ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
jugantor
অস্থির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
শিক্ষামন্ত্রীর আনুকূল্যে সব হয়েছে-উপাচার্য * বক্তব্য রুচিবিবর্জিত, বানোয়াট : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উপাচার্য ইস্যুতে অস্থির হয়ে উঠেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে উপাচার্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডন করে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক আঞ্চলিক রাজনীতির শিকার তিনি। তবে অভিযোগ খণ্ডন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি ব্যাখ্যা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। তাতে উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘নিতান্তই রুচিবিবর্জিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনটি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়। সোমবার ওই প্রতিবেদনের ওপর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে উপাচার্যের অবকাঠামো নির্মাণে অবহেলা, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনের অনৈতিকতা, অদক্ষতাসহ বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে। বিশেষ করে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বলে জানায় ইউজিসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ)। তিনি দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তার সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতি করছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে করা মোটেও ঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যা অপপ্রচার, অপবাদ হয়েছে- সব শিক্ষামন্ত্রীর আনুকূল্যে হয়েছে। তিনি খোলামেলা কথা বলার মানুষ। কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলতে সংবাদ সম্মেলন করছেন এবং পরিণতি বিবেচনা করেই তা করছেন। লুকিয়ে-ছাপিয়ে কথা বলবেন না তিনি। সব খোলাসা করতেই তিনি এসেছেন। তিনি কোনোদিন সত্য কথা বলতে পিছপা হননি, আজও হবেন না।

উপাচার্য বলেন, চাঁদপুরের স্থানীয় রাজনীতি এখানে প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করেছে। তিনি ওই অঞ্চল থেকে এসেছেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে করা মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, যতবার তারা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিডিউল বা ক্রোড়পত্রের জন্য বাণী চেয়েছেন তা পাননি। অথচ উপমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি বাণী দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর বাণী কখনো পাননি।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। সকাল ১০টায় প্রোগ্রাম ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এসেছিলেন বিকাল ৪টায়। ভিসিদের পুরো দিন শিক্ষামন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেটা খুবই অসৌজন্যমূলক একটি কাজ হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এমনটি ঘটেনি। অধ্যাপক কলিমুল্লাহ বলেন, পুরো বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি যা কিছু করেছেন, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের জবাব : বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শিক্ষামন্ত্রীকে জড়িয়ে উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্যকে নিতান্তই রুচিবিবর্জিত বলে উল্লেখ করেছে। বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। উপাচার্য সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। যা নিতান্তই অনভিপ্রেত। তিনি উপাচার্যদের নিয়ে যে সভাটিতে মন্ত্রীর দেরিতে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সেটি গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে হওয়ার কথা ছিল। পরে পরিবর্তন করে বিকালে নেওয়া হয়। ওই একইদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় এবং সে সভাটি উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনার আগে হলে ভালো হয় বিবেচিত হওয়ায় উপাচার্যদের সঙ্গে নির্ধারিত সভার সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে নিয়োগ নির্দেশিকার সভাটি হওয়ায় উপাচার্যদের সভায় যোগ দিতে দেরি হয়। তবে অনিচ্ছাকৃত ওই বিলম্বের জন্য সেদিনই বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

বলা হয়, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকাশনার জন্য মন্ত্রীর একটি বাণী একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সে পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর বাণীটি দেওয়া সমীচীন মনে করেননি। আর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যেসব বক্তব্য রেখেছেন উপাচার্য, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এখন কোনো মন্তব্য করবে না। কেননা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সভায় পর্যালোচনা হবে। তাছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে। আর উপরোক্ত বিষয়ের বাইরে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার কথা উল্লেখ করে ও রাজনীতিকে জড়িয়ে করা মন্তব্য মন্ত্রণালয়ের কোনো বিষয় না হওয়ায় (মন্ত্রণালয়) এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত : রংপুর ব্যুরো জানায়, শিক্ষামন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে উপাচার্যকে অভিযুক্ত করে দেওয়া প্রতিবেদনের পর তিনি ঢাকায় বসে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে আজকে ১৩৫৬ দিন অতিবাহিত। এর মধ্যে তিনি ১১১৯ দিনই ক্যাম্পাসে না এসে ঢাকায় ছিলেন। অথচ উপাচার্য ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন বলে মিথ্যাচার করেছেন। তার সময়েই নকশা পরিবর্তনসহ যত দুর্নীতি হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভরিয়ে ফেলেছেন। ভিসি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন।

স্পিকারসহ সরকারের কর্তাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য করেন। ইউজিসির বিষয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন। সরকারের উন্নয়নসহ সবকিছুর বিষয়েই তিনি বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন, ‘এসব মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহসভাপতি এইচএম তরিকুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফসহ পরিষদের অন্য সদস্যরা।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদ : বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সুরক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে উপাচার্যের বক্তব্যকে দম্ভোক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে দ্রুত অপসারণ করে বিচারও দাবি করেন। তারা বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মিথ্যাচার করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসিকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা করেছেন।

অস্থির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রীর আনুকূল্যে সব হয়েছে-উপাচার্য * বক্তব্য রুচিবিবর্জিত, বানোয়াট : শিক্ষা মন্ত্রণালয়
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উপাচার্য ইস্যুতে অস্থির হয়ে উঠেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে উপাচার্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডন করে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক আঞ্চলিক রাজনীতির শিকার তিনি। তবে অভিযোগ খণ্ডন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি ব্যাখ্যা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। তাতে উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘নিতান্তই রুচিবিবর্জিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনটি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়। সোমবার ওই প্রতিবেদনের ওপর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে উপাচার্যের অবকাঠামো নির্মাণে অবহেলা, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনের অনৈতিকতা, অদক্ষতাসহ বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে। বিশেষ করে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বলে জানায় ইউজিসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ)। তিনি দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তার সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতি করছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে করা মোটেও ঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যা অপপ্রচার, অপবাদ হয়েছে- সব শিক্ষামন্ত্রীর আনুকূল্যে হয়েছে। তিনি খোলামেলা কথা বলার মানুষ। কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলতে সংবাদ সম্মেলন করছেন এবং পরিণতি বিবেচনা করেই তা করছেন। লুকিয়ে-ছাপিয়ে কথা বলবেন না তিনি। সব খোলাসা করতেই তিনি এসেছেন। তিনি কোনোদিন সত্য কথা বলতে পিছপা হননি, আজও হবেন না।

উপাচার্য বলেন, চাঁদপুরের স্থানীয় রাজনীতি এখানে প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করেছে। তিনি ওই অঞ্চল থেকে এসেছেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে করা মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, যতবার তারা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিডিউল বা ক্রোড়পত্রের জন্য বাণী চেয়েছেন তা পাননি। অথচ উপমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি বাণী দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর বাণী কখনো পাননি।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। সকাল ১০টায় প্রোগ্রাম ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এসেছিলেন বিকাল ৪টায়। ভিসিদের পুরো দিন শিক্ষামন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেটা খুবই অসৌজন্যমূলক একটি কাজ হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এমনটি ঘটেনি। অধ্যাপক কলিমুল্লাহ বলেন, পুরো বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি যা কিছু করেছেন, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের জবাব : বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শিক্ষামন্ত্রীকে জড়িয়ে উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্যকে নিতান্তই রুচিবিবর্জিত বলে উল্লেখ করেছে। বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। উপাচার্য সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। যা নিতান্তই অনভিপ্রেত। তিনি উপাচার্যদের নিয়ে যে সভাটিতে মন্ত্রীর দেরিতে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সেটি গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে হওয়ার কথা ছিল। পরে পরিবর্তন করে বিকালে নেওয়া হয়। ওই একইদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় এবং সে সভাটি উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনার আগে হলে ভালো হয় বিবেচিত হওয়ায় উপাচার্যদের সঙ্গে নির্ধারিত সভার সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে নিয়োগ নির্দেশিকার সভাটি হওয়ায় উপাচার্যদের সভায় যোগ দিতে দেরি হয়। তবে অনিচ্ছাকৃত ওই বিলম্বের জন্য সেদিনই বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

বলা হয়, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকাশনার জন্য মন্ত্রীর একটি বাণী একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সে পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর বাণীটি দেওয়া সমীচীন মনে করেননি। আর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যেসব বক্তব্য রেখেছেন উপাচার্য, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এখন কোনো মন্তব্য করবে না। কেননা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সভায় পর্যালোচনা হবে। তাছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে। আর উপরোক্ত বিষয়ের বাইরে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার কথা উল্লেখ করে ও রাজনীতিকে জড়িয়ে করা মন্তব্য মন্ত্রণালয়ের কোনো বিষয় না হওয়ায় (মন্ত্রণালয়) এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত : রংপুর ব্যুরো জানায়, শিক্ষামন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে উপাচার্যকে অভিযুক্ত করে দেওয়া প্রতিবেদনের পর তিনি ঢাকায় বসে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে আজকে ১৩৫৬ দিন অতিবাহিত। এর মধ্যে তিনি ১১১৯ দিনই ক্যাম্পাসে না এসে ঢাকায় ছিলেন। অথচ উপাচার্য ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন বলে মিথ্যাচার করেছেন। তার সময়েই নকশা পরিবর্তনসহ যত দুর্নীতি হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভরিয়ে ফেলেছেন। ভিসি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন।

স্পিকারসহ সরকারের কর্তাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য করেন। ইউজিসির বিষয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন। সরকারের উন্নয়নসহ সবকিছুর বিষয়েই তিনি বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন, ‘এসব মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহসভাপতি এইচএম তরিকুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফসহ পরিষদের অন্য সদস্যরা।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদ : বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সুরক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে উপাচার্যের বক্তব্যকে দম্ভোক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে দ্রুত অপসারণ করে বিচারও দাবি করেন। তারা বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মিথ্যাচার করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসিকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন