সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা নিহত ১৭
jugantor
বাইডেনের প্রথম অনুমোদন
সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা নিহত ১৭

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা নিহত ১৭

সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর মার্কিন বিমান হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতা নেওয়ার পর তার নির্দেশে এটাই প্রথম বিমান হামলা। এ হামলার মধ্যদিয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ফিরল। গত দুই সপ্তাহে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনাদের ওপর জঙ্গিদের রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানায়, সিরিয়ায় ইরানপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠীদের একাধিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। ইরাকে মোতায়েন মার্কিন ও জোট সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক জঙ্গিদের রকেট হামলার জবাবে জো বাইডেন বিমান হামলার অনুমোদন দেন। ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাগদাদের গ্রিন জোন বলে পরিচিত মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলায় এক সেনা ও অপর পাঁচ কন্ট্রাক্টর আহত হন। এ রকেট হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট করে কোনো গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত বা ইরানের সমর্থনপুষ্ট বলে উল্লেখ করেনি। তবে বৃহস্পতিবারের হামলার মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসন কাকে অভিযুক্ত করতে চায়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ায় মোতায়েন যৌথ বাহিনীর অংশীদার ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন হামলার অনুমোদন দেন। এ হামলায় সিরিয়া সীমান্তে ইরান সমর্থিত কাইতিব হিজবুল্লাহ, কাইতিব সায়েদ আল শুহাদাসহ কয়েকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ হামলা প্রসঙ্গে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর সদস্যদের রক্ষায় বাইডেন প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্ব্যর্থহীন বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে, আমরা স্বেচ্ছায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল ও ইরাকের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত করাই এর লক্ষ্য। সিরিয়ায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের একেবারে শীর্ষস্থান থেকে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তবে সেনাবাহিনীর কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে এ হামলা করা হয়নি। ভবিষ্যতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলা করার সক্ষমতা হ্রাস করা এবং বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা সম্পর্কে বার্তা পাঠাতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। বৃহস্পতিবারের হামলা ইরানের কর্মসূচি নিয়ে চলমান ভঙ্গুর সমঝোতা-প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ায় ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ ইরবিলে হামলার সঙ্গে তার দেশের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতার কথা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

সিরিয়া-যুদ্ধের ওপর নজর রাখা যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, বৃহস্পতিবারের মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানপন্থি ১৭ জন মিলিশিয়া নিহত হয়েছেন। মার্কিন হামলার স্থানকে মিলিশিয়ারা অস্ত্র চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করত বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

বাইডেনের প্রথম অনুমোদন

সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা নিহত ১৭

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা নিহত ১৭
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর মার্কিন বিমান হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতা নেওয়ার পর তার নির্দেশে এটাই প্রথম বিমান হামলা। এ হামলার মধ্যদিয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ফিরল। গত দুই সপ্তাহে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনাদের ওপর জঙ্গিদের রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানায়, সিরিয়ায় ইরানপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠীদের একাধিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। ইরাকে মোতায়েন মার্কিন ও জোট সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক জঙ্গিদের রকেট হামলার জবাবে জো বাইডেন বিমান হামলার অনুমোদন দেন। ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাগদাদের গ্রিন জোন বলে পরিচিত মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলায় এক সেনা ও অপর পাঁচ কন্ট্রাক্টর আহত হন। এ রকেট হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট করে কোনো গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত বা ইরানের সমর্থনপুষ্ট বলে উল্লেখ করেনি। তবে বৃহস্পতিবারের হামলার মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসন কাকে অভিযুক্ত করতে চায়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ায় মোতায়েন যৌথ বাহিনীর অংশীদার ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন হামলার অনুমোদন দেন। এ হামলায় সিরিয়া সীমান্তে ইরান সমর্থিত কাইতিব হিজবুল্লাহ, কাইতিব সায়েদ আল শুহাদাসহ কয়েকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ হামলা প্রসঙ্গে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর সদস্যদের রক্ষায় বাইডেন প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্ব্যর্থহীন বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে, আমরা স্বেচ্ছায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল ও ইরাকের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত করাই এর লক্ষ্য। সিরিয়ায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের একেবারে শীর্ষস্থান থেকে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তবে সেনাবাহিনীর কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে এ হামলা করা হয়নি। ভবিষ্যতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলা করার সক্ষমতা হ্রাস করা এবং বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা সম্পর্কে বার্তা পাঠাতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। বৃহস্পতিবারের হামলা ইরানের কর্মসূচি নিয়ে চলমান ভঙ্গুর সমঝোতা-প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ায় ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ ইরবিলে হামলার সঙ্গে তার দেশের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতার কথা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

সিরিয়া-যুদ্ধের ওপর নজর রাখা যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, বৃহস্পতিবারের মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানপন্থি ১৭ জন মিলিশিয়া নিহত হয়েছেন। মার্কিন হামলার স্থানকে মিলিশিয়ারা অস্ত্র চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করত বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন