আগে টাকা ফেরত দিন পরে কথা বলুন
jugantor
পিপলস লিজিং খেলাপিদের হাইকোর্ট
আগে টাকা ফেরত দিন পরে কথা বলুন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হয়েছেন-এমন ১৩৭ জন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে হাজিরা দেন এসব খেলাপি। এ সময় ঋণখেলাপি ও তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, আপনারা টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে এ টাকা জমা রেখেছিলেন, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা, চোর-বাটপাড়দের টাকা না। আগে টাকা দিন, পরে কথা বলুন, এরপর ইনস্টলমেন্টের (কিস্তি) আবেদন করবেন। তা না-হলে ভেতরে (কারাগারে) ঢোকানো হবে।

এ সময় শুনানি করছিলেন আইনজীবী ড. সাঈদা নাসরিন। তার মক্কেল আদালতকে বলেন, তার কাছে ৩৮৪ কোটি টাকা পাওনা পিপলস লিজিংয়ের। এ সময় উল্লিখিত মন্তব্য করেন আদালত।

আদালত আরও বলেন, আমরা দেখছি হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়া এ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা উদ্ধার করা যায় কি না। আমানতকারীরা আজ খেয়ে না-খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের দেওয়া এ সংক্রান্ত তালিকা দেখে আদালত গত ২১ জানুয়ারি মোট ২৮০ জনকে তলব করেছিলেন। তাদের মধ্যে আদালত দুভাগে বিভক্ত হয়ে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলেন। এরই আলোকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে আদালতে ১৪৩ জনের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন পিপলস লিজিংয়ের ঋণখেলাপির তালিকায় থাকা ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জন আদালতে হাজির ছিলেন। বাকিদের কেউ কেউ আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছেন। এদিন ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জনের বাইরে যারা হাজির হননি তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, বাকিরা আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আরও একবার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে তারা উপস্থিত না হলে তাদের গ্রেফতার করে আনা হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত ও বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ছিল দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিই ৭৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, খেলাপি ঋণের হার ৬৬ শতাংশ।

২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মধ্যে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। খেলাপি প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না তারা। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসাবে মো. আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পিপলস লিজিং খেলাপিদের হাইকোর্ট

আগে টাকা ফেরত দিন পরে কথা বলুন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হয়েছেন-এমন ১৩৭ জন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে হাজিরা দেন এসব খেলাপি। এ সময় ঋণখেলাপি ও তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, আপনারা টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে এ টাকা জমা রেখেছিলেন, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা, চোর-বাটপাড়দের টাকা না। আগে টাকা দিন, পরে কথা বলুন, এরপর ইনস্টলমেন্টের (কিস্তি) আবেদন করবেন। তা না-হলে ভেতরে (কারাগারে) ঢোকানো হবে।

এ সময় শুনানি করছিলেন আইনজীবী ড. সাঈদা নাসরিন। তার মক্কেল আদালতকে বলেন, তার কাছে ৩৮৪ কোটি টাকা পাওনা পিপলস লিজিংয়ের। এ সময় উল্লিখিত মন্তব্য করেন আদালত।

আদালত আরও বলেন, আমরা দেখছি হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়া এ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা উদ্ধার করা যায় কি না। আমানতকারীরা আজ খেয়ে না-খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের দেওয়া এ সংক্রান্ত তালিকা দেখে আদালত গত ২১ জানুয়ারি মোট ২৮০ জনকে তলব করেছিলেন। তাদের মধ্যে আদালত দুভাগে বিভক্ত হয়ে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলেন। এরই আলোকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে আদালতে ১৪৩ জনের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন পিপলস লিজিংয়ের ঋণখেলাপির তালিকায় থাকা ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জন আদালতে হাজির ছিলেন। বাকিদের কেউ কেউ আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছেন। এদিন ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জনের বাইরে যারা হাজির হননি তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, বাকিরা আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আরও একবার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে তারা উপস্থিত না হলে তাদের গ্রেফতার করে আনা হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত ও বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ছিল দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিই ৭৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, খেলাপি ঋণের হার ৬৬ শতাংশ।

২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মধ্যে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। খেলাপি প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না তারা। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসাবে মো. আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন