কারাগারে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে
jugantor
কারাগারে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে
- মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

লেখক মুশতাক আহমেদের ওপর কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মুশতাকের মতো একজন অরাজনৈতিক নিজস্ব চিন্তার লেখকের মৃত্যুর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শুক্রবার তিনি এই অভিযোগ করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মুশতাক আহমেদ মারা যান। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে স্বাধীনচেতা মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ গণতান্ত্রিক বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার কালাকানুনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাকে বরদাশত করছে না। যারা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের চেষ্টা করছেন তাদের হয় গুমের শিকার হতে হচ্ছে, নতুবা সরকারি হেফাজতে প্রাণ দিতে হচ্ছে। তার সর্বশেষ শিকার হলেন মুশতাক আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘মুশতাকের মতো একজন অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিজস্ব চিন্তায় স্বায়ত্তশাসিত ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার লেখকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত। কারান্তরীণ অবস্থায় তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।’

কারাগারে মুশতাক আহমেদকে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মুশতাক লুটপাটকারী, কালোবাজারি, সন্ত্রাসী বা ডাকাত ছিলেন না। তিনি একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন।

তিনি চিরদিন অধিকারহারা মানুষের কাছে প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর প্রার্থনা, চেতনা ও অনুভবে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

দেশে এখন নব্য বাকশালী শাসন জারি রাখা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষকে নিঃশব্দ করতেই গুম, খুন, ক্রসফায়ার, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুকে রাষ্ট্রীয় জীবনের অনুষঙ্গ করা হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে সত্য সমালোচনাতেও তারা আঁতকে ওঠে। রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। নিষ্ঠুর একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের সব বৈশিষ্ট্য এখন ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্র ক্রমান্বয়ে মাফিয়া রূপ ধারণ করেছে। সরকার নিজেদের অপকর্ম থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে বিবেকবান, স্বাধীনচেতা লেখকদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, মুশতাকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠবে এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতাসহ সুশাসন ও আইনের শাসন ফিরে আসবে।

পাশাপাশি গত বছরের মে মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুশতাক আহমেদের সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে কারাবন্দি রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তার মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

কারাগারে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে

- মির্জা ফখরুল
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ফাইল ছবি

লেখক মুশতাক আহমেদের ওপর কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মুশতাকের মতো একজন অরাজনৈতিক নিজস্ব চিন্তার লেখকের মৃত্যুর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শুক্রবার তিনি এই অভিযোগ করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মুশতাক আহমেদ মারা যান। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে স্বাধীনচেতা মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ গণতান্ত্রিক বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার কালাকানুনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাকে বরদাশত করছে না। যারা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের চেষ্টা করছেন তাদের হয় গুমের শিকার হতে হচ্ছে, নতুবা সরকারি হেফাজতে প্রাণ দিতে হচ্ছে। তার সর্বশেষ শিকার হলেন মুশতাক আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘মুশতাকের মতো একজন অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিজস্ব চিন্তায় স্বায়ত্তশাসিত ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার লেখকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত। কারান্তরীণ অবস্থায় তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।’

কারাগারে মুশতাক আহমেদকে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মুশতাক লুটপাটকারী, কালোবাজারি, সন্ত্রাসী বা ডাকাত ছিলেন না। তিনি একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন।

তিনি চিরদিন অধিকারহারা মানুষের কাছে প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর প্রার্থনা, চেতনা ও অনুভবে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

দেশে এখন নব্য বাকশালী শাসন জারি রাখা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষকে নিঃশব্দ করতেই গুম, খুন, ক্রসফায়ার, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুকে রাষ্ট্রীয় জীবনের অনুষঙ্গ করা হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে সত্য সমালোচনাতেও তারা আঁতকে ওঠে। রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। নিষ্ঠুর একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের সব বৈশিষ্ট্য এখন ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্র ক্রমান্বয়ে মাফিয়া রূপ ধারণ করেছে। সরকার নিজেদের অপকর্ম থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে বিবেকবান, স্বাধীনচেতা লেখকদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, মুশতাকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠবে এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতাসহ সুশাসন ও আইনের শাসন ফিরে আসবে।

পাশাপাশি গত বছরের মে মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুশতাক আহমেদের সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে কারাবন্দি রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তার মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন