শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সেনাদের স্মরণ
jugantor
পিলখানা ট্র্যাজেডি
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সেনাদের স্মরণ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একযুগ পূর্তিতে বৃহস্পতিবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের।

সকালে রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহিদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম আবু আশরাফ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সালাম প্রদর্শন করেন।

পরে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ হলে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের সন্দেহ ও বিভ্রান্তি দূর হবে। তা ছাড়া শহিদদের নিকট আত্মীয়রাও বুঝতে পারবেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে তাদের স্বজনরা নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এটা শহিদ পরিবারের জন্য সান্ত্বনাও হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কিছু মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে। তাই পিলখানা ট্র্যাজেডিতে পরোক্ষভাবে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন র‌্যাব ফোর্সেস-এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এর বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিজিবির সব স্থাপনায় বাহিনীর পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সদস্যরা কালো ব্যাজ পরিধান করেন।

বেলা ১১টায় বিএনপির পক্ষ থেকে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, কর্নেল (অব.) ইসহাক প্রমুখ।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ফয়সালা করা সম্ভব হয়নি। বিচারের এ দীর্ঘসূত্রতা আমাদের সবাইকে হতাশ করেছে। দেশবাসী মর্মাহত হয়েছে। সরকারকে অনুরোধ জানাব এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’

শহিদদের প্রতি বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান আহমেদ খান বাবলু, কাজী মো. নজরুল, মহসিন সরকার, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

নিহত স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এদের কারও মধ্যে ছিল হারানোর বেদনা, আবার কারও মুখে ছিল হত্যাকাণ্ডে দোষীদের বিচারের দাবি। নিহত লে. কর্নেল লুৎফর রহমানের ভাই এহতেশাম রহমান বলেন, আগামী প্রজন্মকে দিবসটি সম্পর্কে জানাতে দিনটিকে রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হোক। হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের বের করে বিচারের আওতায় আনতে বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত কর্নেল কুদরত এলাহি রহমান শফিকের ছেলে সাকিব রহমান।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল বিডিআর সদস্যরা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ নিরস্ত্র ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হয় গতকাল।

পিলখানা ট্র্যাজেডি

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সেনাদের স্মরণ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একযুগ পূর্তিতে বৃহস্পতিবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের।

সকালে রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহিদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম আবু আশরাফ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সালাম প্রদর্শন করেন।

পরে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ হলে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের সন্দেহ ও বিভ্রান্তি দূর হবে। তা ছাড়া শহিদদের নিকট আত্মীয়রাও বুঝতে পারবেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে তাদের স্বজনরা নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এটা শহিদ পরিবারের জন্য সান্ত্বনাও হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কিছু মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে। তাই পিলখানা ট্র্যাজেডিতে পরোক্ষভাবে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন র‌্যাব ফোর্সেস-এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এর বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিজিবির সব স্থাপনায় বাহিনীর পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সদস্যরা কালো ব্যাজ পরিধান করেন।

বেলা ১১টায় বিএনপির পক্ষ থেকে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, কর্নেল (অব.) ইসহাক প্রমুখ।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ফয়সালা করা সম্ভব হয়নি। বিচারের এ দীর্ঘসূত্রতা আমাদের সবাইকে হতাশ করেছে। দেশবাসী মর্মাহত হয়েছে। সরকারকে অনুরোধ জানাব এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’

শহিদদের প্রতি বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান আহমেদ খান বাবলু, কাজী মো. নজরুল, মহসিন সরকার, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

নিহত স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এদের কারও মধ্যে ছিল হারানোর বেদনা, আবার কারও মুখে ছিল হত্যাকাণ্ডে দোষীদের বিচারের দাবি। নিহত লে. কর্নেল লুৎফর রহমানের ভাই এহতেশাম রহমান বলেন, আগামী প্রজন্মকে দিবসটি সম্পর্কে জানাতে দিনটিকে রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হোক। হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের বের করে বিচারের আওতায় আনতে বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত কর্নেল কুদরত এলাহি রহমান শফিকের ছেলে সাকিব রহমান।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল বিডিআর সদস্যরা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ নিরস্ত্র ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হয় গতকাল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন