যা করার আমি তা-ই করেছি
jugantor
বিদায়ি ভাষণে ট্রাম্প
যা করার আমি তা-ই করেছি

  যুগান্তর ডেস্ক  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি যা করতে এসেছিলাম, তা-ই করেছি। এ ছাড়া আরও অনেক কিছুই করেছি। আমি কোনো যুদ্ধে জড়াইনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, কঠিন লড়াই, সবচেয়ে শক্ত লড়াই বেছে নিয়েছিলাম। কেননা, মার্কিনিরা আমাকে সে জন্যই নির্বাচিত করেছিলেন।

বুধবার ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে না থেকে বুধবার হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ম্যারিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, এ বিদায় লম্বা সময়ের জন্য নয়।

নতুন প্রশাসনকে শুভেচ্ছা জানালেও উত্তরসূরি বাইডেনের নাম পর্যন্ত তিনি নেননি। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এপির।

গত বছর ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে রিপাবলিকানদলীয় প্রার্থী ট্রাম্প (দ্বিতীয় মেয়াদ) হেরে যান। তবে এ পরাজয় তিনি পুরোপুরি মেনে নিতে পারেননি।

আদালত পর্যন্ত তিনি যান। এ ছাড়া কংগ্রেসে বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের দিন ৬ জানুয়ারি উগ্রপন্থি সমর্থকদের তিনি উসকানি দিয়েছিলেন। ওইদিন ক্যাপিটল হিলে সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই সপ্তাহ ছিল বেশ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। এ সময় তিনি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন। তবে এতকিছুর মধ্যেও বুধবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে জো বাইডেন শপথ নিয়েছেন।

সাধারণত নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকেন এবং শপথের পর তিনি হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নেন।

কিন্তু বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে না থেকে ট্রাম্প গলফ খেলতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় চলে যান। হোয়াইট হাউজ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি সরাসরি ফ্লোরিডার অবকাশ কেন্দ্রে যান।

১৮৬৯ সালের পর তিনিই হবেন নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট। এর আগে পাঁচ বিদায়ি প্রেসিডেন্ট উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

তবে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে মেয়াদের শেষদিনে ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১২০ জনকে ক্ষমা করেছেন।

ভিডিওবার্তায় ট্রাম্পকে বলতে শোনা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমরা যা যা লালন করি, রাজনৈতিক সহিংসতা তার সবকিছুর ওপর আঘাত। এটা কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না।

তিনি বলেন, ডান না বাম, তা আমাদের এজেন্ডা ছিল না, রিপাবলিকান না ডেমোক্র্যাট, তা-ও ছিল না। আমাদের এজেন্ডা ছিল জাতির ভালো করা, সমগ্র জাতির।

ভিডিওতে মার্কিনিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের জানাতে চাই, আমরা যে আন্দোলনের সূচনা করেছি, তা শুরু হয়েছে মাত্র।

যতক্ষণ আমেরিকানরা তাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখবে, ততক্ষণ এ জাতি অর্জন করতে পারে না, এমন কিছুই নেই।

আমাদের দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। দেশের মানুষ আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের ঐতিহ্য লালিত হবে। আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বল হবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার মেয়াদে আমরা যা অর্জন করেছি, তা সত্যিই গর্বের। যা করতে এসেছিলাম, তা সবই করেছি। এর বাইরেও আরও অনেক কিছু করেছি।

কেউ ভাবেননি আমরা এতটা সফল হব। আমি এ দশকের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিশেষ গর্বিত, যার আমলে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়নি।

এদিন ক্যাপিটল হিলে নিজের উগ্র সমর্থকদের তাণ্ডবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় পুরো দেশ আতঙ্কিত হয়েছে।

এ রকম রাজনৈতিক সহিংসতা আমেরিকার মূল্যবোধের ওপর আঘাত। এটি কখনো সহ্য করা যায় না। নিজ প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকান ইতিহাসে করছাড় এবং সংস্কারের বৃহত্তম প্যাকেজটি আমরা পাশ করেছি।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করেছি। আমাদের ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তিগুলো সুসংগঠিত করেছি। ভয়াবহ ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব এবং অসম্ভব প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে একতরফা দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি পুনর্বিবেচনা করেছি।

এ বিদায় লম্বা সময়ের জন্য নয় : ম্যারিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ বিদায় লম্বা সময়ের জন্য নয়।

বুধবার হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ম্যারিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তার জন্য ছোট পরিসরে এক বিদায়ি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ তাদের সন্তানেরা। সেখানে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ট্রাম্প নিজের পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ পরিবার কত কঠোর পরিশ্রম করেছে, সে সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা নেই। তারা অনেক সহজ জীবন কাটাতে পারত।’ ট্রাম্প ‘সব সময় লড়াই’ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

একইসঙ্গে তিনি জো বাইডেন প্রশাসনের ‘শুভ কামনা’ করেছেন। ট্রাম্প পরিবার ও স্টাফদের উদ্দেশ করে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আপনারা দারুণ মানুষ। এটি মহান এক দেশ।

আপনাদের প্রেসিডেন্ট হওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের জন্য সব সময় লড়াই চালিয়ে যাব।

আমি নজর রাখব, আমি শুনব এবং আমি বলব, এই দেশের ভবিষ্যৎ এর চেয়ে ভালো কখনো হবে না। নতুন প্রশাসনের জন্য শুভকামনা। আমি আশাবাদী, তারা সফল হবে।’

মেলানিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও সুন্দর একজন নারী। মানুষের মধ্য তিনি ভীষণ জনপ্রিয়।’ এরপর বক্তব্য দেন মেলানিয়া।

শুরুতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ফার্স্টলেডি হতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয় ছিল। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। আমার চিন্তা ও প্রার্থনায় আপনারা সব সময় থাকবেন। ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন। ঈশ্বর আপনাদের সবার পরিবারের মঙ্গল করুন। ঈশ্বর এই সুন্দর জাতির মঙ্গল করুন। ধন্যবাদ।’

নতুন প্রেসিডেন্টের শপথে যাননি যারা : শুধু ট্রাম্প নন, অতীতে আরও পাঁচজন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে যাননি।

তারা হলেন : জন অ্যাডামস, জন কুইন্সি অ্যাডামস, মার্টিন ফন বু্যঁরে, অ্যান্ড্রু জনসন ও রিচার্ড নিক্সন। ১৮০১ সালে প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস যাননি।

একই কাজ করেছিলেন তার ছেলে জন কুইন্সি অ্যাডামস। ১৮২৯ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের শপথ অনুষ্ঠানে জন কুইন্সি অ্যাডামস যাননি। ১৯৬১ সালে জন এফ কেনেডির অভিষেক হয়।

প্রথম ক্যাথলিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। সে হিসাবে প্রটেস্ট্যান্ট দেশটিতে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। কেনেডির শপথ গ্রহণের মঞ্চে হুট করে আগুন ধরে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তখন একে ধরে নিয়েছিলেন হত্যাচেষ্টা হিসাবে।

‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ সঙ্গে নিয়ে যাবেন ট্রাম্প : হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় গেছেন। বাইডেনের শপথ নেওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কারণ, তিনি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন পারমাণবিক কোড। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’। সাধারণত বিদায়ি প্রেসিডেন্ট এটি নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে শপথের দিন দুপুরে হস্তান্তর করেন।

এরপর সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্টের নিউক্লিয়ার কোড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ হলো বিশেষ একটি ফুটবল। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট যেসব নির্দেশ ব্যবহার করে থাকেন তার সরঞ্জাম এবং পারমাণবিক হামলা চালানোর সরঞ্জাম সংরক্ষিত থাকে।

ফলে যতক্ষণ এ নিউক্লিয়ার ফুটবলের কোড নিষ্ক্রিয় করা না হয়, তা নিয়ে সংশয় থাকে। এ ছাড়া বাইডেনের উদ্দেশে ট্রাম্প কোনো চিঠি রেখে গেছেন কি না, তা হোয়াইট হাউজ স্পষ্ট করতে পারেনি।

এ ছাড়া ট্রাম্প সব সময় একটি প্লাস্টিক কার্ড বহন করতেন। এটি বিস্কুট বলে পরিচিত। এতে এমন সব কোড আছে, তা দিয়ে প্রেসিডেন্টকে শনাক্ত করা যায়।

বিদায়ি ভাষণে ট্রাম্প

যা করার আমি তা-ই করেছি

 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি যা করতে এসেছিলাম, তা-ই করেছি। এ ছাড়া আরও অনেক কিছুই করেছি। আমি কোনো যুদ্ধে জড়াইনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, কঠিন লড়াই, সবচেয়ে শক্ত লড়াই বেছে নিয়েছিলাম। কেননা, মার্কিনিরা আমাকে সে জন্যই নির্বাচিত করেছিলেন।

বুধবার ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে না থেকে বুধবার হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ম্যারিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, এ বিদায় লম্বা সময়ের জন্য নয়।

নতুন প্রশাসনকে শুভেচ্ছা জানালেও উত্তরসূরি বাইডেনের নাম পর্যন্ত তিনি নেননি। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এপির।

গত বছর ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে রিপাবলিকানদলীয় প্রার্থী ট্রাম্প (দ্বিতীয় মেয়াদ) হেরে যান। তবে এ পরাজয় তিনি পুরোপুরি মেনে নিতে পারেননি।

আদালত পর্যন্ত তিনি যান। এ ছাড়া কংগ্রেসে বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের দিন ৬ জানুয়ারি উগ্রপন্থি সমর্থকদের তিনি উসকানি দিয়েছিলেন। ওইদিন ক্যাপিটল হিলে সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই সপ্তাহ ছিল বেশ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। এ সময় তিনি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন। তবে এতকিছুর মধ্যেও বুধবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে জো বাইডেন শপথ নিয়েছেন।

সাধারণত নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকেন এবং শপথের পর তিনি হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নেন।

কিন্তু বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে না থেকে ট্রাম্প গলফ খেলতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় চলে যান। হোয়াইট হাউজ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি সরাসরি ফ্লোরিডার অবকাশ কেন্দ্রে যান।

১৮৬৯ সালের পর তিনিই হবেন নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট। এর আগে পাঁচ বিদায়ি প্রেসিডেন্ট উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

তবে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে মেয়াদের শেষদিনে ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১২০ জনকে ক্ষমা করেছেন।

ভিডিওবার্তায় ট্রাম্পকে বলতে শোনা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমরা যা যা লালন করি, রাজনৈতিক সহিংসতা তার সবকিছুর ওপর আঘাত। এটা কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না।

তিনি বলেন, ডান না বাম, তা আমাদের এজেন্ডা ছিল না, রিপাবলিকান না ডেমোক্র্যাট, তা-ও ছিল না। আমাদের এজেন্ডা ছিল জাতির ভালো করা, সমগ্র জাতির।

ভিডিওতে মার্কিনিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের জানাতে চাই, আমরা যে আন্দোলনের সূচনা করেছি, তা শুরু হয়েছে মাত্র।

যতক্ষণ আমেরিকানরা তাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখবে, ততক্ষণ এ জাতি অর্জন করতে পারে না, এমন কিছুই নেই।

আমাদের দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। দেশের মানুষ আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের ঐতিহ্য লালিত হবে। আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বল হবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার মেয়াদে আমরা যা অর্জন করেছি, তা সত্যিই গর্বের। যা করতে এসেছিলাম, তা সবই করেছি। এর বাইরেও আরও অনেক কিছু করেছি।

কেউ ভাবেননি আমরা এতটা সফল হব। আমি এ দশকের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিশেষ গর্বিত, যার আমলে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়নি।

এদিন ক্যাপিটল হিলে নিজের উগ্র সমর্থকদের তাণ্ডবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় পুরো দেশ আতঙ্কিত হয়েছে।

এ রকম রাজনৈতিক সহিংসতা আমেরিকার মূল্যবোধের ওপর আঘাত। এটি কখনো সহ্য করা যায় না। নিজ প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকান ইতিহাসে করছাড় এবং সংস্কারের বৃহত্তম প্যাকেজটি আমরা পাশ করেছি।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করেছি। আমাদের ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তিগুলো সুসংগঠিত করেছি। ভয়াবহ ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব এবং অসম্ভব প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে একতরফা দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি পুনর্বিবেচনা করেছি।

এ বিদায় লম্বা সময়ের জন্য নয় : ম্যারিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ বিদায় লম্বা সময়ের জন্য নয়।

বুধবার হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ম্যারিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তার জন্য ছোট পরিসরে এক বিদায়ি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ তাদের সন্তানেরা। সেখানে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ট্রাম্প নিজের পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ পরিবার কত কঠোর পরিশ্রম করেছে, সে সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা নেই। তারা অনেক সহজ জীবন কাটাতে পারত।’ ট্রাম্প ‘সব সময় লড়াই’ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

একইসঙ্গে তিনি জো বাইডেন প্রশাসনের ‘শুভ কামনা’ করেছেন। ট্রাম্প পরিবার ও স্টাফদের উদ্দেশ করে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আপনারা দারুণ মানুষ। এটি মহান এক দেশ।

আপনাদের প্রেসিডেন্ট হওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের জন্য সব সময় লড়াই চালিয়ে যাব।

আমি নজর রাখব, আমি শুনব এবং আমি বলব, এই দেশের ভবিষ্যৎ এর চেয়ে ভালো কখনো হবে না। নতুন প্রশাসনের জন্য শুভকামনা। আমি আশাবাদী, তারা সফল হবে।’

মেলানিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও সুন্দর একজন নারী। মানুষের মধ্য তিনি ভীষণ জনপ্রিয়।’ এরপর বক্তব্য দেন মেলানিয়া।

শুরুতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ফার্স্টলেডি হতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয় ছিল। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। আমার চিন্তা ও প্রার্থনায় আপনারা সব সময় থাকবেন। ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন। ঈশ্বর আপনাদের সবার পরিবারের মঙ্গল করুন। ঈশ্বর এই সুন্দর জাতির মঙ্গল করুন। ধন্যবাদ।’ 

নতুন প্রেসিডেন্টের শপথে যাননি যারা : শুধু ট্রাম্প নন, অতীতে আরও পাঁচজন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে যাননি।

তারা হলেন : জন অ্যাডামস, জন কুইন্সি অ্যাডামস, মার্টিন ফন বু্যঁরে, অ্যান্ড্রু জনসন ও রিচার্ড নিক্সন। ১৮০১ সালে প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস যাননি।

একই কাজ করেছিলেন তার ছেলে জন কুইন্সি অ্যাডামস। ১৮২৯ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের শপথ অনুষ্ঠানে জন কুইন্সি অ্যাডামস যাননি। ১৯৬১ সালে জন এফ কেনেডির অভিষেক হয়।

প্রথম ক্যাথলিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। সে হিসাবে প্রটেস্ট্যান্ট দেশটিতে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। কেনেডির শপথ গ্রহণের মঞ্চে হুট করে আগুন ধরে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তখন একে ধরে নিয়েছিলেন হত্যাচেষ্টা হিসাবে। 

‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ সঙ্গে নিয়ে যাবেন ট্রাম্প : হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় গেছেন। বাইডেনের শপথ নেওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কারণ, তিনি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন পারমাণবিক কোড। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’। সাধারণত বিদায়ি প্রেসিডেন্ট এটি নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে শপথের দিন দুপুরে হস্তান্তর করেন।

এরপর সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্টের নিউক্লিয়ার কোড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ হলো বিশেষ একটি ফুটবল। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট যেসব নির্দেশ ব্যবহার করে থাকেন তার সরঞ্জাম এবং পারমাণবিক হামলা চালানোর সরঞ্জাম সংরক্ষিত থাকে।

ফলে যতক্ষণ এ নিউক্লিয়ার ফুটবলের কোড নিষ্ক্রিয় করা না হয়, তা নিয়ে সংশয় থাকে। এ ছাড়া বাইডেনের উদ্দেশে ট্রাম্প কোনো চিঠি রেখে গেছেন কি না, তা হোয়াইট হাউজ স্পষ্ট করতে পারেনি।

এ ছাড়া ট্রাম্প সব সময় একটি প্লাস্টিক কার্ড বহন করতেন। এটি বিস্কুট বলে পরিচিত। এতে এমন সব কোড আছে, তা দিয়ে প্রেসিডেন্টকে শনাক্ত করা যায়।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০