চসিক নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ
jugantor
সিইসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক আজ
চসিক নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। অর্থাৎ ৭২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১০টিই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৩১৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৮ জন ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও মোতায়েন থাকবে ২৫ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া নির্বাচনের দিন মাঠে থাকবেন ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আবদুল ওয়ারিশ যুগান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রগুলোর অতীতের সহিংসতার ইতিহাস, প্রার্থীদের অবস্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৯ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল টিমে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সব কেন্দ্রে কাজ করবে।’

এদিকে আজ চসিক নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সিইসি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করবেন।

চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত বছরের ১৮ মার্চ রাতে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আনোয়ার জাহিদ তানভীর। তিনি ওই এলাকার আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২১ মার্চ চসিক নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করে। এ লক্ষ্যে ৮ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। প্রচারের প্রথম দিনই ছুরিকাঘাতের শিকার হন এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী আশিকুর রহমান রোহিত। ১৫ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ ছাড়া ১২ জানুয়ারি পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুরপাড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক আজগর আলী বাবুল। এ ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ-র‌্যাব।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারের প্রতিদিনই ঘটছে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরসহ ছোট-বড় সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা। এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সহিংসতায় আহত হয়েছেন। নির্বাচনের দিন বা এর আগে পরে সংঘাত-সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ আশঙ্কায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এরই মধ্যে কেন্দ্রে নির্বাচনী বুথ পাহারায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠিও দিয়েছেন।

চসিক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন ৭৭৫ প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৮৮৬ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৯ হাজার ৭৭২ পোলিং অফিসার। এছাড়াও অতিরিক্ত ৫ শতাংশসহ ১৬ হাজার ১৬৩ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে থাকবে ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথ। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার চসিক নির্বাচনে ভোটার ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৩ ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৯ জন।

নির্বাচনী মেয়র পদে আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মেয়র প্রার্থী ৭ জন। এছাড়া ১৬৩ জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ৫৬ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘চসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বচনে বিজিবিসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না।’

সিইসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক আজ

চসিক নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। অর্থাৎ ৭২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১০টিই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৩১৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৮ জন ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও মোতায়েন থাকবে ২৫ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া নির্বাচনের দিন মাঠে থাকবেন ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আবদুল ওয়ারিশ যুগান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রগুলোর অতীতের সহিংসতার ইতিহাস, প্রার্থীদের অবস্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৯ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল টিমে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সব কেন্দ্রে কাজ করবে।’

এদিকে আজ চসিক নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সিইসি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করবেন।

চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত বছরের ১৮ মার্চ রাতে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আনোয়ার জাহিদ তানভীর। তিনি ওই এলাকার আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২১ মার্চ চসিক নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করে। এ লক্ষ্যে ৮ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। প্রচারের প্রথম দিনই ছুরিকাঘাতের শিকার হন এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী আশিকুর রহমান রোহিত। ১৫ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ ছাড়া ১২ জানুয়ারি পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুরপাড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক আজগর আলী বাবুল। এ ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ-র‌্যাব।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারের প্রতিদিনই ঘটছে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরসহ ছোট-বড় সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা। এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সহিংসতায় আহত হয়েছেন। নির্বাচনের দিন বা এর আগে পরে সংঘাত-সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ আশঙ্কায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এরই মধ্যে কেন্দ্রে নির্বাচনী বুথ পাহারায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠিও দিয়েছেন।

চসিক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন ৭৭৫ প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৮৮৬ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৯ হাজার ৭৭২ পোলিং অফিসার। এছাড়াও অতিরিক্ত ৫ শতাংশসহ ১৬ হাজার ১৬৩ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে থাকবে ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথ। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার চসিক নির্বাচনে ভোটার ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৩ ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৯ জন।

নির্বাচনী মেয়র পদে আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মেয়র প্রার্থী ৭ জন। এছাড়া ১৬৩ জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ৫৬ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘চসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বচনে বিজিবিসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন