * অন্য বান্ধবীদের খোঁজে দুদকের গোয়েন্দা টিম

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। বুধবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এর আগে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে সহযোগিতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিম।

বুধবার দুপুরে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পিকে হালদারের অন্য বান্ধবীদেরও খোঁজা হচ্ছে বলে জানায় দুদক সূত্র।

এদিকে বুধবার অবন্তিকা বড়ালকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার তার নিকটাত্মীয় অবন্তিকা বড়ালের নামে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে চার কোটি ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট (বাড়ি নং-৩৯, রোড নং-১০/এ) কিনে দেন। অবন্তিকা তার আয়কর নথিতে ওই মূল্য প্রদর্শন না করে গোপন করেছেন।

ফ্ল্যাটটিতে পিকে হালদার থাকতেন। অবন্তিকাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া যায়। আসামিরা গোপনে ফ্ল্যাটটি বিক্রির চেষ্টা করার তথ্য জানতে পেরে আদালতের আদেশ নিয়ে তা ক্রোক করা হয়।

অবন্তিকার আয়কর নথিসহ মামলার অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি পিকে হালদার তার অবৈধ অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মা সন্দেহভাজন আসামি লীলাবতি হালদারের নামে স্থানান্তর করেন।

আর লীলাবতি হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অবন্তিকাসহ অন্যদের নামে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেন।

এ ছাড়া পিকে হালদার নিজের প্রভাব খাটিয়ে অবন্তিকাকে রিলায়েন্স পিএনএল ইন্টারন্যাশনাল এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডে অবৈধভাবে চাকরি দিয়ে অবৈধ ব্যবসায় ও মানি লন্ডারিংয়ের কাজে যোগসাজশ করেন।

তদন্তে অবন্তিকার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলাসংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। দুদকের পক্ষে আদালতে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামির রিমান্ড শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনেরই রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ বছরের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। এর আগে ৫ জানুয়ারি পিকে হালদারের মা লীলাবতি হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২ ডিসেম্বর পিকে হালদারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ।

পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতেই পিকে হালদার বিদেশ পালিয়ে যান।

এরপর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় দুই দফায় পিকে হালদারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেন আদালত।

আর্থিক খাত থেকে আত্মীয়স্বজন চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার কারিগর পিকে হালদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিশিয়াল তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে।

এ ছাড়া দুদকের ক্যাসিনো দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট তালিকায় লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পিকে হালদারের নামও রয়েছে।

এদিকে বুধবারই অবন্তিকার ওই ফ্ল্যাটটি ক্রোক করার জন্য আদালতে আবেদন করেন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। দুদক সূত্র জানায়, অবন্তিকা কিছু অর্থ বিদেশেও পাচার করেন।

পিকে হালদারের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বিদেশেও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রশান্ত কুমার হালদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবন্তিকা বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারে জড়িয়ে পড়েন।

তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার ও আফনান জান্নাত কেয়া।

পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা ৩ দিনের রিমান্ডে

বান্ধবীর হিসাবে ১০ কোটি টাকা, দামি গাড়ি, ৫ কোটি টাকায় ধানমণ্ডিতে ফ্ল্যাট, ব্যবসায় পার্টনার * অন্য বান্ধবীদের খোঁজে দুদকের গোয়েন্দা টিম
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। বুধবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এর আগে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে সহযোগিতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিম।

বুধবার দুপুরে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পিকে হালদারের অন্য বান্ধবীদেরও খোঁজা হচ্ছে বলে জানায় দুদক সূত্র।

এদিকে বুধবার অবন্তিকা বড়ালকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার তার নিকটাত্মীয় অবন্তিকা বড়ালের নামে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে চার কোটি ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট (বাড়ি নং-৩৯, রোড নং-১০/এ) কিনে দেন। অবন্তিকা তার আয়কর নথিতে ওই মূল্য প্রদর্শন না করে গোপন করেছেন।

ফ্ল্যাটটিতে পিকে হালদার থাকতেন। অবন্তিকাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া যায়। আসামিরা গোপনে ফ্ল্যাটটি বিক্রির চেষ্টা করার তথ্য জানতে পেরে আদালতের আদেশ নিয়ে তা ক্রোক করা হয়।

অবন্তিকার আয়কর নথিসহ মামলার অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি পিকে হালদার তার অবৈধ অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মা সন্দেহভাজন আসামি লীলাবতি হালদারের নামে স্থানান্তর করেন।

আর লীলাবতি হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অবন্তিকাসহ অন্যদের নামে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেন।

এ ছাড়া পিকে হালদার নিজের প্রভাব খাটিয়ে অবন্তিকাকে রিলায়েন্স পিএনএল ইন্টারন্যাশনাল এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডে অবৈধভাবে চাকরি দিয়ে অবৈধ ব্যবসায় ও মানি লন্ডারিংয়ের কাজে যোগসাজশ করেন।

তদন্তে অবন্তিকার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলাসংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। দুদকের পক্ষে আদালতে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামির রিমান্ড শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনেরই রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ বছরের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। এর আগে ৫ জানুয়ারি পিকে হালদারের মা লীলাবতি হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২ ডিসেম্বর পিকে হালদারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ।

পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতেই পিকে হালদার বিদেশ পালিয়ে যান।

এরপর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় দুই দফায় পিকে হালদারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেন আদালত।

আর্থিক খাত থেকে আত্মীয়স্বজন চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার কারিগর পিকে হালদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিশিয়াল তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে।

এ ছাড়া দুদকের ক্যাসিনো দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট তালিকায় লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পিকে হালদারের নামও রয়েছে।

এদিকে বুধবারই অবন্তিকার ওই ফ্ল্যাটটি ক্রোক করার জন্য আদালতে আবেদন করেন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। দুদক সূত্র জানায়, অবন্তিকা কিছু অর্থ বিদেশেও পাচার করেন।

পিকে হালদারের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বিদেশেও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রশান্ত কুমার হালদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবন্তিকা বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারে জড়িয়ে পড়েন।

তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার ও আফনান জান্নাত কেয়া।