দিনাজপুরে লাগামহীন চালের বাজার
jugantor
দিনাজপুরে লাগামহীন চালের বাজার

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার শুল্ক কমিয়ে আমদানির ব্যবস্থা করলেও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের জেলা দিনাজপুরে আবারও চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা। আর এক থেকে দেড় মাসে বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা। কৃষকের কাছে ধান না থাকায় এখন মিল মালিকরা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক ও আমদানিকারকরা।

দিনাজপুরের বাহাদুরবাজারে গতকাল দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৮ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়, বিআর-২৮ জাতের চাল ৫৪ থেকে বেড়ে ৫৮ টাকায়, গুটিস্বর্ণ ৪৮ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। আর ৫০ কেজির প্রতিবস্তা চালের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের অন্যান্য স্থানের মতো দিনাজপুরেও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত এক থেকে দেড় মাসে দিনাজপুরে মোটা জাতের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা। বাড়তি দামের ব্যাপারে চাল বিক্রেতারা বরাবরের মতোই দুষছেন মিল মালিকদের।

মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, এখন ধান রয়েছে মিল মালিকদের হাতে। বেশি দামের আশায় কৃষকরা ধান ধরে রেখেছেন এবং বাড়তি দামে তারা বিক্রি করছেন। ধানের দাম বেশি থাকলে চালের দামও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

কৃষকরা জানান, বরাবরের মতো এবারও তারা আমন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের কৃষক প্রদীপ কুমার রায় জানান, প্রতি মৌসুমে তারা ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করেন এবং আগামী ফসল উৎপাদনের খরচ জোগান দিয়ে থাকেন। এবারও আমন বিক্রি করে তা করেছেন। তাই কৃষকদের কাছে এখন কোনো ধান নেই। ধান থাকলে মিল মালিকদের কাছেই রয়েছে।

সূত্র জানায়, কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মজুদ রেখেছে মিল মালিকরা। আর তারাই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে চালের বাজার। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ জেলায় আমন মৌসুমে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। যাতে চাল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টন।

দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ মিল মালিক হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এ জন্য সরকারের আমন সংগ্রহ অভিযানেও তারা অংশ নিতে পারেননি। ধানের দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ চালকল মালিকই চাল তৈরি করছেন না। তাই তাদের দাম বৃদ্ধির তেমন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে দুদফা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। দাম বেড়ে থাকলে আমদানিকারকরাই তা বৃদ্ধি করেছেন। কারণ বর্তমানে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন আমদানিকারকরা।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, বাজারে মোট চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এই চাল দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব বাজারেও পড়ছে না। তিনি বলেন, বাকি ৯৫ শতাংশ চাল রয়েছে মিল মালিকদের কাছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে তা মিল মালিকরাই করছেন। তিনি বলেন, মিল মালিকরা তাকিয়ে আছে বিদেশ থেকে কী পরিমাণ চাল আমদানি হচ্ছে তার ওপর। আমদানি কম বা বেশি হলে, তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।

দিনাজপুরে লাগামহীন চালের বাজার

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার শুল্ক কমিয়ে আমদানির ব্যবস্থা করলেও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের জেলা দিনাজপুরে আবারও চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা। আর এক থেকে দেড় মাসে বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা। কৃষকের কাছে ধান না থাকায় এখন মিল মালিকরা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক ও আমদানিকারকরা।

দিনাজপুরের বাহাদুরবাজারে গতকাল দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৮ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়, বিআর-২৮ জাতের চাল ৫৪ থেকে বেড়ে ৫৮ টাকায়, গুটিস্বর্ণ ৪৮ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। আর ৫০ কেজির প্রতিবস্তা চালের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের অন্যান্য স্থানের মতো দিনাজপুরেও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত এক থেকে দেড় মাসে দিনাজপুরে মোটা জাতের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা। বাড়তি দামের ব্যাপারে চাল বিক্রেতারা বরাবরের মতোই দুষছেন মিল মালিকদের।

মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, এখন ধান রয়েছে মিল মালিকদের হাতে। বেশি দামের আশায় কৃষকরা ধান ধরে রেখেছেন এবং বাড়তি দামে তারা বিক্রি করছেন। ধানের দাম বেশি থাকলে চালের দামও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

কৃষকরা জানান, বরাবরের মতো এবারও তারা আমন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের কৃষক প্রদীপ কুমার রায় জানান, প্রতি মৌসুমে তারা ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করেন এবং আগামী ফসল উৎপাদনের খরচ জোগান দিয়ে থাকেন। এবারও আমন বিক্রি করে তা করেছেন। তাই কৃষকদের কাছে এখন কোনো ধান নেই। ধান থাকলে মিল মালিকদের কাছেই রয়েছে।

সূত্র জানায়, কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মজুদ রেখেছে মিল মালিকরা। আর তারাই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে চালের বাজার। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ জেলায় আমন মৌসুমে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। যাতে চাল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টন।

দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ মিল মালিক হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এ জন্য সরকারের আমন সংগ্রহ অভিযানেও তারা অংশ নিতে পারেননি। ধানের দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ চালকল মালিকই চাল তৈরি করছেন না। তাই তাদের দাম বৃদ্ধির তেমন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে দুদফা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। দাম বেড়ে থাকলে আমদানিকারকরাই তা বৃদ্ধি করেছেন। কারণ বর্তমানে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন আমদানিকারকরা।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, বাজারে মোট চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এই চাল দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব বাজারেও পড়ছে না। তিনি বলেন, বাকি ৯৫ শতাংশ চাল রয়েছে মিল মালিকদের কাছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে তা মিল মালিকরাই করছেন। তিনি বলেন, মিল মালিকরা তাকিয়ে আছে বিদেশ থেকে কী পরিমাণ চাল আমদানি হচ্ছে তার ওপর। আমদানি কম বা বেশি হলে, তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন