বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, দখল বর্জনে ভোট সম্পন্ন
jugantor
সহিংসতায় একজন নিহত
বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, দখল বর্জনে ভোট সম্পন্ন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা ভোটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার নির্বাচনি সহিংসতায় সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। চারঘাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কয়েকটি পৌরসভায় ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি পৌরসভার কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বাকি পৌরসভাগুলোয় তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতায় একজন ও ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ভোটের দিন বিজয়ী কাউন্সিলর খুন হন।
রোববার পঞ্চম ধাপের ২৯ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া একইদিন ঝিনাইদহের শৈলকুপা, ফরিদপুরের মধুখালী, রাজশাহীর পবা ও কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং চতুর্থ ধাপে স্থগিত হওয়া নরসিংদী পৌরসভার চারটি, শরীয়তপুরের দুটি ও সোনাইমুড়ীর একটি কেন্দ্রে ভোট হয়।
এদিকে পঞ্চম ধাপে ২৮টি পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি ১টি ও স্বতন্ত্র ১টিতে জয় পেয়েছেন।

এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাদারীপুরের শিবচর, চট্টগ্রামের মীরসরাই ও রাউজানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পান। গতকাল ভোটে ২৫টিতে জয় পেলো দলটি।

সবমিলিয়ে ২৮টি পৌরসভায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। অপরদিকে চারটি উপজেলা পরিষদের সবকটিতে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যানরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্থগিত শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভার দুটি কেন্দ্রে ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনি সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়, এ জন্য আমরা সবাই দুঃখিত। তিনি বলেন, ২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি, দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল নির্বাচন বর্জন করেন। তিনি দাবি করেন, থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের পাশের সড়কে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোটাররা কেন্দ্র থেকে চলে যান। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের মীরসরাই পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া জামালপুর, জয়পুরহাট, সৈয়দপুর, চারঘাটসহ কয়েকটি পৌরসভা নির্বাচনে কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

আমাদের সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, সৈয়দপুর পৌরসভায় ভোট চলাকালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নির্বাচনি এ সহিংসতায় ছোটন (৪০) নামে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক নিহত হন এবং পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় আহত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সৈয়দপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকদের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম রয়েলের সমর্থক ছোটন গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মো. আশিকুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মারামারির ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম রয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আযম আলী গুরুতর আহত হলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ছাড়া এ পৌর নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ৪, ৫, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একজন করে প্রার্থী বাদে বাকি সবাই ভোট বর্জন করেন।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্রিজ ও পাঞ্জাবি মার্কা প্রতীকে কাউন্সিলর প্রার্থীর মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ভোট চলাকালীন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মারামারির ঘটনাটি যেহেতু কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে, তাই ফৌজদারি মামলা পুলিশ প্রশাসন দেখবে।

এদিকে সৈয়দপুরে একজন নিহত হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এ জন্য আমরা সবাই দুঃখিত। সৈয়দপুরে নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সুরতহালে এরকমই পাওয়া গেছে। কোনো আঘাতে চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তে প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ বলতে পারব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে। যিনি মারা গেছেন তিনি পুলিশের গুলিতে মারা যাননি। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এখন এই মৃত্যুটি কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্ত হলেই আমরা বুঝতে পারব। আমাদের মূল্যায়নে এখন পর্যন্ত আমরা মনে করি ভোট ভালো হয়েছে।

নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, যদি কেউ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে, এটি নিতান্তই তার ইচ্ছে। তিনি করতেই পারেন। তিনি যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। আজ যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আপনারা জানেন চারঘাটে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, কোনো দুষ্কৃতকারী চার্জ করেছে। সেখানে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছে। রিটার্নিং অফিসার আমাদের জানিয়েছেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। ইভিএমে জালভোট দিতে গেলে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠে অ্যাকশন ছিল। আমরা বলতে পারি, এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সব সময় চায়, প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কাছে যে সহযোগিতা চাইবেন, নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে। বিএনপির এই ঘোষণায় ইসি কোনো প্রশ্নের মুখে পড়ল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি দেখা যাক। এখানো তফসিল ঘোষণা করিনি। তফসিল ঘোষণার সময় আমরা বিষয়টি দেখব।

ভোলা : ভোলা ও চরফ্যাশন পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শেষ হয়েছে। নানা কারণে পাঁচজনকে আটক ও ২০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। চরফ্যাশনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হুমায়ুন কবির সিকদার।

বগুড়া : বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রহিমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওনক জাহানের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করেন। এছাড়া দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চারঘাট (রাজশাহী) : থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৬টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষের দুই ঘণ্টা আগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল। তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী একরামুল হক।

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) : কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ৬নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবি প্রতীকের প্রার্থী আরিফের সমর্থক জুয়েলকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ গাজর প্রতীকের কর্মীরা। ৮নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়া এলাকায় অনেক ভোটার অভিযোগ করেন তাদের বাড়ি থেকে বের না হতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিল প্রতিপক্ষ। এ সময় সীমা আক্তার ও সুলতানা রাজিয়া নামে দুই বোন আহত হন। এছাড়া এই কেন্দ্রের কাউন্সিলর প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন দাবি করেন, তার ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে প্রতিপক্ষ।

জামালপুর : ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামালপুর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

জয়পুরহাট : এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামছুল হক।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরে বুথে ঢুকে ইভিএমের বোতাম টিপে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করায় নৌকা সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১২টার দিকে রায়পুর মার্চেন্ট সরকারি একাডেমি ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন সাধারণ ভোটার আহত হয়েছেন।

ব্রাহ্মণাবড়িয়া : দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের পাশের সড়কে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোটকেন্দ্র থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। তবে ভোটারদের ভোটদানে কোনো সমস্যা হয়নি।

নরসিংদী : নরসিংদী পৌরসভায় স্থগিত ৪টি কেন্দ্রে পুনঃভোট হয়েছে।

যারা মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন : পঞ্চম ধাপে আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হলেন যারা : জয়পুরহাট সদরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মো. আব্দুর রশিদ, রাজশাহীর চারঘাটে মো. একরামুল হক ও দুর্গাপুরে মো. তোফাজ্জল হোসেন, ঝিনাইদহের মহেশপুরে মো. আব্দুর রশিদ খান ও কালীগঞ্জে মো. আশরাফুল আলম, যশোরের কেশবপুরে রফিকুল ইসলাম, ভোলা সদরে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও চরফ্যাশনে মো. মোরশেদ, জামালপুরের ইসলামপুরে মো. আব্দুল কাদের সেখ, মাদারগঞ্জে মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির ও জামালপুর সদরে মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহের নান্দাইলে মো. রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মো. ইফতেখার হোসেন, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আবু নাঈম মো. বাশার, মাদারীপুর সদরে মো. খালিদ হোসেন, হবিগঞ্জ সদরে আতাউর রহমান সেলিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে নায়ার কবির, চাঁদপুরের মতলবে মো. আওলাদ হোসেন, ও শাহরাস্তিতে হাজী আবদুল লতিফ, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মো. গিয়াস উদ্দীন রুবেল ভাট, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে গিয়াস উদ্দিন, বারইয়ারহাটে মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও রাঙ্গুনিয়ায় মো. শাহজাহান সিকদার, গাজীপুরের কালীগঞ্জে এসএম রবীন হোসেন এবং নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাফিকা আকতার জাহান।

বগুড়া সদর পৌরসভায় বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা ও রংপুরের হারাগাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এরশাদুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফরিদপুরের মধুখালীতে আওয়ামী লীগের মো. শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় একই দলের মো. আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহীর পবায় ইয়াসিন আলী ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শেফালী বেগম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সহিংসতায় একজন নিহত

বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, দখল বর্জনে ভোট সম্পন্ন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা ভোটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার নির্বাচনি সহিংসতায় সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। চারঘাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কয়েকটি পৌরসভায় ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি পৌরসভার কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বাকি পৌরসভাগুলোয় তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতায় একজন ও ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ভোটের দিন বিজয়ী কাউন্সিলর খুন হন।
রোববার পঞ্চম ধাপের ২৯ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া একইদিন ঝিনাইদহের শৈলকুপা, ফরিদপুরের মধুখালী, রাজশাহীর পবা ও কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং চতুর্থ ধাপে স্থগিত হওয়া নরসিংদী পৌরসভার চারটি, শরীয়তপুরের দুটি ও সোনাইমুড়ীর একটি কেন্দ্রে ভোট হয়।
এদিকে পঞ্চম ধাপে ২৮টি পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি ১টি ও স্বতন্ত্র ১টিতে জয় পেয়েছেন।

এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাদারীপুরের শিবচর, চট্টগ্রামের মীরসরাই ও রাউজানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পান। গতকাল ভোটে ২৫টিতে জয় পেলো দলটি।

সবমিলিয়ে ২৮টি পৌরসভায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। অপরদিকে চারটি উপজেলা পরিষদের সবকটিতে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যানরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্থগিত শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভার দুটি কেন্দ্রে ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনি সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়, এ জন্য আমরা সবাই দুঃখিত। তিনি বলেন, ২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি, দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল নির্বাচন বর্জন করেন। তিনি দাবি করেন, থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের পাশের সড়কে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোটাররা কেন্দ্র থেকে চলে যান। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের মীরসরাই পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া জামালপুর, জয়পুরহাট, সৈয়দপুর, চারঘাটসহ কয়েকটি পৌরসভা নির্বাচনে কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

আমাদের সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, সৈয়দপুর পৌরসভায় ভোট চলাকালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নির্বাচনি এ সহিংসতায় ছোটন (৪০) নামে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক নিহত হন এবং পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় আহত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সৈয়দপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকদের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম রয়েলের সমর্থক ছোটন গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মো. আশিকুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মারামারির ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম রয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আযম আলী গুরুতর আহত হলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ছাড়া এ পৌর নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ৪, ৫, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একজন করে প্রার্থী বাদে বাকি সবাই ভোট বর্জন করেন।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্রিজ ও পাঞ্জাবি মার্কা প্রতীকে কাউন্সিলর প্রার্থীর মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ভোট চলাকালীন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মারামারির ঘটনাটি যেহেতু কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে, তাই ফৌজদারি মামলা পুলিশ প্রশাসন দেখবে।

এদিকে সৈয়দপুরে একজন নিহত হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এ জন্য আমরা সবাই দুঃখিত। সৈয়দপুরে নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সুরতহালে এরকমই পাওয়া গেছে। কোনো আঘাতে চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তে প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ বলতে পারব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে। যিনি মারা গেছেন তিনি পুলিশের গুলিতে মারা যাননি। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এখন এই মৃত্যুটি কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্ত হলেই আমরা বুঝতে পারব। আমাদের মূল্যায়নে এখন পর্যন্ত আমরা মনে করি ভোট ভালো হয়েছে।

নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, যদি কেউ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে, এটি নিতান্তই তার ইচ্ছে। তিনি করতেই পারেন। তিনি যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। আজ যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আপনারা জানেন চারঘাটে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, কোনো দুষ্কৃতকারী চার্জ করেছে। সেখানে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছে। রিটার্নিং অফিসার আমাদের জানিয়েছেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। ইভিএমে জালভোট দিতে গেলে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠে অ্যাকশন ছিল। আমরা বলতে পারি, এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সব সময় চায়, প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কাছে যে সহযোগিতা চাইবেন, নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে। বিএনপির এই ঘোষণায় ইসি কোনো প্রশ্নের মুখে পড়ল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি দেখা যাক। এখানো তফসিল ঘোষণা করিনি। তফসিল ঘোষণার সময় আমরা বিষয়টি দেখব।

ভোলা : ভোলা ও চরফ্যাশন পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শেষ হয়েছে। নানা কারণে পাঁচজনকে আটক ও ২০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। চরফ্যাশনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হুমায়ুন কবির সিকদার।

বগুড়া : বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রহিমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওনক জাহানের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করেন। এছাড়া দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চারঘাট (রাজশাহী) : থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৬টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষের দুই ঘণ্টা আগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল। তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী একরামুল হক।

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) : কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ৬নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবি প্রতীকের প্রার্থী আরিফের সমর্থক জুয়েলকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ গাজর প্রতীকের কর্মীরা। ৮নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়া এলাকায় অনেক ভোটার অভিযোগ করেন তাদের বাড়ি থেকে বের না হতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিল প্রতিপক্ষ। এ সময় সীমা আক্তার ও সুলতানা রাজিয়া নামে দুই বোন আহত হন। এছাড়া এই কেন্দ্রের কাউন্সিলর প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন দাবি করেন, তার ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে প্রতিপক্ষ।

জামালপুর : ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামালপুর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

জয়পুরহাট : এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামছুল হক।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরে বুথে ঢুকে ইভিএমের বোতাম টিপে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করায় নৌকা সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১২টার দিকে রায়পুর মার্চেন্ট সরকারি একাডেমি ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন সাধারণ ভোটার আহত হয়েছেন। 

ব্রাহ্মণাবড়িয়া : দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের পাশের সড়কে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোটকেন্দ্র থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। তবে ভোটারদের ভোটদানে কোনো সমস্যা হয়নি।

নরসিংদী : নরসিংদী পৌরসভায় স্থগিত ৪টি কেন্দ্রে পুনঃভোট হয়েছে।

যারা মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন : পঞ্চম ধাপে আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হলেন যারা : জয়পুরহাট সদরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মো. আব্দুর রশিদ, রাজশাহীর চারঘাটে মো. একরামুল হক ও দুর্গাপুরে মো. তোফাজ্জল হোসেন, ঝিনাইদহের মহেশপুরে মো. আব্দুর রশিদ খান ও কালীগঞ্জে মো. আশরাফুল আলম, যশোরের কেশবপুরে রফিকুল ইসলাম, ভোলা সদরে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও চরফ্যাশনে মো. মোরশেদ, জামালপুরের ইসলামপুরে মো. আব্দুল কাদের সেখ, মাদারগঞ্জে মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির ও জামালপুর সদরে মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহের নান্দাইলে মো. রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মো. ইফতেখার হোসেন, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আবু নাঈম মো. বাশার, মাদারীপুর সদরে মো. খালিদ হোসেন, হবিগঞ্জ সদরে আতাউর রহমান সেলিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে নায়ার কবির, চাঁদপুরের মতলবে মো. আওলাদ হোসেন, ও শাহরাস্তিতে হাজী আবদুল লতিফ, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মো. গিয়াস উদ্দীন রুবেল ভাট, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে গিয়াস উদ্দিন, বারইয়ারহাটে মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও রাঙ্গুনিয়ায় মো. শাহজাহান সিকদার, গাজীপুরের কালীগঞ্জে এসএম রবীন হোসেন এবং নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাফিকা আকতার জাহান।

বগুড়া সদর পৌরসভায় বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা ও রংপুরের হারাগাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এরশাদুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফরিদপুরের মধুখালীতে আওয়ামী লীগের মো. শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় একই দলের মো. আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহীর পবায় ইয়াসিন আলী ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শেফালী বেগম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন