সেরামের ৫০ লাখ টিকা আসছে আজ
jugantor
সেরামের ৫০ লাখ টিকা আসছে আজ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির প্রথম চালানের ৫০ লাখ করোনা টিকা দেশে আসছে আজ। সোমবার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমানে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

প্রতি কার্টনে ১২শ ভায়ালে থাকবে ১২ হাজার ডোজ টিকা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন বলেন, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে দায়দায়িত্ব কোম্পানির নেই।

সেটি সরকার দেখবে। তবে অক্সফোর্ডের এই টিকা নিয়ে পৃথিবীতে কোথাও কাউকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হাসপাতালে যেতে হয়নি। এটি সাধারণ টিকার মতোই হবে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক মার্কেটিংয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমানে দেশে আসবে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির প্রথম চালান এটি। সকাল ৮টায় ভরত থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় এই বিমান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত টিকা প্রতি কার্টনে ১২শ ভায়াল থাকবে। কোল্ড চেইন ব্যবস্থা থাকার কারণে কার্টন সর্বশেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে খোলা যাবে না।

এদিকে রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের উপহারের ২০ লাখ টিকা দেশে পৌঁছেছে।

আগামীকাল (আজ) চুক্তি অনুযায়ী আরও ৫০ লাখ টিকা দেশে আসবে। এই ৭০ লাখ দেশে রাখা ও বিতরণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের দেওয়া অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বিশ্বের সবচেয়ে সহনশীল ও কার্যকর। এটা ভারত ও ইউকেতে পরীক্ষা শেষেই দেশে এসেছে।

অন্যগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এই টিকা সবচেয়ে বেশি মানানসই। তবে যেকোনো টিকার সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতেই পারে।

তাছাড়া, বর্তমানে সরকার দেশব্যাপী ৯ ধরনের টিকা দিচ্ছে। সেখানেও ছোটখাটো কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এটা প্রয়োগে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তার জন্য স্বাস্থ্য খাতের টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টেলিমেডিসিন সেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সুতরাং সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে করোনার মতো জীবনঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে, এ ক্ষেত্রে সরকার কাউকে বল প্রয়োগ করবে না।

সবাই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে গ্রহণ করতে পারবেন। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর উপস্থিত ছিলেন।

ভারত যে দামে কিনবে আমাদেরও সেই দামেই দিতে হবে -পাপন : রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকা (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমরা চুক্তি করেছি ৪ ডলার।

কিন্তু চুক্তিতে এটিও বলা আছে ভারত যে দামে টিকা কিনবে আমাদেরও সেই দামেই দিতে হবে। তবে ভারত যদি চার ডলারের বেশি দামে কেনে আমরা সেটি দেব না।

ভারত মোট ৬০ কোটি ডোজ কিনবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ কোটি ডোজ ৩ ডলারের মতো করে কিনবে। তাই আমরাও সেই দামেই পাব।

পাপন জানান, টিকা দেশে আসার পর সেটি টঙ্গীতে আমাদের নিজস্ব ওয়্যার হাউজে রাখা হবে। তারপর এগুলো ল্যাব টেস্ট ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো বেক্সিমকোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৬৪ জেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সেরামের টিকার ব্যাপারে যে চুক্তি করেছি সেটি বিশ্বে আর কোনো দেশের সঙ্গে হয়নি।

এমন চুক্তিতে বেক্সিমকোকে সাধুবাদ জানানো উচিত। কেননা আমরা বলেছি টিকার দাম চার ডলার হবে। তবে ভারত যদি কম দামে পায় আমাদেরকেও কম দামেই দিতে হবে।

আর ভারত যদি বেশি দামে কেনে তাহলে আমরা চার ডলারের বেশি দেব না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেরাম থেকে কমিশন পাওয়াটা অবান্তর এবং অবাস্তব।

আমরা টিকা রিসিভ করব। এগুলোর জন্য নতুন করে ওয়্যার হাউজ তৈরি করা, পরিবহণের জন্য গাড়ি কেনা সব রিস্ক বেক্সিমকোর। সরকারের কোনো রিস্ক নেই।

সরকারের কাছে প্রথম দিকে অতিরিক্ত এক ডলার করে চাওয়া হয়েছিল। সরকার এতে রাজিও হয়েছে।

কিন্তু যেসব শর্ত জুড়ে দিয়েছে এতে লাভ হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নই। তবে এমন শর্তের কথা আগে জানলে হয়তো আমরা এ কাজে যেতাম না।

ভারত নাকি ২০০ রুপিতে টিকা কিনছে? এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, ভারত যদি সেই দামে কেনে আমরাও একই দামে কিনব।

এটা দেশের জন্য আরও ভালো ও খুশির সংবাদ। থাইল্যান্ড টিকা কিনছে প্রতিডোজ ৭ দশমিক ৭ ডলারে। ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশ কেউই ৫ ডলারের নিচে কিনছে না।

তাছাড়া সেই টিকা তারা পাবে অনেক দেরিতে। আর আমরা বিশ্বের একমাত্র দেশ যেটি ভারতে কেনার পরপরই টিকা কিনতে পারছে।

আপনি কবে টিকা নেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি টিকা নিলে অক্সফোর্ডেরটাই নেব। আমি টিকার জন্য ফোন করেছিলাম।

কিন্তু তারা বলেছে অন্যরা নেওয়ার ১০ দিন পরে নেন। কারণ আমি কিছু ওষুধ খাচ্ছি। তাই এই মুহূর্তে টিকা না নেওয়াই ভালো। তবে আমি ৪-৫ দিন পরই নেব।

সেরামের ৫০ লাখ টিকা আসছে আজ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির প্রথম চালানের ৫০ লাখ করোনা টিকা দেশে আসছে আজ। সোমবার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমানে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

প্রতি কার্টনে ১২শ ভায়ালে থাকবে ১২ হাজার ডোজ টিকা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন বলেন, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে দায়দায়িত্ব কোম্পানির নেই।

সেটি সরকার দেখবে। তবে অক্সফোর্ডের এই টিকা নিয়ে পৃথিবীতে কোথাও কাউকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হাসপাতালে যেতে হয়নি। এটি সাধারণ টিকার মতোই হবে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক মার্কেটিংয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমানে দেশে আসবে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির প্রথম চালান এটি। সকাল ৮টায় ভরত থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় এই বিমান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত টিকা প্রতি কার্টনে ১২শ ভায়াল থাকবে। কোল্ড চেইন ব্যবস্থা থাকার কারণে কার্টন সর্বশেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে খোলা যাবে না। 

এদিকে রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের উপহারের ২০ লাখ টিকা দেশে পৌঁছেছে।

আগামীকাল (আজ) চুক্তি অনুযায়ী আরও ৫০ লাখ টিকা দেশে আসবে। এই ৭০ লাখ দেশে রাখা ও বিতরণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের দেওয়া অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বিশ্বের সবচেয়ে সহনশীল ও কার্যকর। এটা ভারত ও ইউকেতে পরীক্ষা শেষেই দেশে এসেছে।

অন্যগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এই টিকা সবচেয়ে বেশি মানানসই। তবে যেকোনো টিকার সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতেই পারে।

তাছাড়া, বর্তমানে সরকার দেশব্যাপী ৯ ধরনের টিকা দিচ্ছে। সেখানেও ছোটখাটো কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এটা প্রয়োগে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তার জন্য স্বাস্থ্য খাতের টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টেলিমেডিসিন সেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সুতরাং সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে করোনার মতো জীবনঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে, এ ক্ষেত্রে সরকার কাউকে বল প্রয়োগ করবে না।

সবাই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে গ্রহণ করতে পারবেন। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর উপস্থিত ছিলেন। 

ভারত যে দামে কিনবে আমাদেরও সেই দামেই দিতে হবে -পাপন : রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকা (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমরা চুক্তি করেছি ৪ ডলার।

কিন্তু চুক্তিতে এটিও বলা আছে ভারত যে দামে টিকা কিনবে আমাদেরও সেই দামেই দিতে হবে। তবে ভারত যদি চার ডলারের বেশি দামে কেনে আমরা সেটি দেব না।

ভারত মোট ৬০ কোটি ডোজ কিনবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ কোটি ডোজ ৩ ডলারের মতো করে কিনবে। তাই আমরাও সেই দামেই পাব। 

পাপন জানান, টিকা দেশে আসার পর সেটি টঙ্গীতে আমাদের নিজস্ব ওয়্যার হাউজে রাখা হবে। তারপর এগুলো ল্যাব টেস্ট ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো বেক্সিমকোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৬৪ জেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সেরামের টিকার ব্যাপারে যে চুক্তি করেছি সেটি বিশ্বে আর কোনো দেশের সঙ্গে হয়নি।

এমন চুক্তিতে বেক্সিমকোকে সাধুবাদ জানানো উচিত। কেননা আমরা বলেছি টিকার দাম চার ডলার হবে। তবে ভারত যদি কম দামে পায় আমাদেরকেও কম দামেই দিতে হবে।

আর ভারত যদি বেশি দামে কেনে তাহলে আমরা চার ডলারের বেশি দেব না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেরাম থেকে কমিশন পাওয়াটা অবান্তর এবং অবাস্তব।

আমরা টিকা রিসিভ করব। এগুলোর জন্য নতুন করে ওয়্যার হাউজ তৈরি করা, পরিবহণের জন্য গাড়ি কেনা সব রিস্ক বেক্সিমকোর। সরকারের কোনো রিস্ক নেই।

সরকারের কাছে প্রথম দিকে অতিরিক্ত এক ডলার করে চাওয়া হয়েছিল। সরকার এতে রাজিও হয়েছে।

কিন্তু যেসব শর্ত জুড়ে দিয়েছে এতে লাভ হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নই। তবে এমন শর্তের কথা আগে জানলে হয়তো আমরা এ কাজে যেতাম না। 

ভারত নাকি ২০০ রুপিতে টিকা কিনছে? এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, ভারত যদি সেই দামে কেনে আমরাও একই দামে কিনব।

এটা দেশের জন্য আরও ভালো ও খুশির সংবাদ। থাইল্যান্ড টিকা কিনছে প্রতিডোজ ৭ দশমিক ৭ ডলারে। ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশ কেউই ৫ ডলারের নিচে কিনছে না।

তাছাড়া সেই টিকা তারা পাবে অনেক দেরিতে। আর আমরা বিশ্বের একমাত্র দেশ যেটি ভারতে কেনার পরপরই টিকা কিনতে পারছে।

আপনি কবে টিকা নেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি টিকা নিলে অক্সফোর্ডেরটাই নেব। আমি টিকার জন্য ফোন করেছিলাম।

কিন্তু তারা বলেছে অন্যরা নেওয়ার ১০ দিন পরে নেন। কারণ আমি কিছু ওষুধ খাচ্ছি। তাই এই মুহূর্তে টিকা না নেওয়াই ভালো। তবে আমি ৪-৫ দিন পরই নেব।