জনসনের টিকা এক ডোজই কার্যকর
jugantor
জনসনের টিকা এক ডোজই কার্যকর

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনাভাইরাসের টিকার এক ডোজই নিরাপদ ও কার্যকর বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় করোনার টিকা হিসাবে এটি অনুমোদন পেতে পারে। এর আগে ফাইজার ও মডার্নার টিকার অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে প্রায় ৬ লাখ মানুষের ওপর চালানো বাস্তবসম্মত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা মৃত্যু প্রতিরোধে ৭২ ভাগ কার্যকরী। খবর সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।

জনসন অ্যান্ড জনসনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান জ্যানসেন এফডিএর কাছে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত যে তথ্য জমা দিয়েছিল তা এফডিএ আরও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে এফডিএ দেখেছে, এক ডোজের এ টিকাও বেশ নিরাপদ ও কার্যকর। বলা হচ্ছে, জনসনের এ টিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দুই টিকার চেয়ে অনেক অর্থ সাশ্রয়ী হবে। কারণ এটি সংরক্ষণ করা যাবে রেফ্রিজারেটরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়। ওষুধ উৎপাদনকারী বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান বেলজিয়ামভিত্তিক জ্যানসেন বলেছে, তারা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে, সে অনুযায়ী গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রেও এ টিকা উচ্চমাত্রায় কার্যকর।

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে চালানো জনসনের টিকার ট্রায়ালে দেখা গেছে, করোনার তীব্র সংক্রমণে এটি ‘উচ্চমাত্রায় একই রকম’ কার্যকর। তবে সার্বিকভাবে সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে এটি কম কার্যকর হয়েছে। এর কারণ দেশ দুটিতে ভাইরাসের নতুন ধরন।

এফডিএ জানায়, গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে জনসনের টিকা ৮৫ শতাংশের বেশি কার্যকর। তবে সার্বিকভাবে কার্যকর ৬৬ শতাংশ। এ সার্বিক অবস্থার মধ্যে মধ্যম মাত্রার অসুস্থতাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া টিকা গ্রহণের ন্যূনতম ২৮ দিন পরের অবস্থাও বিবেচনায় আনা হয়েছে এখানে। দেখা গেছে, যারা জনসনের টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন, তাদের কেউ টিকা নেয়ার ২৮ দিন পর মারা যাননি বা হাসপাতালে ভর্তি হননি।

আজ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি বৈঠকে বসবে। জনসনের টিকার অনুমোদন দেওয়া এফডিএর উচিত হবে কিনা, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী সপ্তাহে জনসনের অন্তত তিন কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করা যাবে বলে ধারণা করছেন তারা। সেক্ষেত্রে এফডিএ থেকে জরুরি ভিত্তিতে এটির অনুমোদন দেয়া হবে।

জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছে, আগামী মাসের মধ্যে দুই কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। জুনের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তির আওতায় তারা এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা মৃত্যু প্রতিরোধে ৭২ ভাগ কার্যকরী : প্রায় ৬ লাখ মানুষের ওপর চালানো বাস্তবসম্মত পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থতা ঠেকাতে সক্ষম। ইসরায়েলে গণটিকা কার্যক্রমের পরীক্ষা থেকে বুধবার এ ফলাফল প্রকাশিত হয়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে দেশটির বিভিন্ন বয়সের ও স্বাস্থ্যের মানুষকে গণহারে এ টিকা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুই ডোজ টিকা করোনা থেকে ৯২ শতাংশ এবং এক ডোজ টিকা ৬২ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু প্রতিরোধে এ টিকার ৭২ ভাগ কার্যকারিতা দেখা গেছে। প্রথম ডোজ গ্রহণের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা খুবই বিরল।

জনসনের টিকা এক ডোজই কার্যকর

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনাভাইরাসের টিকার এক ডোজই নিরাপদ ও কার্যকর বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় করোনার টিকা হিসাবে এটি অনুমোদন পেতে পারে। এর আগে ফাইজার ও মডার্নার টিকার অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে প্রায় ৬ লাখ মানুষের ওপর চালানো বাস্তবসম্মত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা মৃত্যু প্রতিরোধে ৭২ ভাগ কার্যকরী। খবর সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।

জনসন অ্যান্ড জনসনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান জ্যানসেন এফডিএর কাছে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত যে তথ্য জমা দিয়েছিল তা এফডিএ আরও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে এফডিএ দেখেছে, এক ডোজের এ টিকাও বেশ নিরাপদ ও কার্যকর। বলা হচ্ছে, জনসনের এ টিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দুই টিকার চেয়ে অনেক অর্থ সাশ্রয়ী হবে। কারণ এটি সংরক্ষণ করা যাবে রেফ্রিজারেটরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়। ওষুধ উৎপাদনকারী বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান বেলজিয়ামভিত্তিক জ্যানসেন বলেছে, তারা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে, সে অনুযায়ী গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রেও এ টিকা উচ্চমাত্রায় কার্যকর।

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে চালানো জনসনের টিকার ট্রায়ালে দেখা গেছে, করোনার তীব্র সংক্রমণে এটি ‘উচ্চমাত্রায় একই রকম’ কার্যকর। তবে সার্বিকভাবে সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে এটি কম কার্যকর হয়েছে। এর কারণ দেশ দুটিতে ভাইরাসের নতুন ধরন।

এফডিএ জানায়, গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে জনসনের টিকা ৮৫ শতাংশের বেশি কার্যকর। তবে সার্বিকভাবে কার্যকর ৬৬ শতাংশ। এ সার্বিক অবস্থার মধ্যে মধ্যম মাত্রার অসুস্থতাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া টিকা গ্রহণের ন্যূনতম ২৮ দিন পরের অবস্থাও বিবেচনায় আনা হয়েছে এখানে। দেখা গেছে, যারা জনসনের টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন, তাদের কেউ টিকা নেয়ার ২৮ দিন পর মারা যাননি বা হাসপাতালে ভর্তি হননি।

আজ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি বৈঠকে বসবে। জনসনের টিকার অনুমোদন দেওয়া এফডিএর উচিত হবে কিনা, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী সপ্তাহে জনসনের অন্তত তিন কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করা যাবে বলে ধারণা করছেন তারা। সেক্ষেত্রে এফডিএ থেকে জরুরি ভিত্তিতে এটির অনুমোদন দেয়া হবে।

জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছে, আগামী মাসের মধ্যে দুই কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। জুনের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তির আওতায় তারা এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা মৃত্যু প্রতিরোধে ৭২ ভাগ কার্যকরী : প্রায় ৬ লাখ মানুষের ওপর চালানো বাস্তবসম্মত পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থতা ঠেকাতে সক্ষম। ইসরায়েলে গণটিকা কার্যক্রমের পরীক্ষা থেকে বুধবার এ ফলাফল প্রকাশিত হয়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে দেশটির বিভিন্ন বয়সের ও স্বাস্থ্যের মানুষকে গণহারে এ টিকা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুই ডোজ টিকা করোনা থেকে ৯২ শতাংশ এবং এক ডোজ টিকা ৬২ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু প্রতিরোধে এ টিকার ৭২ ভাগ কার্যকারিতা দেখা গেছে। প্রথম ডোজ গ্রহণের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা খুবই বিরল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন