হুমকি উপেক্ষা করে মিয়ানমারে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
jugantor
চাপ বাড়াচ্ছে পশ্চিমারা
হুমকি উপেক্ষা করে মিয়ানমারে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ হুমকি উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। সোমবার দেশটিতে অভ্যুত্থানবিরোধী সর্ববৃহৎ প্রতিবাদ-সমাবেশে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।

এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। মঙ্গলবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অপরদিকে উৎখাত হওয়া সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।

বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এ চাপ বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব সেনা সরকারকে নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপির। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়- বিক্ষোভকারীরা মানুষকে সহিংসতার দিকে উসকে দিচ্ছে।

বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের জীবন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ‘দাঙ্গা ও নৈরাজ্যে’র বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়। তবে জান্তা সরকারের হুমকি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর সোমবারই দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাইরের দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা। সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে সোমবার প্রায় অচল হয়ে পড়ে মিয়ানমার।

বন্ধ থাকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাজধানী নেপিদোতে লাখো মানুষ সমাবেশে যোগ দেয় এবং পুলিশ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও। সামরিক শাসনের অবসান ও অং সান সু চিসহ এনএলডির নেতাদের মুক্তি দাবি করেন তারা। ইয়াঙ্গুনে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা জান্তা শাসন চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও চাপ বাড়ছে : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেসব ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)।

তবে দেশটির দরিদ্র শ্রমিকদের আক্রান্ত করতে পারে এমন সব বাণিজ্য সীমিত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে ইইউ। ব্রাসেলসে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেন, আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সব অপকর্ম দেখার জন্য প্রস্তুত নই। তিনি বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।

দুই জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের : মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা হলেন- মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুং মুং কিয়াও এবং সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ এবং সামরিক বাহিনীর অন্যতম স্পেশাল অপারেশন ব্যুরোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোয়ে মিন্ট তুন।

সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। জেনারেল মিন্ট তুনের পরিচালনাধীন ব্যুরো রাজধানী নেপিদো থেকে বিভিন্ন অভিযান নিয়ন্ত্রণ করে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই তাদের পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে এবং জরুরিভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যথায় অর্থ মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনও একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন।

সামরিক বাহিনীকে ‘দমন বন্ধ করতে’ বললেন গুতেরেস : সেনা সরকারকে নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বন্দিদের মুক্তি দেওয়ারও তিনি আহ্বান জানান। সোমবার জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বার্ষিক বক্তৃতায় গুতেরেস বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে পঙ্গু হতে দেখছি, নিষ্ঠুর শক্তির ব্যবহার দেখছি। যথেচ্ছ গ্রেফতার ও বিক্ষোভ দমনের নানা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা দেখছি। কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

১ ফেব্র“য়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে প্রতিবাদ-সমাবেশ-বিক্ষোভ চলে আসছে। অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তাকে গৃহবন্দি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা এবং দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চাপ বাড়াচ্ছে পশ্চিমারা

হুমকি উপেক্ষা করে মিয়ানমারে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ হুমকি উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। সোমবার দেশটিতে অভ্যুত্থানবিরোধী সর্ববৃহৎ প্রতিবাদ-সমাবেশে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।

এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। মঙ্গলবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অপরদিকে উৎখাত হওয়া সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।

বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এ চাপ বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব সেনা সরকারকে নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপির। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়- বিক্ষোভকারীরা মানুষকে সহিংসতার দিকে উসকে দিচ্ছে।

বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের জীবন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ‘দাঙ্গা ও নৈরাজ্যে’র বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়। তবে জান্তা সরকারের হুমকি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর সোমবারই দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাইরের দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা। সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে সোমবার প্রায় অচল হয়ে পড়ে মিয়ানমার।

বন্ধ থাকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাজধানী নেপিদোতে লাখো মানুষ সমাবেশে যোগ দেয় এবং পুলিশ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও। সামরিক শাসনের অবসান ও অং সান সু চিসহ এনএলডির নেতাদের মুক্তি দাবি করেন তারা। ইয়াঙ্গুনে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা জান্তা শাসন চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও চাপ বাড়ছে : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেসব ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)।

তবে দেশটির দরিদ্র শ্রমিকদের আক্রান্ত করতে পারে এমন সব বাণিজ্য সীমিত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে ইইউ। ব্রাসেলসে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেন, আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সব অপকর্ম দেখার জন্য প্রস্তুত নই। তিনি বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।

দুই জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের : মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা হলেন- মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুং মুং কিয়াও এবং সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ এবং সামরিক বাহিনীর অন্যতম স্পেশাল অপারেশন ব্যুরোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোয়ে মিন্ট তুন।

সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। জেনারেল মিন্ট তুনের পরিচালনাধীন ব্যুরো রাজধানী নেপিদো থেকে বিভিন্ন অভিযান নিয়ন্ত্রণ করে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই তাদের পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে এবং জরুরিভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যথায় অর্থ মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনও একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন।

সামরিক বাহিনীকে ‘দমন বন্ধ করতে’ বললেন গুতেরেস : সেনা সরকারকে নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বন্দিদের মুক্তি দেওয়ারও তিনি আহ্বান জানান। সোমবার জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বার্ষিক বক্তৃতায় গুতেরেস বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে পঙ্গু হতে দেখছি, নিষ্ঠুর শক্তির ব্যবহার দেখছি। যথেচ্ছ গ্রেফতার ও বিক্ষোভ দমনের নানা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা দেখছি। কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

১ ফেব্র“য়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে প্রতিবাদ-সমাবেশ-বিক্ষোভ চলে আসছে। অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তাকে গৃহবন্দি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা এবং দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক