প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্র
jugantor
ছাত্রদল-পুলিশ ব্যাপক সংঘর্ষ
প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্র
ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড * পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ * সাংবাদিক, পুলিশ, নেতাকর্মীসহ আহত শতাধিক * পুলিশের প্রতিও ইটপাটকেল নিক্ষেপ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কারাবন্দি মুশতাক আহমেদের মৃত্যু এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ার মধ্য দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। ফলে শুরু হওয়ার আগেই বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাও দফায় দফায় প্রতিবাদ জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ধাওয়ার মুখে পিছিয়ে পড়া পুলিশ সদস্যদের লাঠিপেটাও করেন বিক্ষুব্ধরা। ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার মধ্যেই পুলিশ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল এবং রাবার বুলেট ছোড়ে। সংগঠনটির সদস্যের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। অনেকেই লাঠির আঘাতে রাস্তায় পড়ে যান। ছাত্রীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ অন্যান্য নেতাকর্মী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কয়েকজন কর্মচারী, পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাপারসন মামুনসহ আহত হন কয়েকজন সাংবাদিকও। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ার মুখে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিএমএ ভবন ও পুরানা পল্টনের দিকে চলে যান। কেউ কেউ প্রেস ক্লাবের ভেতরে অবস্থান নেন। পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করার সময়ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢুকে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল। সে কারণে ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী প্রেস ক্লাবের সামনে ও আশপাশে অবস্থান নেন। অন্যদিকে প্রায় একই স্থানে পুলিশ অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিল। সমাবেশ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জলকামানের গাড়ি, আর্মার্ড কার, প্রিজনভ্যান মোতায়েন করা হয়। এ পরিস্থিতিতেও কিছু কর্মী দল বেঁধে কদম ফোয়ারার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এতে কয়েকজন রাস্তায় বসে পড়ে। পুলিশ তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে। এরপরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ছাত্রদলের এ বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে অন্য স্থানে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাটিচার্জ, টিয়ার সেল এবং শটগান ব্যবহার করে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে।

এখন অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে আমরা খবর পেয়েছি। তিনি বলেন, এ হামলা থেকে আবার প্রমাণিত হলো সরকার মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা দিতে নারাজ। তারা গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকার জনগণের মতপ্রকাশের পথ আটকাচ্ছে। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, অন্যায়ের প্রতিবাদ বা তাদের মতপ্রকাশ করা চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ নির্দয়ভাবে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।

এ কর্মসূচিতে ছাত্রদের নির্মমভাবে লাঠিপেটাও করা হয়। এতে বহু কর্মী আহত হয়েছেন। এভাবে হামলা করে সাময়িকভাবে প্রতিবাদ দাবিয়ে রাখা যায়; কিন্তু জনগণের ক্রোধকে সারা জীবন দাবিয়ে রাখা যাবে না। এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা শহরের যে কোনো জায়গায় অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ করতে হলে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিতে হয়। ছাত্রদল এ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। সকালে তাদের জানিয়েছি, আপনারা অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রাম করেন।

সেটি না করে প্রেস ক্লাবের এক ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায় তারা। প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে ইটপাটকেলও মারে। আমরা খেয়াল করেছি, প্রেস ক্লাবের ভেতরে কোনো ইট নেই। তাহলে এত ইট এলো কোত্থেকে? তার মানে, তারা ইট সংগ্রহ করেছে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে প্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমবেত হতে থাকেন। বেলা ১১টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সোহেলকে জানিয়ে দেয় অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ করা যাবে না। পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সোহেলের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মূল গেট দিয়ে বাইরে এসে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুটপাতে সমবেত হওয়ামাত্রই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সোহেল পুলিশকে থামানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি।

ছাত্রদলকর্মীরা প্রেস ক্লাব চত্বরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা একত্রিত হয়ে ধাওয়া দিলে পুলিশকে পিছু হটতে দেখা যায়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। দাঁড়াতে না পেরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গলি দিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় নেতা মামুন খান, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, আকতার হোসেন, জবি ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, ঢাবির আদনান, মহানগর পূর্বের মারজুক আলামিন, ঢাকা কলেজের সিরাজ উদ্দিন বাবু, জামাল হোসেন, শাহাবুদ্দিন ইমন, তেজগাঁও কলেজের বেলাল হোসেন খান, নাজমুল হুদা, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগরের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা জেলার রাসেল খান রিপন প্রমুখ।

ছাত্রদল-পুলিশ ব্যাপক সংঘর্ষ

প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্র

ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড * পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ * সাংবাদিক, পুলিশ, নেতাকর্মীসহ আহত শতাধিক * পুলিশের প্রতিও ইটপাটকেল নিক্ষেপ
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কারাবন্দি মুশতাক আহমেদের মৃত্যু এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ার মধ্য দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। ফলে শুরু হওয়ার আগেই বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাও দফায় দফায় প্রতিবাদ জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ধাওয়ার মুখে পিছিয়ে পড়া পুলিশ সদস্যদের লাঠিপেটাও করেন বিক্ষুব্ধরা। ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার মধ্যেই পুলিশ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল এবং রাবার বুলেট ছোড়ে। সংগঠনটির সদস্যের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। অনেকেই লাঠির আঘাতে রাস্তায় পড়ে যান। ছাত্রীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ অন্যান্য নেতাকর্মী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কয়েকজন কর্মচারী, পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাপারসন মামুনসহ আহত হন কয়েকজন সাংবাদিকও। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ার মুখে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিএমএ ভবন ও পুরানা পল্টনের দিকে চলে যান। কেউ কেউ প্রেস ক্লাবের ভেতরে অবস্থান নেন। পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করার সময়ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢুকে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল। সে কারণে ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী প্রেস ক্লাবের সামনে ও আশপাশে অবস্থান নেন। অন্যদিকে প্রায় একই স্থানে পুলিশ অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিল। সমাবেশ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জলকামানের গাড়ি, আর্মার্ড কার, প্রিজনভ্যান মোতায়েন করা হয়। এ পরিস্থিতিতেও কিছু কর্মী দল বেঁধে কদম ফোয়ারার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এতে কয়েকজন রাস্তায় বসে পড়ে। পুলিশ তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে। এরপরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ছাত্রদলের এ বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে অন্য স্থানে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাটিচার্জ, টিয়ার সেল এবং শটগান ব্যবহার করে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে।

এখন অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে আমরা খবর পেয়েছি। তিনি বলেন, এ হামলা থেকে আবার প্রমাণিত হলো সরকার মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা দিতে নারাজ। তারা গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকার জনগণের মতপ্রকাশের পথ আটকাচ্ছে। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, অন্যায়ের প্রতিবাদ বা তাদের মতপ্রকাশ করা চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ নির্দয়ভাবে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।

এ কর্মসূচিতে ছাত্রদের নির্মমভাবে লাঠিপেটাও করা হয়। এতে বহু কর্মী আহত হয়েছেন। এভাবে হামলা করে সাময়িকভাবে প্রতিবাদ দাবিয়ে রাখা যায়; কিন্তু জনগণের ক্রোধকে সারা জীবন দাবিয়ে রাখা যাবে না। এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা শহরের যে কোনো জায়গায় অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ করতে হলে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিতে হয়। ছাত্রদল এ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। সকালে তাদের জানিয়েছি, আপনারা অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রাম করেন।

সেটি না করে প্রেস ক্লাবের এক ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায় তারা। প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে ইটপাটকেলও মারে। আমরা খেয়াল করেছি, প্রেস ক্লাবের ভেতরে কোনো ইট নেই। তাহলে এত ইট এলো কোত্থেকে? তার মানে, তারা ইট সংগ্রহ করেছে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে প্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমবেত হতে থাকেন। বেলা ১১টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সোহেলকে জানিয়ে দেয় অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ করা যাবে না। পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সোহেলের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মূল গেট দিয়ে বাইরে এসে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুটপাতে সমবেত হওয়ামাত্রই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সোহেল পুলিশকে থামানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি।

ছাত্রদলকর্মীরা প্রেস ক্লাব চত্বরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা একত্রিত হয়ে ধাওয়া দিলে পুলিশকে পিছু হটতে দেখা যায়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। দাঁড়াতে না পেরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গলি দিয়ে পালিয়ে যান। 

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় নেতা মামুন খান, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, আকতার হোসেন, জবি ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, ঢাবির আদনান, মহানগর পূর্বের মারজুক আলামিন, ঢাকা কলেজের সিরাজ উদ্দিন বাবু, জামাল হোসেন, শাহাবুদ্দিন ইমন, তেজগাঁও কলেজের বেলাল হোসেন খান, নাজমুল হুদা, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগরের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা জেলার রাসেল খান রিপন প্রমুখ।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন