কারো গাফিলতি থাকলে খুঁজে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী
jugantor
কারো গাফিলতি থাকলে খুঁজে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ড. হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দিনে খালেদা জিয়া, যিনি দিনের ১২টার আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, তিনি কেন প্রত্যুষে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে চলে গিয়েছিলেন? তিনি কেন এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ বার কথা বললেন? এই রহস্যগুলো বের হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তা হলেই মুখোশ উন্মোচিত হবে কারা এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল। কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে অনভিপ্রেত হিসাবে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি, সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

মুশতাক আহমেদের মৃত্যু প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটির জন্য আমরা সচেতন আছি, বিশেষত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে এই আইনের অপব্যবহার না হয়, সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয় ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সচেতন আছি এবং কোনো খানে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়, বলেন তথ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। ডিজিটাল বিষয়টা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ছিল না, সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে যখন একজন সাংবাদিকের চরিত্র হনন করা হয়, একজন গৃহিণীকে যখন অপবাদ দেওয়া হয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন, তখন কোন আইনের বলে সে নিরাপত্তা পাবে, সেজন্য একটা আইনের দরকার। এ জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড়স্থ বাসভবনে শুক্রবার বিকালে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার করবেন’ বলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তখন সদ্য সরকার গঠন করেছিল, দুই মাসও পূর্তি হয়নি, প্রায় দেড় মাসের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল আর এই হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করা’-উল্লেখ করেন ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে নয় শুধু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নিরিখেও এতবড় একটি হত্যাকাণ্ডে এত আসামির বিচার কম হয়েছে। আমাদের দেশের ইতিহাসেও এত আসামির বিচার আর হয়নি। বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও এতগুলো আসামির বিচার কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। চসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে মামলা যে কেউ করতে পারে, মামলা করার অধিকার সবারই আছে, তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে বিএনপিকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. শাহাদাতকে আমি অনুরোধ জানাব তার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশ্ন রাখার জন্য, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুস্থ-সবল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ চট্টগ্রামে এলেন না কেন। এমনকি চট্টগ্রামে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা আছেন, তারাও কিন্তু নির্বাচনের সময় তার পক্ষে নামেননি। আমীর খসরু মাহমুদকে দু-একবার দেখা গেলেও তা প্রেস কনফারেন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ডা. শাহাদাতকে বলব এই প্রশ্নগুলো তার দলের নেতাদের কাছে করতে।

আরেক প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ তো নানা কথা বলেন, যেমন করোনার টিকার বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার ছিলেন, আবার নিজে করোনার টিকা নিয়ে বলেছেন, এই টিকা সবার নেওয়া উচিত। সুতরাং আজকে জাফরুল্লাহ সাহেব যে কথা বলেছেন দু’দিন পর দেখবেন নিজের কথাই তিনি আবার অন্য সুরে বলবেন।

কারো গাফিলতি থাকলে খুঁজে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ড. হাছান মাহমুদ
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দিনে খালেদা জিয়া, যিনি দিনের ১২টার আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, তিনি কেন প্রত্যুষে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে চলে গিয়েছিলেন? তিনি কেন এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ বার কথা বললেন? এই রহস্যগুলো বের হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তা হলেই মুখোশ উন্মোচিত হবে কারা এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল। কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে অনভিপ্রেত হিসাবে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি, সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

মুশতাক আহমেদের মৃত্যু প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটির জন্য আমরা সচেতন আছি, বিশেষত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে এই আইনের অপব্যবহার না হয়, সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয় ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সচেতন আছি এবং কোনো খানে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়, বলেন তথ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। ডিজিটাল বিষয়টা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ছিল না, সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে যখন একজন সাংবাদিকের চরিত্র হনন করা হয়, একজন গৃহিণীকে যখন অপবাদ দেওয়া হয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন, তখন কোন আইনের বলে সে নিরাপত্তা পাবে, সেজন্য একটা আইনের দরকার। এ জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড়স্থ বাসভবনে শুক্রবার বিকালে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার করবেন’ বলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তখন সদ্য সরকার গঠন করেছিল, দুই মাসও পূর্তি হয়নি, প্রায় দেড় মাসের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল আর এই হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করা’-উল্লেখ করেন ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে নয় শুধু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নিরিখেও এতবড় একটি হত্যাকাণ্ডে এত আসামির বিচার কম হয়েছে। আমাদের দেশের ইতিহাসেও এত আসামির বিচার আর হয়নি। বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও এতগুলো আসামির বিচার কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। চসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে মামলা যে কেউ করতে পারে, মামলা করার অধিকার সবারই আছে, তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে বিএনপিকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. শাহাদাতকে আমি অনুরোধ জানাব তার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশ্ন রাখার জন্য, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুস্থ-সবল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ চট্টগ্রামে এলেন না কেন। এমনকি চট্টগ্রামে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা আছেন, তারাও কিন্তু নির্বাচনের সময় তার পক্ষে নামেননি। আমীর খসরু মাহমুদকে দু-একবার দেখা গেলেও তা প্রেস কনফারেন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ডা. শাহাদাতকে বলব এই প্রশ্নগুলো তার দলের নেতাদের কাছে করতে।

আরেক প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ তো নানা কথা বলেন, যেমন করোনার টিকার বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার ছিলেন, আবার নিজে করোনার টিকা নিয়ে বলেছেন, এই টিকা সবার নেওয়া উচিত। সুতরাং আজকে জাফরুল্লাহ সাহেব যে কথা বলেছেন দু’দিন পর দেখবেন নিজের কথাই তিনি আবার অন্য সুরে বলবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন