পার্লামেন্টের মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন কয়েকশ মার্কিন সেনা
jugantor
ওয়াশিংটনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
পার্লামেন্টের মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন কয়েকশ মার্কিন সেনা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলের পাহারায় কয়েকশ সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

রাতে ভবনের মেঝেতে তারা অবস্থান করছেন। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স, ডেইলি মেইল ও এপির।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটল হিলে এত সেনা সমাবেশ দেখা যায়নি। ১৬টি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী আগামী কয়েকদিন প্রতিবাদ-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এ কারণে গোয়েন্দারা ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্ক করেছে। সতর্কতায় বলা হয়েছে- ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে যারা হামলা চালিয়েছিল ২০ জানুয়ারি ও এর মধ্যে তারা আবার হামলা চালাতে পারে। এ কারণে মার্কিন প্রশাসন বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।

সশস্ত্র হামলা ঠেকাতে ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আফগানিস্তান ও ইরাকে যত মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে সেটির দ্বিগুণ সেনা সদস্য ওয়াশিংটন ডিসিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাপিটল হিলের আশপাশে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় শুধু মেটাল ডিটেক্টর নয়, ক্যাপিটল হিলের চারধারে আট ফুট উঁচু ধাতব দেওয়ালও তৈরি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে প্রবেশের সব সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গেছে- ন্যাশনাল গার্ডের শত শত সদস্য সশস্ত্র সজ্জিত অবস্থায় ক্যাপিটল ভবনের মেঝেতে শুয়ে আছেন। সেখানেই তারা দিন-রাত পার করছেন। ক্যাপিটলে মোতায়েন সেনা সদস্যদের মাঝে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইক ওয়ালটাজ ও ভিকি হার্টজলারকে পিজ্জার বক্স বিতরণ করতেও দেখা গেছে।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ক্যাপিটলের নিরাপত্তা দেওয়া সেনাদের উদ্দেশে ধন্যবাদ বক্তৃতা করেন। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং তদন্তে দাঙ্গার আলামত পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন যৌথবাহিনীর নজিরবিহীন বিবৃতি : দেশের সংবিধান সমুন্নত রাখাসহ যে কোনো চরমপন্থা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সেনাপ্রধানরা। কোনো রাজনৈতিক কারণে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের এমন বিবৃতি খুবই বিরল ঘটনা। বুধবার তিন বাহিনীর প্রধানদের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। যে কোনো চরমপন্থা প্রতিহত করাই সংবিধান রক্ষার শপথের মূলকথা।

সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারা নজিরবিহীন বিবৃতিটি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মার্কিন সেনাবাহিনী সব-সময় বেসামরিক নেতৃত্বের আইনগত আদেশ পালন করে আসছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়- দেশে ও দেশের বাইরে মার্কিন জনগণ ও সম্পদ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সব সময় সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছে। এক পৃষ্ঠার এমন যৌথ বিবৃতিতে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেন।

বিভিন্ন মার্কিন সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে- ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের সমর্থনে ওয়াশিংটন ডিসিতে বেশ কিছু সেনা সদস্যের উপস্থিতি ছিলেন। এ নিয়ে এফবিআই জোর তদন্তে নেমেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই জানায়, তারা এর মধ্যে দেড় শতাধিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সহিংসতায় যোগ দেওয়া কেউ ছাড় পাবে না। ছবি দেখে, সেলফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তল্লাশি করে তাদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে।

ওয়াশিংটনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

পার্লামেন্টের মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন কয়েকশ মার্কিন সেনা

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলের পাহারায় কয়েকশ সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

রাতে ভবনের মেঝেতে তারা অবস্থান করছেন। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স, ডেইলি মেইল ও এপির।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটল হিলে এত সেনা সমাবেশ দেখা যায়নি। ১৬টি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী আগামী কয়েকদিন প্রতিবাদ-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এ কারণে গোয়েন্দারা ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্ক করেছে। সতর্কতায় বলা হয়েছে- ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে যারা হামলা চালিয়েছিল ২০ জানুয়ারি ও এর মধ্যে তারা আবার হামলা চালাতে পারে। এ কারণে মার্কিন প্রশাসন বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।

সশস্ত্র হামলা ঠেকাতে ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আফগানিস্তান ও ইরাকে যত মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে সেটির দ্বিগুণ সেনা সদস্য ওয়াশিংটন ডিসিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাপিটল হিলের আশপাশে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় শুধু মেটাল ডিটেক্টর নয়, ক্যাপিটল হিলের চারধারে আট ফুট উঁচু ধাতব দেওয়ালও তৈরি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে প্রবেশের সব সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গেছে- ন্যাশনাল গার্ডের শত শত সদস্য সশস্ত্র সজ্জিত অবস্থায় ক্যাপিটল ভবনের মেঝেতে শুয়ে আছেন। সেখানেই তারা দিন-রাত পার করছেন। ক্যাপিটলে মোতায়েন সেনা সদস্যদের মাঝে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইক ওয়ালটাজ ও ভিকি হার্টজলারকে পিজ্জার বক্স বিতরণ করতেও দেখা গেছে।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ক্যাপিটলের নিরাপত্তা দেওয়া সেনাদের উদ্দেশে ধন্যবাদ বক্তৃতা করেন। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং তদন্তে দাঙ্গার আলামত পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন যৌথবাহিনীর নজিরবিহীন বিবৃতি : দেশের সংবিধান সমুন্নত রাখাসহ যে কোনো চরমপন্থা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সেনাপ্রধানরা। কোনো রাজনৈতিক কারণে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের এমন বিবৃতি খুবই বিরল ঘটনা। বুধবার তিন বাহিনীর প্রধানদের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। যে কোনো চরমপন্থা প্রতিহত করাই সংবিধান রক্ষার শপথের মূলকথা।

সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারা নজিরবিহীন বিবৃতিটি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মার্কিন সেনাবাহিনী সব-সময় বেসামরিক নেতৃত্বের আইনগত আদেশ পালন করে আসছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়- দেশে ও দেশের বাইরে মার্কিন জনগণ ও সম্পদ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সব সময় সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছে। এক পৃষ্ঠার এমন যৌথ বিবৃতিতে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেন।

বিভিন্ন মার্কিন সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে- ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের সমর্থনে ওয়াশিংটন ডিসিতে বেশ কিছু সেনা সদস্যের উপস্থিতি ছিলেন। এ নিয়ে এফবিআই জোর তদন্তে নেমেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই জানায়, তারা এর মধ্যে দেড় শতাধিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সহিংসতায় যোগ দেওয়া কেউ ছাড় পাবে না। ছবি দেখে, সেলফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তল্লাশি করে তাদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে।