বিভক্ত আন্দোলনেও দাবি এক
jugantor
মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন
বিভক্ত আন্দোলনেও দাবি এক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চের মধ্যে আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আন্দোলনরতদের একটি অংশ সরকারি ঘোষণার পর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। অপর অংশটি আগের অবস্থানে অনড়। বিশেষ করে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়ায় তারা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং পরীক্ষা চালুর বিষয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। মঙ্গলবার দাবি আদায়ের জন্য সচিবালয় ঘেরাও করতে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। ঢাকাসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এ লক্ষ্যে আলটিমেটাম দিয়েছে। মার্চের মধ্যে খুলে না দিলে যে কোনোভাবে হলে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে হলে থাকছেন। তার রাতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থানের জন্য মিছিল বের করলে প্রশাসন বাধা দেয়। ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোও মার্চের মধ্যে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিভক্তি আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে না বলে করেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অপর অংশের মতো দীর্ঘ ১৪ মাস পর তারা জানাতে পেরেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কবে নাগাদ খুলছে। এতে তারা খুশি। কাজেই অংশটির শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে যারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাদের দাবির সঙ্গে এ অংশটি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও হল খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দীর্ঘ ১৪ মাস হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই নতুন করে আর অপেক্ষায় রাজি নন। মার্চেই হলে উঠতে চান তারা। এদের দাবি, করোনাভাইরাস মহামারিতে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই ২৪ মে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৭ মে হল খোলার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। দ্রুত পরীক্ষার দাবি জানান। তারা বলেন পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ায় সেশনজট বাড়তে পারে।
এদিকে ক্যাম্পাস খোলার তারিখ ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলমান ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ১৩ মার্চ আবাসিক হল খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে ১৭ মে থেকে আবাসিক হল খোলার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থগিত করা হয়েছে চলমান ছাড়া সব পরীক্ষা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ২৩টি বিভাগের চলমান পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে আটকে গেছে ৫৮টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সব ধরনের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, ২৪ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো পরীক্ষা হবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে।
হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসভেদে পৃথক চিত্র দেখা গেছে। হল খুলতে সোমবার দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম অব্যাহত রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা হলে থাকতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩ মাস পর হলে ওঠার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১ মার্চের মধ্যে না খুললে যে কোনো মূল্যে হলে ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। হল খোলার দাবিতে সচিবালয়ের গেটে বিক্ষোভ করে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
ঢাবিতে আলটিমেটাম শেষে নতুন কর্মসূচি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টা পর আজ নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর ছাত্রলীগ ছাড়া অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মার্চের শুরুতে আবাসিক হল খোলার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নতুন সিদ্ধান্ত ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, যখন কোনো অতিমারী হয়, তখন এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া জাতির জন্য হুমকি। সেটি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। মূলত ‘অতিমারীর নিয়ম-কানুন’ সেটা সমর্থন করে না। এটার একটা প্রটোকল আছে। বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সেই প্রটোকল সমর্থন করে না। ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অবস্থায় কতদিনের মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা দিতে হবে, সভায় বিশেষজ্ঞ সদস্যরা সে ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রথম ডোজের ৪ সপ্তাহ পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তখন শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারে। সে কারণে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যেন ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়। তাহলে ১৭ মে শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো যাবে। আমরা সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার অনুরোধ করব।
পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে বলেন, ১৩ মার্চকে সামনে রেখে যেসব বড় বড় পরীক্ষার রুটিন করা হয়েছিল, সেগুলো স্থগিত করা হলো। কারণ সেগুলো শিক্ষার্থীদের হলের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কেন্দ্রীয়ভাবে বড় কোনো পরীক্ষা এ মুহূর্তে নেব না। শিক্ষার্থীদের সম্মতি, সামর্থ্য ও সুরক্ষা লাগবে।
এদিকে ঢাবির একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পর হল খোলার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক জুনায়েদ হোসাইন খান যুগান্তরকে বলেন, আমরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি এবং ৭২ ঘণ্টা পর্যন্তই অপেক্ষা করব। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সভা আছে, এটাও আমরা পর্যবেক্ষণ করব। এরপর ৭২ ঘণ্টা শেষ হলে আমাদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।
জাবি শিক্ষার্থীরা হল ছাড়বে না : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ছাড়তে নারাজি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত ৪টি হলের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের তৎপরতায় হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাবিতে সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লাসের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে হলে থাকার দাবিতে আন্দোলনকারীরা এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এখন হল ছাড়তে রাজি নই। আমরা হলেই থাকতে চাই। এজন্য আন্দোলন করতে হলে আমরা সেটা অব্যাহত রাখব। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে পূর্বঘোষিত দুপুর ১২টার বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি বৈঠকের পর আবারও আন্দোলন চলিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
মঙ্গলবার বিকালে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে দুটি হলের ফটক সিলগালা করা হয়েছে। বাকি হলগুলোয় শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আর অনুরোধ নয়। বাকিটা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দেখবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলবে আন্দোলন : চলমান পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান ও ১ মার্চের মধ্যে হল না খুললে যে কোনো মূল্যে হলে ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের পর স্থগিত পরীক্ষা চালু করার দাবিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত। তবে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে পারছি না।’ স্থগিত পরীক্ষা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিলে আমি এ ব্যাপারে ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে চলমান পরীক্ষা চালু করে দেব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জিকে সাদিক। এ সময় তিনি বলেন, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো করোনা সংক্রমণের দোহাই দিয়ে হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে চাইছে না। কিন্তু সারা দেশের সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সব ধরনের গণজমায়েত চলছে। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণও সর্বনিম্নে চলে এসেছে এবং ভ্যাকসিনও চলে এসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, ১৭ মে হল ও ২৪ মে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দ্রুত হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। আমরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি।
আটকে গেছে কুবির ৫৮ সেমিস্টারের পরীক্ষা : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনের চলমান চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে আটকে গেছে ৫৮টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এতে ফের ভয়াবহ সেশনজটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সর্বত্র স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও হঠাৎ করেই চলমান পরীক্ষা বন্ধ করা অযৌক্তিক। মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে ডিন ও প্রভোস্টদের এক সভায় চলমান সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কুবি প্রশাসন।
রাবির চলমান পরীক্ষা স্থগিত : পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চলমান সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান। এদিকে ১৭ মে হল খুলবে-শিক্ষামন্ত্রীর এ নির্দেশের পর হল খোলার আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সচিবালয়ের গেটে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মঙ্গলবার মানববন্ধনের একপর্যায়ে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওর ঘোষণা দেন। পরে সেখান থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের দিকে এগিয়ে যান। এতে পুলিশ বাধা দিলে তারা সেখানেই সমাবেশ করেন। এ সময় সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের যানবাহন এবং দর্শনার্থী প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মার্চে হল খোলার দাবি ছাত্রলীগ ছাড়া সব সংগঠনের : এদিকে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ প্রায় সব ছাত্র সংগঠন মার্চের মধ্যে হল খোলার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, আমাদের অনুরোধ ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হল খোলা। পরবর্তী সময়ে রমজান, ঈদ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মে মাসে সেটি খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। ১৭ মে ছাত্রলীগ হলে উঠবে।

মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন

বিভক্ত আন্দোলনেও দাবি এক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চের মধ্যে আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আন্দোলনরতদের একটি অংশ সরকারি ঘোষণার পর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। অপর অংশটি আগের অবস্থানে অনড়। বিশেষ করে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়ায় তারা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং পরীক্ষা চালুর বিষয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। মঙ্গলবার দাবি আদায়ের জন্য সচিবালয় ঘেরাও করতে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। ঢাকাসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এ লক্ষ্যে আলটিমেটাম দিয়েছে। মার্চের মধ্যে খুলে না দিলে যে কোনোভাবে হলে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে হলে থাকছেন। তার রাতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থানের জন্য মিছিল বের করলে প্রশাসন বাধা দেয়। ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোও মার্চের মধ্যে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিভক্তি আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে না বলে করেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অপর অংশের মতো দীর্ঘ ১৪ মাস পর তারা জানাতে পেরেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কবে নাগাদ খুলছে। এতে তারা খুশি। কাজেই অংশটির শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে  যারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাদের দাবির সঙ্গে এ অংশটি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও হল খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দীর্ঘ ১৪ মাস হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই নতুন করে আর অপেক্ষায় রাজি নন। মার্চেই হলে উঠতে চান তারা। এদের দাবি, করোনাভাইরাস মহামারিতে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই ২৪ মে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৭ মে হল খোলার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। দ্রুত পরীক্ষার দাবি জানান। তারা বলেন পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ায় সেশনজট বাড়তে পারে।
এদিকে ক্যাম্পাস খোলার তারিখ ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলমান ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ১৩ মার্চ আবাসিক হল খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে ১৭ মে থেকে আবাসিক হল খোলার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থগিত করা হয়েছে চলমান ছাড়া সব পরীক্ষা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ২৩টি বিভাগের চলমান পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে আটকে গেছে ৫৮টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সব ধরনের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, ২৪ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো পরীক্ষা হবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে।
হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসভেদে পৃথক চিত্র দেখা গেছে। হল খুলতে সোমবার দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম অব্যাহত রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা হলে থাকতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩ মাস পর হলে ওঠার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১ মার্চের মধ্যে না খুললে যে কোনো মূল্যে হলে ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। হল খোলার দাবিতে সচিবালয়ের গেটে বিক্ষোভ করে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
ঢাবিতে আলটিমেটাম শেষে নতুন কর্মসূচি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টা পর আজ নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর ছাত্রলীগ ছাড়া অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মার্চের শুরুতে আবাসিক হল খোলার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নতুন সিদ্ধান্ত ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, যখন কোনো অতিমারী হয়, তখন এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া জাতির জন্য হুমকি। সেটি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। মূলত ‘অতিমারীর নিয়ম-কানুন’ সেটা সমর্থন করে না। এটার একটা প্রটোকল আছে। বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সেই প্রটোকল সমর্থন করে না। ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অবস্থায় কতদিনের মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা দিতে হবে, সভায় বিশেষজ্ঞ সদস্যরা সে ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রথম ডোজের ৪ সপ্তাহ পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তখন শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারে। সে কারণে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যেন ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়। তাহলে ১৭ মে শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো যাবে। আমরা সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার অনুরোধ করব।
পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে বলেন, ১৩ মার্চকে সামনে রেখে যেসব বড় বড় পরীক্ষার রুটিন করা হয়েছিল, সেগুলো স্থগিত করা হলো। কারণ সেগুলো শিক্ষার্থীদের হলের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কেন্দ্রীয়ভাবে বড় কোনো পরীক্ষা এ মুহূর্তে নেব না। শিক্ষার্থীদের সম্মতি, সামর্থ্য ও সুরক্ষা লাগবে।
এদিকে ঢাবির একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পর হল খোলার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক জুনায়েদ হোসাইন খান যুগান্তরকে বলেন, আমরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি এবং ৭২ ঘণ্টা পর্যন্তই অপেক্ষা করব। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সভা আছে, এটাও আমরা পর্যবেক্ষণ করব। এরপর ৭২ ঘণ্টা শেষ হলে আমাদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।
জাবি শিক্ষার্থীরা হল ছাড়বে না : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ছাড়তে নারাজি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত ৪টি হলের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের তৎপরতায় হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাবিতে সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লাসের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে হলে থাকার দাবিতে আন্দোলনকারীরা এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এখন হল ছাড়তে রাজি নই। আমরা হলেই থাকতে চাই। এজন্য আন্দোলন করতে হলে আমরা সেটা অব্যাহত রাখব। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে পূর্বঘোষিত দুপুর ১২টার বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি বৈঠকের পর আবারও আন্দোলন চলিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
মঙ্গলবার বিকালে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে দুটি হলের ফটক সিলগালা করা হয়েছে। বাকি হলগুলোয় শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আর অনুরোধ নয়। বাকিটা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দেখবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলবে আন্দোলন : চলমান পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান ও ১ মার্চের মধ্যে হল না খুললে যে কোনো মূল্যে হলে ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের পর স্থগিত পরীক্ষা চালু করার দাবিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত। তবে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে পারছি না।’ স্থগিত পরীক্ষা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিলে আমি এ ব্যাপারে ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে চলমান পরীক্ষা চালু করে দেব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জিকে সাদিক। এ সময় তিনি বলেন, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো করোনা সংক্রমণের দোহাই দিয়ে হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে চাইছে না। কিন্তু সারা দেশের সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সব ধরনের গণজমায়েত চলছে। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণও সর্বনিম্নে চলে এসেছে এবং ভ্যাকসিনও চলে এসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, ১৭ মে হল ও ২৪ মে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দ্রুত হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। আমরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি।
আটকে গেছে কুবির ৫৮ সেমিস্টারের পরীক্ষা : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনের চলমান চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে আটকে গেছে ৫৮টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এতে ফের ভয়াবহ সেশনজটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সর্বত্র স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও হঠাৎ করেই চলমান পরীক্ষা বন্ধ করা অযৌক্তিক। মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে ডিন ও প্রভোস্টদের এক সভায় চলমান সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কুবি প্রশাসন।
রাবির চলমান পরীক্ষা স্থগিত : পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চলমান সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান। এদিকে ১৭ মে হল খুলবে-শিক্ষামন্ত্রীর এ নির্দেশের পর হল খোলার আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সচিবালয়ের গেটে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মঙ্গলবার মানববন্ধনের একপর্যায়ে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওর ঘোষণা দেন। পরে সেখান থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের দিকে এগিয়ে যান। এতে পুলিশ বাধা দিলে তারা সেখানেই  সমাবেশ করেন। এ সময় সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের যানবাহন এবং দর্শনার্থী প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মার্চে হল খোলার দাবি ছাত্রলীগ ছাড়া সব সংগঠনের : এদিকে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ প্রায় সব ছাত্র সংগঠন মার্চের মধ্যে হল খোলার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, আমাদের অনুরোধ ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হল খোলা। পরবর্তী সময়ে রমজান, ঈদ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মে মাসে সেটি খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। ১৭ মে ছাত্রলীগ হলে উঠবে।