দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে
jugantor
মেরিন গ্র্যাজুয়েটদের প্রধানমন্ত্রী
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে

  বাসস  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমুদ্রচারণ বিষয় বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেরিন গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একডেমিতে ৫৫ ব্যাচের ক্যাডেটদের মুজিববর্ষ গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

পাসিংআউট ক্যাডেটদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করার মতো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে যাচ্ছ। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তোমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাহাজ চলাচলে উচ্চতর শিক্ষার প্রবর্তনের জন্য ২০১৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আমরা আরও চারটি মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এগুলো এ বছরে চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, একাডেমির নটিক্যাল প্রশিক্ষণকে উন্নততর করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ‘নেভিগেশন সিমুলেটর’ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নততর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশিক্ষণের স্বার্থে ‘ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিমুলেটর’ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশ’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। আর ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ এক দেশ হবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ভৌগোলিক সীমারেখার দিক থেকে আমরা খুব বড় না হলেও জনংখ্যার দিক থেকে খুব বেশি। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং আর্থসামাজিক উন্নতি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একাডেমির প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রশিক্ষিত ক্যাডেট দেশে ও বিদেশের সমুদ্রগামী জাহাজে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয় করছে। প্রতি বছর প্রায় ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তারা দেশে আনছে। চলমান করোনাকালেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য মার্চেন্ট নেভি ট্রেনিং বোর্ডের স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য মেরিটাইম অ্যান্ড কোস্টগার্ড এজেন্সির স্বীকৃতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন সলেন্ট ইউনিভার্সিটির ‘ওয়ারসাস স্কুল অব মেরিটাইম সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফিলিপাইনের মেরিটাইম একাডেমি অব এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’র সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাডেমির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পাসিংআউট ক্যাডেটদের মাঝে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন পদক প্রদান করেন। সার্বিক বিবেচনায় চিফ ক্যাডেট ক্যাপ্টেন আবির মোহাম্মদ সালমান নূর সফল চৌকস ক্যাডেট হিসাবে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ক্যাডেটদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রতিষ্ঠানের কমান্ড্যান্ট মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ড. সাজ্জাদ হুসেইন। অনুষ্ঠানে ৫৫ ব্যাচের ক্যাডেটদের মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

মেরিন গ্র্যাজুয়েটদের প্রধানমন্ত্রী

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে

 বাসস 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমুদ্রচারণ বিষয় বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেরিন গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একডেমিতে ৫৫ ব্যাচের ক্যাডেটদের মুজিববর্ষ গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

পাসিংআউট ক্যাডেটদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করার মতো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে যাচ্ছ। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তোমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাহাজ চলাচলে উচ্চতর শিক্ষার প্রবর্তনের জন্য ২০১৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আমরা আরও চারটি মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এগুলো এ বছরে চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, একাডেমির নটিক্যাল প্রশিক্ষণকে উন্নততর করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ‘নেভিগেশন সিমুলেটর’ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নততর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশিক্ষণের স্বার্থে ‘ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিমুলেটর’ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশ’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। আর ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ এক দেশ হবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ভৌগোলিক সীমারেখার দিক থেকে আমরা খুব বড় না হলেও জনংখ্যার দিক থেকে খুব বেশি। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং আর্থসামাজিক উন্নতি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একাডেমির প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রশিক্ষিত ক্যাডেট দেশে ও বিদেশের সমুদ্রগামী জাহাজে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয় করছে। প্রতি বছর প্রায় ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তারা দেশে আনছে। চলমান করোনাকালেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য মার্চেন্ট নেভি ট্রেনিং বোর্ডের স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য মেরিটাইম অ্যান্ড কোস্টগার্ড এজেন্সির স্বীকৃতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন সলেন্ট ইউনিভার্সিটির ‘ওয়ারসাস স্কুল অব মেরিটাইম সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফিলিপাইনের মেরিটাইম একাডেমি অব এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’র সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাডেমির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পাসিংআউট ক্যাডেটদের মাঝে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন পদক প্রদান করেন। সার্বিক বিবেচনায় চিফ ক্যাডেট ক্যাপ্টেন আবির মোহাম্মদ সালমান নূর সফল চৌকস ক্যাডেট হিসাবে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ক্যাডেটদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রতিষ্ঠানের কমান্ড্যান্ট মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ড. সাজ্জাদ হুসেইন। অনুষ্ঠানে ৫৫ ব্যাচের ক্যাডেটদের মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন