আমি মারা গেলেও ডেলাওয়ার আমার হৃদয়েই থাকবে
jugantor
শপথের আগে বাইডেনের আবেগঘন বক্তব্য
আমি মারা গেলেও ডেলাওয়ার আমার হৃদয়েই থাকবে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের গর্বিত সন্তান হিসাবে সব সময় আমার পরিচয় থাকবে। ডেলাওয়ারবাসীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি যখন মারা যাব, এ ডেলাওয়ার রাজ্য আমার হৃদয়েই লেখা থাকবে।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিতে ওয়াশিংটনে যাত্রার আগে মঙ্গলবার ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসেল শহরে ৭৮ বছর বয়সী বাইডেন এ আবেগঘন বক্তব্য দেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের।

ডেলাওয়ারের ন্যাশনাল হেডকোয়ার্টারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বাইডেন নিজের আবেগের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অকালপ্রয়াত ছেলে বিউ বাইডেনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আজকের দিনে আমার একটিই দুঃখ, বিউ বেঁচে থাকলে হয়তো তাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেখা যেত। মার্কিন সেনাসদস্য হিসাবে বিউ ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উদীয়মান রাজনৈতিক তারকা হিসাবে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে অল্প দিনের মধ্যে বিউ মারা যান। এ কারণে সুযোগ থাকার পরও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন নির্বাচন করতে অস্বীকার করেছিলেন।

বক্তব্যে অতীতের কথা স্মরণ করে জো বাইডেন বলেন, তার মা-বাবা চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে এ রাজ্যে বসতি শুরু করেছিলেন। সিনেটে ডেলাওয়ারের হয়ে ৩০ বছর দায়িত্ব পালনের আগে নিউ ক্যাসল এলাকা থেকে কাউন্সিলর হওয়ার তথ্যও তিনি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে আট বছর দায়িত্ব পালনের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

বাইডেন আরও বলেন, তার জীবনের সব সময়, ভালো ও খারাপ সময়ে ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের লোকজন পাশে ছিলেন। এ অঙ্গরাজ্যের মানুষ বাইডেন পরিবারের পাশে থেকেছেন। এটি তার জীবনের চরম পাওয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ অঙ্গরাজ্য আমাদের অনেক দিয়েছে। আমার মা-বাবার সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় এ অঙ্গরাজ্য তাদের থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। এ অঙ্গরাজ্য আমাকে নিজের প্রতি আস্থা রাখার সুযোগ দিয়েছে। রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমাকে সিনেটে পাঠিয়েছে। এ রাজ্য আমাকে জিল বাইডেনকে (বর্তমান স্ত্রী) খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এ রাজ্য আমার ছেলে বিউকে ভালোবাসা দেখিয়েছে। বাইডেনের বক্তব্যের সময় সেখানে উপস্থিত অনেককে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়।

অভিষেকের আগে ৪ লাখ আমেরিকানকে স্মরণ বাইডেনের : যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া চার লাখ মার্কিন নাগরিকের জন্য মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। করোনাভাইরাসে দেশটিতে প্রথম মৃত্যুর ১১ মাসের মাথায় দিনটিতে মৃতের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে যায়। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ডেলাওয়ারে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অংশ নেন।

স্মরণ অনুষ্ঠানের সূচনা করে বাইডেন বলেন, এ ক্ষত শুকাতে হলে আমাদের স্মরণ করতে হবে। বেদনার এ স্মরণ কখনো কখনো খুব কঠিন। কিন্তু এভাবে আমরা সেরে উঠি। একটি জাতি হিসাবে তাদের স্মরণ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় লিংকন মেমোরিয়ালের লেকের ধারে চার লাখ নাগরিকের স্মরণে ৪০০ বাতি জ্বলছিল। এরপর গসপেল গায়ক ইয়োলান্ডা অ্যাডামস গেয়ে শোনান ‘হালেলুইয়া’। এরপর কিছু সময় নীরবতা পালন করা হয়।

কমলা হ্যারিস বলেন, মৃত্যু তাদের শারীরিকভাবে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে হয়তো, কিন্তু চেতনায় আমরা সবাই এক জায়গাতেই আছি। আমার প্রার্থনা এটুকুই- এ সংকট আমরা কাটিয়ে উঠব নতুন শিক্ষা নিয়ে। সেই শিক্ষা হবে ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেও মূল্য দেওয়া, নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে শেখা, আর আমাদের হৃদয় পরস্পরের জন্য আরেকটু উন্মুক্ত করা।

শপথের আগে বাইডেনের আবেগঘন বক্তব্য

আমি মারা গেলেও ডেলাওয়ার আমার হৃদয়েই থাকবে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের গর্বিত সন্তান হিসাবে সব সময় আমার পরিচয় থাকবে। ডেলাওয়ারবাসীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি যখন মারা যাব, এ ডেলাওয়ার রাজ্য আমার হৃদয়েই লেখা থাকবে।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিতে ওয়াশিংটনে যাত্রার আগে মঙ্গলবার ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসেল শহরে ৭৮ বছর বয়সী বাইডেন এ আবেগঘন বক্তব্য দেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের।

ডেলাওয়ারের ন্যাশনাল হেডকোয়ার্টারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বাইডেন নিজের আবেগের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অকালপ্রয়াত ছেলে বিউ বাইডেনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আজকের দিনে আমার একটিই দুঃখ, বিউ বেঁচে থাকলে হয়তো তাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেখা যেত। মার্কিন সেনাসদস্য হিসাবে বিউ ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উদীয়মান রাজনৈতিক তারকা হিসাবে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে অল্প দিনের মধ্যে বিউ মারা যান। এ কারণে সুযোগ থাকার পরও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন নির্বাচন করতে অস্বীকার করেছিলেন।

বক্তব্যে অতীতের কথা স্মরণ করে জো বাইডেন বলেন, তার মা-বাবা চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে এ রাজ্যে বসতি শুরু করেছিলেন। সিনেটে ডেলাওয়ারের হয়ে ৩০ বছর দায়িত্ব পালনের আগে নিউ ক্যাসল এলাকা থেকে কাউন্সিলর হওয়ার তথ্যও তিনি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে আট বছর দায়িত্ব পালনের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

বাইডেন আরও বলেন, তার জীবনের সব সময়, ভালো ও খারাপ সময়ে ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের লোকজন পাশে ছিলেন। এ অঙ্গরাজ্যের মানুষ বাইডেন পরিবারের পাশে থেকেছেন। এটি তার জীবনের চরম পাওয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ অঙ্গরাজ্য আমাদের অনেক দিয়েছে। আমার মা-বাবার সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় এ অঙ্গরাজ্য তাদের থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। এ অঙ্গরাজ্য আমাকে নিজের প্রতি আস্থা রাখার সুযোগ দিয়েছে। রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমাকে সিনেটে পাঠিয়েছে। এ রাজ্য আমাকে জিল বাইডেনকে (বর্তমান স্ত্রী) খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এ রাজ্য আমার ছেলে বিউকে ভালোবাসা দেখিয়েছে। বাইডেনের বক্তব্যের সময় সেখানে উপস্থিত অনেককে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়।

অভিষেকের আগে ৪ লাখ আমেরিকানকে স্মরণ বাইডেনের : যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া চার লাখ মার্কিন নাগরিকের জন্য মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। করোনাভাইরাসে দেশটিতে প্রথম মৃত্যুর ১১ মাসের মাথায় দিনটিতে মৃতের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে যায়। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ডেলাওয়ারে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অংশ নেন।

স্মরণ অনুষ্ঠানের সূচনা করে বাইডেন বলেন, এ ক্ষত শুকাতে হলে আমাদের স্মরণ করতে হবে। বেদনার এ স্মরণ কখনো কখনো খুব কঠিন। কিন্তু এভাবে আমরা সেরে উঠি। একটি জাতি হিসাবে তাদের স্মরণ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় লিংকন মেমোরিয়ালের লেকের ধারে চার লাখ নাগরিকের স্মরণে ৪০০ বাতি জ্বলছিল। এরপর গসপেল গায়ক ইয়োলান্ডা অ্যাডামস গেয়ে শোনান ‘হালেলুইয়া’। এরপর কিছু সময় নীরবতা পালন করা হয়।

কমলা হ্যারিস বলেন, মৃত্যু তাদের শারীরিকভাবে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে হয়তো, কিন্তু চেতনায় আমরা সবাই এক জায়গাতেই আছি। আমার প্রার্থনা এটুকুই- এ সংকট আমরা কাটিয়ে উঠব নতুন শিক্ষা নিয়ে। সেই শিক্ষা হবে ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেও মূল্য দেওয়া, নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে শেখা, আর আমাদের হৃদয় পরস্পরের জন্য আরেকটু উন্মুক্ত করা।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০