পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ২
jugantor
পিকে হালদারের দুর্নীতি
পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ২

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ২

প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারকে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সন্ধ্যায় তাদের রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়।

দুদক জানায়, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে আর্থিক খাতের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অনুসন্ধান করতে গিয়ে উজ্জ্বল ও রাশেদুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ দুজনের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এর আগে ২১ জানুয়ারি ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের মামলায় পিকে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করে দুদক। ওই দিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে তিন দিন করে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া ১৩ জানুয়ারি তার আরেক সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে দুদক টিম। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ৪ জানুয়ারি পিকে হালদারের সহযোগী শংখ ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় অংশ তিনি কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি নানা কৌশলে এবং নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে নেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে তিনি অন্তত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। কোম্পানিগুলো হলো-ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, লিজিং কোম্পানির অর্থ লোপাটকারী পিকে হালদার কানাডার টরেন্টোতে বিলাসী জীবনযাবন করছেন। সেখানে তিনি বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। ওই দেশ থেকে তিনি মাঝেমধ্যে দুবাই ও ভারতে বেড়াতে যান।

২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসির উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন পিকে হালদার। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হন। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিনি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন। দেশ থেকে টাকা জালিয়াতির পর ২০১৮ সালে দুই ভাই মিলে ভারতে হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে কোম্পানি খোলেন। কলকাতার মহাজাতি সদনে তাদের কার্যালয়। আর ২০১৪ সালে কানাডায় পি অ্যান্ড এল হাল হোল্ডিং ইনক নামে কোম্পানি খোলা হয়। এর পরিচালক হলেন পিকে হালদার, ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা।

পিকে হালদারের দুর্নীতি

পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ২

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ২
উজ্জ্বল কুমার নন্দী। ফাইল ছবি

প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারকে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সন্ধ্যায় তাদের রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়।

দুদক জানায়, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে আর্থিক খাতের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অনুসন্ধান করতে গিয়ে উজ্জ্বল ও রাশেদুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ দুজনের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এর আগে ২১ জানুয়ারি ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের মামলায় পিকে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করে দুদক। ওই দিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে তিন দিন করে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া ১৩ জানুয়ারি তার আরেক সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে দুদক টিম। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ৪ জানুয়ারি পিকে হালদারের সহযোগী শংখ ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় অংশ তিনি কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি নানা কৌশলে এবং নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে নেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে তিনি অন্তত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। কোম্পানিগুলো হলো-ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, লিজিং কোম্পানির অর্থ লোপাটকারী পিকে হালদার কানাডার টরেন্টোতে বিলাসী জীবনযাবন করছেন। সেখানে তিনি বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। ওই দেশ থেকে তিনি মাঝেমধ্যে দুবাই ও ভারতে বেড়াতে যান।

২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসির উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন পিকে হালদার। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হন। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিনি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন। দেশ থেকে টাকা জালিয়াতির পর ২০১৮ সালে দুই ভাই মিলে ভারতে হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে কোম্পানি খোলেন। কলকাতার মহাজাতি সদনে তাদের কার্যালয়। আর ২০১৪ সালে কানাডায় পি অ্যান্ড এল হাল হোল্ডিং ইনক নামে কোম্পানি খোলা হয়। এর পরিচালক হলেন পিকে হালদার, ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা।