স্মৃতির মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধা
jugantor
অমর একুশে পালিত
স্মৃতির মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধা

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শহিদ মিনার

বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সারা বিশ্বে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে পালিত হয়েছে মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একই সঙ্গে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে একুশের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন সর্বস্তরের মানুষ। রোববার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ সারা দেশে মিনারে মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করেছে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের। এদিন ধর্ম-বর্ণ ভুলে শহিদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছে। তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে ছেয়ে গেছে স্মৃতির মিনার।
হাতে হাতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ দেশি-বিদেশি ফুল নিয়ে ভোরেই পথে নামে মানুষ। শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সব জায়গায় এদিন সব পথ মিশে গিয়েছিল স্মৃতির মিনারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ- কেউ ব্যক্তিগতভাবে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বা সংগঠনের সহকর্মীদের নিয়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। নগ্ন পায়ে সারি সারি মানুষ হেঁটেছেন পথে পথে, গেয়েছেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ মিনারে মিনারে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়াও দিনটি পালনে ছিল নানা আয়োজন। ছিল ফাতেহা পাঠ, কোরআনখানি, বিশেষ প্রার্থনা, আলোচনা সভা, সেমিনার, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এছাড়া এদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। শনিবার রাত ১১টার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আশপাশে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। কারও পরনে কালো পোশাক, কারও বুকে কালো ব্যাজ। কী শাড়ি আর পাঞ্জাবি- কোনোটিতে বর্ণমালাখচিত আবার কোনোটিতে ভাষাশহিদদের নাম-ছবি। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহিদ মিনারে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এর অংশ হিসাবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রবেশে প্রতিটি সংগঠনের সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তিপর্যায়ে একসঙ্গে ২ জনকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরামর্শটি যথাযথভাবে পালিত হয়নি। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালিত হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাউদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পৌঁছলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাদের স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও অন্য দেশি-বিদেশি অতিথিদের।
মানুষের ঢল, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি : প্রথম প্রহর থেকেই শহিদ মিনারে ছিল নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড়। তবে রাত গভীর হলে তা কিছুটা কমে। এরপর সকালে প্রভাতফেরিতে মানুষের ঢল নামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের অদূরে পলাশীর মোড়ে জড়ো হন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি শেষে তারা সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে অনেকেই একসঙ্গে পাঁচজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সরকারি নির্দেশনা মানেননি। মাস্কও সঠিকভাবে পরা ছিল না অনেকের। কারা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তা জানাতে পলাশীর মোড়ের অদূরে ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়।
অচিরেই সুপ্রিমকোর্টের সব রায় বাংলায় : রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, গত ডিসেম্বরে আমরা একটি সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু করেছি। যার ফলে সুপ্রিমকোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব। তিনি বলেন, অচিরেই সুপ্রিমকোর্টের রায় বাংলায় দেওয়া হবে। যার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করেছি। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের আশাবাদ : সরকারি সব দপ্তর-সংস্থার সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন একেএম নুরুল হুদা। রোববার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই তাদের তিনটি নীতিমালা ইংরেজি থেকে বাংলায় করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, সরকারি সব প্রতিষ্ঠান-সংস্থা তাদের নীতিমালা বাংলায় নিয়ে আসবে।
রোববার প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দুই সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুরু হয় অন্যদের পালা। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে শহিদবেদিতে ফুল দেন জাতীয় সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমোডর এমএম নাঈম রহমান। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডীলর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।
আলাদাভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বে দলটির নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। এরপর একে একে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
ফুলেল শ্রদ্ধা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহতম উল্লাহসহ সমিতির নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদের নেতৃত্বে নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য প্রতিনিধি, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।
এছাড়া শ্রদ্ধা জানান- ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষে ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু), জাতীয় পার্টি (জেপি), গণফোরাম, বিকল্পধারা, জেএসডি, ন্যাপ, বাংলা একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, আনসার বাহিনী, বাংলাদেশ জেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল, সলিমুল্লহ মুসলিম হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ন্যাপ, বাম ঐক্যফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী নেতারা। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. সোহরাব হোসেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আকতার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি মিজান মালিকের নেতৃত্বে, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি মামুন ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হৃদয়ের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশান, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, বাংলাদেশ হকার্স লীগ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাত সাড়ে ১২টার পর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহিদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন : অমর একুশে ফেব্র“য়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রোববার প্রথম প্রহরের পর সকালে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহিদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষক লীগ, চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে আওয়ামী যুবলীগ, সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
ভাষা শহিদদের প্রতি জাতীয় পার্র্টির শ্রদ্ধা : ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। একুশের প্রথম প্রহরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জাতীয় পার্টি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব এবং যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।
বিএনপির শ্রদ্ধাজ্ঞাপন : সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামীমুর রহমান শামীম, নাজিম উদ্দিন আলম, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
ভাষা শহিদদের জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে ভাষা শহিদদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, কোরআন খতম, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একডেমি ও সব অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলাচর্চার আহ্বান মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরার : নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলাচর্চা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তোমরাই মূল ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রজন্মের কাছে আশা করি তোমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িকতায় বেড়ে উঠবে। এটাই হবে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মতৃভাষা দিবসের অঙ্গীকার। রোববার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত শিশু একাডেমির মিলনায়তনে ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাবি ভিসির শ্রদ্ধার্ঘ্য : শুদ্ধ ভাষার বিকাশে পাঁচমিশালি চটকদার ভাষা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। রোববার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন বিশ্ব সংস্কৃতির ভান্ডারে প্রবেশ করছে তরুণ প্রন্ম । যার কারণে নানা ভাষার মিশেল হচ্ছে। এগুলো ভাষার বিকাশে বাধা। তিনি বলেন, পরিশীলিত, পরিমার্জিত ও পরিশুদ্ধ ভাষার প্রচলন জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটের পর এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতারা মহান ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তবে করোনার কারণে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করেছে অধিকাংশ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
বিকল্প ধারার শ্রদ্ধা নিবেদন : কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিকল্প ধারা। দলটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং দলের পক্ষে প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মহসিন চৌধুরী, সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান মৃধা, যুবধারার সভাপতি আসাদুজ্জামান বাচ্চু, বিকল্প ধারা ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ড. আবু নোমান প্রমুখ।
জাপানি রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা বার্তা : শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এক শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নোয়াকি। বার্তায় তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালন করছি সেই দেশ থেকে, যেখানে এর জন্ম । যেহেতু ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছে, সেদিক থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ৬০ বছর আগে এদেশের যেসব সাহসী পুরুষ ও নারী তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদেরকে জাপানের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা।
এফবিসিসিআই-এর শ্রদ্ধা : একুশে ফেব্র“য়ারির প্রথম প্রহরে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন রাজেশ, পরিচালক সুজিব রঞ্জন দাস, মো. মুনির হোসাইন প্রমুখ।
এবি পার্টি : অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে এপি পার্টি। এ উপলক্ষ্যে সংগঠনের নেতারা আলোচনাসভা, কবিতা পাঠ ও শহিদদের জন্য দোয়ার আয়োজন করেন। এতে এবি পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
বেরাইদ গণপাঠাগারের বর্ণমালা লিখন প্রতিযোগিতা : মহান ২১ ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে রোববার শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা বর্ণমালা লিখন, সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন, রচনা, কবিতা আবৃত্তি, হাম্দ-নাত-গজল, সাধারণজ্ঞান প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা এবং দোয়ার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার আন্দোলন ও বেরাইদ গণপাঠাগার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রন্থাগার সংগঠক এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া।
জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার দাবি : জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বিএসএএফ) নামে সামাজিক সংগঠন। রোববার ২১ ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক পথসভা ও র‌্যালি থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন : ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের উদ্যোগে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. আমিনুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান।

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর

অমর একুশে পালিত

স্মৃতির মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধা

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শহিদ মিনার
মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রোববার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার ফুল দিয়ে আলপনা আঁকছেন বিএনসিসির সদস্যরা যুগান্তর

বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সারা বিশ্বে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে পালিত হয়েছে মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একই সঙ্গে প্রজন্ম  থেকে প্রজন্মে একুশের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন সর্বস্তরের মানুষ। রোববার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ সারা দেশে মিনারে মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করেছে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের। এদিন ধর্ম-বর্ণ ভুলে শহিদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছে। তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে ছেয়ে গেছে স্মৃতির মিনার।   
হাতে হাতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ দেশি-বিদেশি ফুল নিয়ে ভোরেই পথে নামে মানুষ। শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সব জায়গায় এদিন সব পথ মিশে গিয়েছিল স্মৃতির মিনারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ- কেউ ব্যক্তিগতভাবে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বা সংগঠনের সহকর্মীদের নিয়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। নগ্ন পায়ে সারি সারি মানুষ হেঁটেছেন পথে পথে, গেয়েছেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ মিনারে মিনারে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়াও দিনটি পালনে ছিল নানা আয়োজন। ছিল ফাতেহা পাঠ, কোরআনখানি, বিশেষ প্রার্থনা, আলোচনা সভা, সেমিনার, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এছাড়া এদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। শনিবার রাত ১১টার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আশপাশে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। কারও পরনে কালো পোশাক, কারও বুকে কালো ব্যাজ। কী শাড়ি আর পাঞ্জাবি- কোনোটিতে বর্ণমালাখচিত আবার কোনোটিতে ভাষাশহিদদের নাম-ছবি। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহিদ মিনারে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এর অংশ হিসাবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রবেশে প্রতিটি সংগঠনের সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তিপর্যায়ে একসঙ্গে ২ জনকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরামর্শটি যথাযথভাবে পালিত হয়নি। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালিত হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাউদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পৌঁছলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাদের স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও অন্য দেশি-বিদেশি অতিথিদের।
মানুষের ঢল, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি : প্রথম প্রহর থেকেই শহিদ মিনারে ছিল নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড়। তবে রাত গভীর হলে তা কিছুটা কমে। এরপর সকালে প্রভাতফেরিতে মানুষের ঢল নামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের অদূরে পলাশীর মোড়ে জড়ো হন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি শেষে তারা সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে অনেকেই একসঙ্গে পাঁচজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সরকারি নির্দেশনা মানেননি। মাস্কও সঠিকভাবে পরা ছিল না অনেকের। কারা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তা জানাতে পলাশীর মোড়ের অদূরে ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়।
অচিরেই সুপ্রিমকোর্টের সব রায় বাংলায় : রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, গত ডিসেম্বরে আমরা একটি সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু করেছি। যার ফলে সুপ্রিমকোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব। তিনি বলেন, অচিরেই সুপ্রিমকোর্টের রায় বাংলায় দেওয়া হবে। যার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করেছি। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের আশাবাদ : সরকারি সব দপ্তর-সংস্থার সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন একেএম নুরুল হুদা। রোববার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই তাদের তিনটি নীতিমালা ইংরেজি থেকে বাংলায় করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, সরকারি সব প্রতিষ্ঠান-সংস্থা তাদের নীতিমালা বাংলায় নিয়ে আসবে।
রোববার প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দুই সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুরু হয় অন্যদের পালা। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে শহিদবেদিতে ফুল দেন জাতীয় সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমোডর এমএম নাঈম রহমান। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডীলর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।
আলাদাভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বে দলটির নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। এরপর একে একে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
ফুলেল শ্রদ্ধা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহতম উল্লাহসহ সমিতির নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদের নেতৃত্বে নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য প্রতিনিধি, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।
এছাড়া শ্রদ্ধা জানান- ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষে ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু), জাতীয় পার্টি (জেপি), গণফোরাম, বিকল্পধারা, জেএসডি, ন্যাপ, বাংলা একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, আনসার বাহিনী, বাংলাদেশ জেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল, সলিমুল্লহ মুসলিম হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ন্যাপ, বাম ঐক্যফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী নেতারা। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. সোহরাব হোসেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আকতার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি মিজান মালিকের নেতৃত্বে, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি মামুন ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হৃদয়ের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশান, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, বাংলাদেশ হকার্স লীগ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাত সাড়ে ১২টার পর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহিদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন : অমর একুশে ফেব্র“য়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রোববার প্রথম প্রহরের পর সকালে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহিদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষক লীগ, চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে আওয়ামী যুবলীগ, সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
ভাষা শহিদদের প্রতি জাতীয় পার্র্টির শ্রদ্ধা : ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। একুশের প্রথম প্রহরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জাতীয় পার্টি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব এবং যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।
বিএনপির শ্রদ্ধাজ্ঞাপন : সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামীমুর রহমান শামীম, নাজিম উদ্দিন আলম, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
ভাষা শহিদদের জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে ভাষা শহিদদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, কোরআন খতম, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একডেমি ও সব অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলাচর্চার আহ্বান মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরার : নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলাচর্চা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তোমরাই মূল ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রজন্মের কাছে আশা করি তোমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িকতায় বেড়ে উঠবে। এটাই হবে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মতৃভাষা দিবসের অঙ্গীকার। রোববার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত শিশু একাডেমির মিলনায়তনে ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাবি ভিসির শ্রদ্ধার্ঘ্য : শুদ্ধ ভাষার বিকাশে পাঁচমিশালি চটকদার ভাষা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। রোববার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন বিশ্ব সংস্কৃতির ভান্ডারে প্রবেশ করছে তরুণ প্রন্ম । যার কারণে নানা ভাষার মিশেল হচ্ছে। এগুলো ভাষার বিকাশে বাধা। তিনি বলেন, পরিশীলিত, পরিমার্জিত ও পরিশুদ্ধ ভাষার প্রচলন জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটের পর এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতারা মহান ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তবে করোনার কারণে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করেছে অধিকাংশ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
বিকল্প ধারার শ্রদ্ধা নিবেদন : কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিকল্প ধারা। দলটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং দলের পক্ষে প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মহসিন চৌধুরী, সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান মৃধা, যুবধারার সভাপতি আসাদুজ্জামান বাচ্চু, বিকল্প ধারা ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ড. আবু নোমান প্রমুখ।
জাপানি রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা বার্তা : শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এক শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নোয়াকি। বার্তায় তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালন করছি সেই দেশ থেকে, যেখানে এর জন্ম । যেহেতু ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছে, সেদিক থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ৬০ বছর আগে এদেশের যেসব সাহসী পুরুষ ও নারী তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদেরকে জাপানের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা।
এফবিসিসিআই-এর শ্রদ্ধা : একুশে ফেব্র“য়ারির প্রথম প্রহরে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন রাজেশ, পরিচালক সুজিব রঞ্জন দাস, মো. মুনির হোসাইন প্রমুখ।
এবি পার্টি : অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে এপি পার্টি। এ উপলক্ষ্যে সংগঠনের নেতারা আলোচনাসভা, কবিতা পাঠ ও শহিদদের জন্য দোয়ার আয়োজন করেন। এতে এবি পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
বেরাইদ গণপাঠাগারের বর্ণমালা লিখন প্রতিযোগিতা : মহান ২১ ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে রোববার শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা বর্ণমালা লিখন, সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন, রচনা, কবিতা আবৃত্তি, হাম্দ-নাত-গজল, সাধারণজ্ঞান প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা এবং দোয়ার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার আন্দোলন ও বেরাইদ গণপাঠাগার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রন্থাগার সংগঠক এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া।
জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার দাবি : জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বিএসএএফ) নামে সামাজিক সংগঠন। রোববার ২১ ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক পথসভা ও র‌্যালি থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন : ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের উদ্যোগে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. আমিনুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর