অসম্মানজনক বিদায়ের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প!
jugantor
অসম্মানজনক বিদায়ের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প!
সিনেটে ঝুলছে ভাগ্য * অভিশংসন করার আহ্বান বাইডেনের

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে কলঙ্কজনক হামলার পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অসম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে যাচ্ছেন। পার্লামেন্টের নিুকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হওয়ার পর তিনি এ পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে এখন তার ভাগ্য ঝুলছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও সিএনএনের।

বুধবার ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভ) পাস হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির আনা এ প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজনও সমর্থন দিয়েছেন।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মেয়ে লিজ চেনিসহ ১০ জন রিপাবলিকান নেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি ২৩২-১৯৭ ভোটে পাস হয়। ৬ জানুয়ারি সহিংস বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার জন্য দায়ী করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি পাস হয়।

এ প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প নতুন এক নজির গড়লেন। আর সেটা হলো অসম্মানের। ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেন।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটি এখন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। ১০০ সদস্যের সিনেটে এখন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের সদস্য সংখ্যা সমান সমান।

সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সম্মতি দিলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন। আর সেই প্রক্রিয়া সারতে যদি ২০ জানুয়ারি পেরিয়ে যায়, তবে এবার কিছু না হলেও ভবিষ্যতে আর কখনো তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প একবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে সে দফায় সিনেটে ভোটাভুটিতে তার পদ রক্ষা পায়।

এবার ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার না করে উল্টো কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার দৃষ্টিকটূ প্রয়াস চালান ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তার ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে জো বাইডেনের বিজয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার দিনে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলা চালায়। এতে পাঁচজন নিহত হয়।

ওই হামলার ঠিক আগে ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে উগ্রতার প্ররোচনা ছিল। রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও এর সমালোচনায় মুখর হন।

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালনের ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে ট্রাম্পের হাত থেকে ক্ষমতা নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রতি আহ্বান জানায় ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল পেন্সকে। কিন্তু পেন্স সেই আবেদনে সাড়া না দিলে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব আনার পথে হাঁটেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘ইতিহাসকে এড়িয়ে যেতে আমরা পারি না। আমরা দেখেছি, প্রেসিডেন্ট দাঙ্গায়, সশস্ত্র বিদ্রোহে উসকানি দিয়েছেন। তাকে (ট্রাম্প) যেতেই হবে।

তিনি জাতির জন্য স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান এক হুমকি। রিপাবলিকান নেতারা অভিশংসন প্রস্তাবকে ডেমোক্র্যাটদের বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, সহিংসতা নিয়ে এখন উচ্চকণ্ঠ হলেও বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা সহিংস বিক্ষোভ করলেও ডেমোক্র্যাটরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির যে কজন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন তারা দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ট্রাম্পকে দ্রুত সরাতে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা স্টেনি হয়ার।

তবে ট্রাম্পকে সরাতে অভিসংশন প্রস্তাব নিয়ে সিনেটের জরুরি অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন সিনেটে রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককনেল।

এ কারণে বিদায়ের আগে ট্রাম্পের পদ হারানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। অর্থাৎ ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, এ দফায় মেয়াদ পূর্ণ করতেই যাচ্ছেন তিনি।

অভিশংসন বিচার শুরু করার আহ্বান বাইডেনের : ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার (ট্রায়াল) শুরু করতে সিনেটের প্রতি আহ্বান জো বাইডেনের। অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর পাশাপাশি এ প্রক্রিয়াটিরও সুরাহা করার জন্য অনুরোধ জানান বাইডেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, এ দেশের মানুষ প্রাণঘাতী ভাইরাস ও বিপর্যস্ত অর্থনীতি নিয়ে সংকটের মধ্যে আছে।

আমি আশা করি, সিনেট নেতারা এ দেশের জন্য অন্য সব জরুরি কাজ করার পাশাপাশি অভিশংসন নিয়ে তাদের যে সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো রয়েছে তা পালনের জন্য উপায় খুঁজে বের করবেন।

আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ক্ষমতাগ্রহণের আগে সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার শুরুর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বাইডেন মনোনীত মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার প্রশ্নে সিনেটের ব্যস্ততা থাকবে। এছাড়া বাইডেনের আরও কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজও চলবে। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট চান, সেসব কাজের পাশাপাশি অভিশংসন বিচার প্রক্রিয়াও চলুক।

অভিশংসন প্রক্রিয়া কোন পথে? কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়েছে। এখন এ প্রস্তাব পাঠিয়ে দেওয়া হবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে।

ট্রাম্প দোষী কিনা তা নির্ধারণ করতে সেখানে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে। যদি সিনেটের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন তাহলে তিনি অভিযুক্ত হবেন।

সিনেটে মোট সদস্য সংখ্যা ১০০। যদি ভোটের দিন তারা সবাই উপস্থিত থাকেন, তাহলে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে হলে কমপক্ষে ১৭ জন রিপাবলিকানের ভোট প্রয়োজন হবে ডেমোক্রেটদের।

কালবিলম্ব না করে অভিশংসন প্রস্তাবের ট্রায়াল শুরুর জন্য ডেমোক্রেটদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককলেন। তিনি বলেছেন, ছুটি শেষে সিনেট অধিবেশন বসবে ১৯ জানুয়ারি।

এর আগে এ ট্রায়াল শুরু করা যাবে না। এর অর্থ হলো- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়ার পর এ ট্রায়াল চলতে থাকবে সিনেটে।

তবে সিনেটে এ ট্রায়াল শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটের কাছে হস্তান্তর করতে হবে প্রতিনিধি পরিষদকে।

অসম্মানজনক বিদায়ের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প!

সিনেটে ঝুলছে ভাগ্য * অভিশংসন করার আহ্বান বাইডেনের
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে কলঙ্কজনক হামলার পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অসম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে যাচ্ছেন। পার্লামেন্টের নিুকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হওয়ার পর তিনি এ পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে এখন তার ভাগ্য ঝুলছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও সিএনএনের।

বুধবার ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভ) পাস হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির আনা এ প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজনও সমর্থন দিয়েছেন।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মেয়ে লিজ চেনিসহ ১০ জন রিপাবলিকান নেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি ২৩২-১৯৭ ভোটে পাস হয়। ৬ জানুয়ারি সহিংস বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার জন্য দায়ী করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি পাস হয়।

এ প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প নতুন এক নজির গড়লেন। আর সেটা হলো অসম্মানের। ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেন।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটি এখন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। ১০০ সদস্যের সিনেটে এখন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের সদস্য সংখ্যা সমান সমান।

সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সম্মতি দিলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন। আর সেই প্রক্রিয়া সারতে যদি ২০ জানুয়ারি পেরিয়ে যায়, তবে এবার কিছু না হলেও ভবিষ্যতে আর কখনো তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। 

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প একবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে সে দফায় সিনেটে ভোটাভুটিতে তার পদ রক্ষা পায়।

এবার ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার না করে উল্টো কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার দৃষ্টিকটূ প্রয়াস চালান ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তার ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে জো বাইডেনের বিজয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার দিনে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলা চালায়। এতে পাঁচজন নিহত হয়।

ওই হামলার ঠিক আগে ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে উগ্রতার প্ররোচনা ছিল। রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও এর সমালোচনায় মুখর হন।

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালনের ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে ট্রাম্পের হাত থেকে ক্ষমতা নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রতি আহ্বান জানায় ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল পেন্সকে। কিন্তু পেন্স সেই আবেদনে সাড়া না দিলে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব আনার পথে হাঁটেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘ইতিহাসকে এড়িয়ে যেতে আমরা পারি না। আমরা দেখেছি, প্রেসিডেন্ট দাঙ্গায়, সশস্ত্র বিদ্রোহে উসকানি দিয়েছেন। তাকে (ট্রাম্প) যেতেই হবে।

তিনি জাতির জন্য স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান এক হুমকি। রিপাবলিকান নেতারা অভিশংসন প্রস্তাবকে ডেমোক্র্যাটদের বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, সহিংসতা নিয়ে এখন উচ্চকণ্ঠ হলেও বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা সহিংস বিক্ষোভ করলেও ডেমোক্র্যাটরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির যে কজন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন তারা দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা। 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ট্রাম্পকে দ্রুত সরাতে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা স্টেনি হয়ার।

তবে ট্রাম্পকে সরাতে অভিসংশন প্রস্তাব নিয়ে সিনেটের জরুরি অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন সিনেটে রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককনেল।

এ কারণে বিদায়ের আগে ট্রাম্পের পদ হারানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। অর্থাৎ ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, এ দফায় মেয়াদ পূর্ণ করতেই যাচ্ছেন তিনি।

অভিশংসন বিচার শুরু করার আহ্বান বাইডেনের : ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার (ট্রায়াল) শুরু করতে সিনেটের প্রতি আহ্বান জো বাইডেনের। অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর পাশাপাশি এ প্রক্রিয়াটিরও সুরাহা করার জন্য অনুরোধ জানান বাইডেন। 

বুধবার এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, এ দেশের মানুষ প্রাণঘাতী ভাইরাস ও বিপর্যস্ত অর্থনীতি নিয়ে সংকটের মধ্যে আছে।

আমি আশা করি, সিনেট নেতারা এ দেশের জন্য অন্য সব জরুরি কাজ করার পাশাপাশি অভিশংসন নিয়ে তাদের যে সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো রয়েছে তা পালনের জন্য উপায় খুঁজে বের করবেন।

আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ক্ষমতাগ্রহণের আগে সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার শুরুর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বাইডেন মনোনীত মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার প্রশ্নে সিনেটের ব্যস্ততা থাকবে। এছাড়া বাইডেনের আরও কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজও চলবে। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট চান, সেসব কাজের পাশাপাশি অভিশংসন বিচার প্রক্রিয়াও চলুক।

অভিশংসন প্রক্রিয়া কোন পথে? কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়েছে। এখন এ প্রস্তাব পাঠিয়ে দেওয়া হবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে।

ট্রাম্প দোষী কিনা তা নির্ধারণ করতে সেখানে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে। যদি সিনেটের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন তাহলে তিনি অভিযুক্ত হবেন।

সিনেটে মোট সদস্য সংখ্যা ১০০। যদি ভোটের দিন তারা সবাই উপস্থিত থাকেন, তাহলে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে হলে কমপক্ষে ১৭ জন রিপাবলিকানের ভোট প্রয়োজন হবে ডেমোক্রেটদের। 

কালবিলম্ব না করে অভিশংসন প্রস্তাবের ট্রায়াল শুরুর জন্য ডেমোক্রেটদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককলেন। তিনি বলেছেন, ছুটি শেষে সিনেট অধিবেশন বসবে ১৯ জানুয়ারি।

এর আগে এ ট্রায়াল শুরু করা যাবে না। এর অর্থ হলো- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়ার পর এ ট্রায়াল চলতে থাকবে সিনেটে।

তবে সিনেটে এ ট্রায়াল শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটের কাছে হস্তান্তর করতে হবে প্রতিনিধি পরিষদকে।