মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তাপন্থিদের হামলা
jugantor
মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তাপন্থিদের হামলা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে জান্তা সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার জান্তাপন্থিরা ছুরি, মুগুর ও গুলতি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ৩১টি দেশের ১৩৭টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। এদিকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্লাটফর্মে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করা করেছে। খবর রয়টার্স ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাদের সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সামরিক বাহিনীর প্রায় এক হাজার সমর্থক সেখানে জড়ো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে নগরীর কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন অংশে হাতাহাতি থেকে শুরু করে আরও গুরুতর সহিংসতা শুরু হয়। ওই হামলাকারীদের মধ্যে কিছু লোক পাথর ও গুলতি ছুড়েছেন আর একদল লোক বেশ কয়েকজনকে মারধর করেছেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দেয় জান্তাপন্থিরা।

গণমাধ্যমে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সামরিক বাহিনীর কিছু সমর্থকের হাতে ছুরি ও মুগুর। একজন নগরের কেন্দ্রস্থলে একটি হোটেলের সামনে এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর ফুটপাতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগের কর্মীরা নিয়ে যান।

আন্দোলনকারী থিন জার শুন লেই য়ি বলেন, আজকের ঘটনা প্রমাণ করেছে কারা সন্ত্রাসী। গণতন্ত্রের জন্য জনগণের নেওয়া পদক্ষেপে ভীত তারা। একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাব আমরা। এর আগে ইয়াঙ্গুনের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। এর ফলে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেনি।

মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তারা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সামরিক অভ্যুত্থান করে। এদিন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনাবাহিনী সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। জরুরি অবস্থার মধ্যেই জান্তা শাসনবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির জনগণ। একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, প্রতিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে এ পর্যন্ত ৭২৮ জনকে গ্রেফতার, অভিযুক্ত বা সাজা দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নিষিদ্ধ সেনাবাহিনী : ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তাদের প্ল্যাটফর্মে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও এর সংশ্লিষ্ট সবকিছুকে নিষিদ্ধ করেছে। তারা বলেছে, দেশটির সেনাবাহিনীকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। পাঁচ কোটি ৪০ লাখ বাসিন্দার মিয়ানমারে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। এর আগে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মের নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মূল পেজটি মুছে দিয়েছিল। এক বিবৃতিতে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মে সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করেছে।

অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ১৩৭ এনজিওর : মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়ে ৩১টি দেশের ১৩৭টি এনজিও বুধবার জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়, জান্তা সরকার যাতে নতুন করে নিপীড়ন চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত দেশটির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করা। চীন, ভারত, ইসরাইল, উত্তর কোরিয়া, ফিলিপাইনস, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ যেসব দেশের সরকার মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, তাদের অবিলম্বে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি সরবরাহ বন্ধ করা দরকার।

চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক কেনেথ রথ লেখেন, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে চালানো নিষ্ঠুরতা, দশকের পর দশক ধরে চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ। সর্বশেষ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ ন্যূনতম পদক্ষেপ হিসাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

চিঠিতে স্বাক্ষর করা এনজিওগুলোর কয়েক ডজন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের। স্বাক্ষরকারী এনজিওগুলো বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বিশেষ বিশেষ খাতে ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এছাড়া জান্তা নেতাদের ও সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি জব্দ করা।

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তাপন্থিদের হামলা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে জান্তা সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার জান্তাপন্থিরা ছুরি, মুগুর ও গুলতি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ৩১টি দেশের ১৩৭টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। এদিকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্লাটফর্মে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করা করেছে। খবর রয়টার্স ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাদের সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সামরিক বাহিনীর প্রায় এক হাজার সমর্থক সেখানে জড়ো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে নগরীর কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন অংশে হাতাহাতি থেকে শুরু করে আরও গুরুতর সহিংসতা শুরু হয়। ওই হামলাকারীদের মধ্যে কিছু লোক পাথর ও গুলতি ছুড়েছেন আর একদল লোক বেশ কয়েকজনকে মারধর করেছেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দেয় জান্তাপন্থিরা।

গণমাধ্যমে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সামরিক বাহিনীর কিছু সমর্থকের হাতে ছুরি ও মুগুর। একজন নগরের কেন্দ্রস্থলে একটি হোটেলের সামনে এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর ফুটপাতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগের কর্মীরা নিয়ে যান।

আন্দোলনকারী থিন জার শুন লেই য়ি বলেন, আজকের ঘটনা প্রমাণ করেছে কারা সন্ত্রাসী। গণতন্ত্রের জন্য জনগণের নেওয়া পদক্ষেপে ভীত তারা। একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাব আমরা। এর আগে ইয়াঙ্গুনের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। এর ফলে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেনি।

মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তারা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সামরিক অভ্যুত্থান করে। এদিন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনাবাহিনী সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। জরুরি অবস্থার মধ্যেই জান্তা শাসনবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির জনগণ। একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, প্রতিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে এ পর্যন্ত ৭২৮ জনকে গ্রেফতার, অভিযুক্ত বা সাজা দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নিষিদ্ধ সেনাবাহিনী : ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তাদের প্ল্যাটফর্মে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও এর সংশ্লিষ্ট সবকিছুকে নিষিদ্ধ করেছে। তারা বলেছে, দেশটির সেনাবাহিনীকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। পাঁচ কোটি ৪০ লাখ বাসিন্দার মিয়ানমারে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। এর আগে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মের নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মূল পেজটি মুছে দিয়েছিল। এক বিবৃতিতে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মে সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করেছে।

অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ১৩৭ এনজিওর : মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়ে ৩১টি দেশের ১৩৭টি এনজিও বুধবার জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়, জান্তা সরকার যাতে নতুন করে নিপীড়ন চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত দেশটির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করা। চীন, ভারত, ইসরাইল, উত্তর কোরিয়া, ফিলিপাইনস, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ যেসব দেশের সরকার মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, তাদের অবিলম্বে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি সরবরাহ বন্ধ করা দরকার।

চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক কেনেথ রথ লেখেন, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে চালানো নিষ্ঠুরতা, দশকের পর দশক ধরে চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ। সর্বশেষ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ ন্যূনতম পদক্ষেপ হিসাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

চিঠিতে স্বাক্ষর করা এনজিওগুলোর কয়েক ডজন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের। স্বাক্ষরকারী এনজিওগুলো বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বিশেষ বিশেষ খাতে ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এছাড়া জান্তা নেতাদের ও সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি জব্দ করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন