দুই চিকিৎসকের অব্যাহতির আদেশ বেআইনি
jugantor
অবহেলায় শিশু অহনার মৃত্যু
দুই চিকিৎসকের অব্যাহতির আদেশ বেআইনি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু অহনা মৃত্যুর মামলায় দুই চিকিৎসককে অব্যাহতি দিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া আদেশ বে-আইনি বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আদালত শিশুমৃত্যুর অভিযোগ অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার বিষয়টি আইনজীবী ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজিবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে শুনানিতে আবেদনকারী স্থপতি মির্জা শাহপার জলিলের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান। অন্যদিকে স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া।

আইনজীবী ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান বলেন, দুই চিকিৎসককে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনে জারি রুলের শুনানি শেষ হয় গত ৩ ফেব্র“য়ারি। রুলের ওপর কয়েক কার্যদিবস ধরে শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য ২৩ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনে এ রায় দেন আদালত।

তিনি আরও জানান, শিশু অহনা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট মৃত্যুবরণ করে। অহনার বাবা স্থপতি মির্জা শাহপার জলিল তার মেয়েকে বাঁচাতে চিকিৎসককে দেখান।

পরে ওই বছরের ১৫ আগস্ট দেশের প্রথিতযশা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। এক পর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে ১৭ আগস্ট তাকে ব্যাংককের সামিতিভেজ শ্রীনাকারিন শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

স্কয়ার হাসপাতালে অহনার ভিপি শান্ট অপারেশনের পর আড়াই দিনেও তারা শিশুটির ব্রেনের পোস্ট অপারেটিভ অবস্থা জানার জন্য সিটিস্ক্যান অথবা এমআরআই করেনি। অথচ অহনাকে ব্যাংককের হাসপাতালে ভর্তির পরপরই লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় তারা সিটিস্ক্যান করেছিল, যাতে অহনার দুটি ব্রেন হ্যামারেজ সংঘটনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

যদিও পরে অহনাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপের পর অহনার বাবা বুঝতে পারেন, অহনার চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় মির্জা শাহপার জলিল বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. কাজী নওশাদ উন-নবী, ডা. মো. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন ও স্কয়ার হাসপাতালকে আসামি করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করেন।

ডা. মো. মাসুদুর রহমান ওই সময় স্কয়ার হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও পিআইসিইউ কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বাদীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) তৎকালীন ভিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এই আদেশের প্রায় দেড় বছর পর সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লিখিত কারণে ভুক্তভোগী মৃত্যুর জন্য কে দায়ী বা আদৌ দায়ী কি না, তার পূর্ণাঙ্গ মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ডা. কাজী নওশাদ উন-নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বাকিদের অব্যাহতি প্রদান করেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করলে পরে তা খারিজ করে দেন আদালত। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ২০১৭ সালে একটি আবেদন করেন তিনি।

অবহেলায় শিশু অহনার মৃত্যু

দুই চিকিৎসকের অব্যাহতির আদেশ বেআইনি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু অহনা মৃত্যুর মামলায় দুই চিকিৎসককে অব্যাহতি দিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া আদেশ বে-আইনি বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আদালত শিশুমৃত্যুর অভিযোগ অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার বিষয়টি আইনজীবী ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজিবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে শুনানিতে আবেদনকারী স্থপতি মির্জা শাহপার জলিলের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান। অন্যদিকে স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া।

আইনজীবী ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান বলেন, দুই চিকিৎসককে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনে জারি রুলের শুনানি শেষ হয় গত ৩ ফেব্র“য়ারি। রুলের ওপর কয়েক কার্যদিবস ধরে শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য ২৩ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনে এ রায় দেন আদালত।

তিনি আরও জানান, শিশু অহনা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট মৃত্যুবরণ করে। অহনার বাবা স্থপতি মির্জা শাহপার জলিল তার মেয়েকে বাঁচাতে চিকিৎসককে দেখান।

পরে ওই বছরের ১৫ আগস্ট দেশের প্রথিতযশা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। এক পর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে ১৭ আগস্ট তাকে ব্যাংককের সামিতিভেজ শ্রীনাকারিন শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

স্কয়ার হাসপাতালে অহনার ভিপি শান্ট অপারেশনের পর আড়াই দিনেও তারা শিশুটির ব্রেনের পোস্ট অপারেটিভ অবস্থা জানার জন্য সিটিস্ক্যান অথবা এমআরআই করেনি। অথচ অহনাকে ব্যাংককের হাসপাতালে ভর্তির পরপরই লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় তারা সিটিস্ক্যান করেছিল, যাতে অহনার দুটি ব্রেন হ্যামারেজ সংঘটনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

যদিও পরে অহনাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপের পর অহনার বাবা বুঝতে পারেন, অহনার চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় মির্জা শাহপার জলিল বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. কাজী নওশাদ উন-নবী, ডা. মো. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন ও স্কয়ার হাসপাতালকে আসামি করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করেন।

ডা. মো. মাসুদুর রহমান ওই সময় স্কয়ার হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও পিআইসিইউ কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বাদীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) তৎকালীন ভিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এই আদেশের প্রায় দেড় বছর পর সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লিখিত কারণে ভুক্তভোগী মৃত্যুর জন্য কে দায়ী বা আদৌ দায়ী কি না, তার পূর্ণাঙ্গ মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ডা. কাজী নওশাদ উন-নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বাকিদের অব্যাহতি প্রদান করেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করলে পরে তা খারিজ করে দেন আদালত। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ২০১৭ সালে একটি আবেদন করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন