মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবি পরিবারের
jugantor
মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবি পরিবারের
দেশব্যাপী বিক্ষোভ মানববন্ধন অব্যাহত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড় ভাই নূর উদ্দিন মুহাদ্দিস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বাবা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী, মা মমতাজ বেগম, ভাই ফখরুদ্দিন, বোন জান্নাতুল ফেরদৌস, গোলশান, গোল নাহার, ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার, মাওলানা আবু ছায়েদসহ স্বজনরা।

এদিকে, মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের গ্রেফতার ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে নোয়াখালীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট জিরো পয়েন্টে কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক সমিতি ও কবিরহাট উজেলায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

এদিকে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড় ভাই নূর উদ্দিন মুহাদ্দিস বলেন, মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদে দুস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন।

নূর উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বার বার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ সময় বাজারে পড়ে থাকায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুজাক্কির পড়ালেখার পাশাপাশি সংবাদিকতা করতেন। কিন্তু তিনি কোনো দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মুজাক্কিরের বাবা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ওইদিন ঘটনাস্থলে তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা দেখেনি। তবে যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। খুনিদের ফাঁসির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তিনি।

মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বুধবার একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায় গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে মারধর করে। ওই হামলাকারী তাকে বলে ‘তোর কোন বাবা আছে? আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতার ভিত্তিতে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক মুজাক্কিরের স্বজনরা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, মুজাক্কিরকে নির্যাতনের ভিডিওটি ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। যেখানে মারধর করা হয় ওই দোকানটা বসুরহাট বাজারের অন্য একজন সাংবাদিকের। ওই সাংবাদিক আমাদের জানিয়েছেন মুজাক্কিরকে রাসেল মারধর করতে দেখে তিনি এসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে হাসান ইমাম রাসেলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি লাইনটি কেটে দেন। তবে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে (Hasan Imam Rasel) তিনি লিখেন, মুজাক্কির আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করত। তখন যে মাঝে মাঝে আসত, নোয়াখালীতে পড়াশোনা করত।

কারও প্ররোচনায় পড়ে সে আমার ফেসবুকে ফেক আইডি থেকে বাজে কমেন্ট করত, তখন রনির দোকানে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন এসব করছ। সে বলল বাদল ভাইয়ের বিরোধিতা করেন সেজন্য আমি এমন করছি, তখন রাগ করে তাকে বকাঝকা করছি। আবার ৫ মিনিট পরই আবার তাকে বুকে টেনে নিয়েছি।

রাজশাহী : মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

শেরপুর (বগুড়া) : বগুড়ার শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে বার্তা বাজার পরিবার ও তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি উপজেলা শাখার আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সিলেটের বিশ্বনাথ, বরিশালের বাবুগঞ্জ ও চাঁদপুরের কচুয়া প্রতিনিধি বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবি পরিবারের

দেশব্যাপী বিক্ষোভ মানববন্ধন অব্যাহত
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড় ভাই নূর উদ্দিন মুহাদ্দিস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বাবা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী, মা মমতাজ বেগম, ভাই ফখরুদ্দিন, বোন জান্নাতুল ফেরদৌস, গোলশান, গোল নাহার, ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার, মাওলানা আবু ছায়েদসহ স্বজনরা।

এদিকে, মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের গ্রেফতার ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে নোয়াখালীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট জিরো পয়েন্টে কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক সমিতি ও কবিরহাট উজেলায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

এদিকে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মুজাক্কিরের বড় ভাই নূর উদ্দিন মুহাদ্দিস বলেন, মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদে দুস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন।

নূর উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বার বার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ সময় বাজারে পড়ে থাকায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুজাক্কির পড়ালেখার পাশাপাশি সংবাদিকতা করতেন। কিন্তু তিনি কোনো দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মুজাক্কিরের বাবা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ওইদিন ঘটনাস্থলে তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা দেখেনি। তবে যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। খুনিদের ফাঁসির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তিনি।

মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বুধবার একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায় গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে মারধর করে। ওই হামলাকারী তাকে বলে ‘তোর কোন বাবা আছে? আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতার ভিত্তিতে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক মুজাক্কিরের স্বজনরা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, মুজাক্কিরকে নির্যাতনের ভিডিওটি ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। যেখানে মারধর করা হয় ওই দোকানটা বসুরহাট বাজারের অন্য একজন সাংবাদিকের। ওই সাংবাদিক আমাদের জানিয়েছেন মুজাক্কিরকে রাসেল মারধর করতে দেখে তিনি এসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে হাসান ইমাম রাসেলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি লাইনটি কেটে দেন। তবে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে (Hasan Imam Rasel) তিনি লিখেন, মুজাক্কির আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করত। তখন যে মাঝে মাঝে আসত, নোয়াখালীতে পড়াশোনা করত।

কারও প্ররোচনায় পড়ে সে আমার ফেসবুকে ফেক আইডি থেকে বাজে কমেন্ট করত, তখন রনির দোকানে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন এসব করছ। সে বলল বাদল ভাইয়ের বিরোধিতা করেন সেজন্য আমি এমন করছি, তখন রাগ করে তাকে বকাঝকা করছি। আবার ৫ মিনিট পরই আবার তাকে বুকে টেনে নিয়েছি।

রাজশাহী : মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

শেরপুর (বগুড়া) : বগুড়ার শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে বার্তা বাজার পরিবার ও তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি উপজেলা শাখার আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সিলেটের বিশ্বনাথ, বরিশালের বাবুগঞ্জ ও চাঁদপুরের কচুয়া প্রতিনিধি বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন