চিরনিদ্রায় শায়িত এইচটি ইমাম
jugantor
উল্লাপাড়া ও ঢাকায় জানাজা
চিরনিদ্রায় শায়িত এইচটি ইমাম
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা * কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচটি ইমামের লাশ বৃহস্পতিবার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে বেলা দেড়টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ রাখা হয়। সেখানে তার প্রতি রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও বনানী আজাদ মসজিদে তার দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। জানাজার আগে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বুধবার রাত ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এইচটি ইমাম ইন্তেকাল করেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য এইচটি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা শোক জানিয়েছেন।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচটি ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি (ইমাম) দেশের স্বাধীনতার চেতনার উন্নয়নে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। এছাড়া তিনি সদ্যস্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক সার্ভিসে এইচটি ইমামের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের পুরো সময়টাও তিনি একই পদে থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। এছাড়া জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম শোক জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা : বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা থেকে বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এইচটি ইমামের প্রতি নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলিতে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। শুরুতে এইচটি ইমামের প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ প্রমুখ। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, কবি কামাল চৌধুরী। সাংগঠনিক পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি, যুব মহিলা লীগ, পূজা উদযাপন পরিষদ, জাসদ (ইনু), ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সাংবাদিক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সমিতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এইচটি ইমামের নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বাবা কখনো বিচ্যুত হননি : এইচটি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম বলেছেন, আমার বাবা সব সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করতেন। এ আদর্শ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। তার জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য তার বাবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করেছেন। বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তানভীর ইমাম বলেন, অসুস্থ হয়ে তার কথা বলা বন্ধ হওয়ার আগে আমাকে বলেছিলেন- ‘তুমি সবার কাছে আমার জন্য মাফ চাইবে। সবাই যেন আমাকে মাফ করে দেন।’ তিনি নিজেও জোরে জোরে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই তার কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আর কেউ তার কথা শুনতে পাইনি।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন : এইচটি (হোসেন তৌফিক) ইমাম ১৯৩৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তাফসির উদ্দীন আহমেদ ও মা তাহসিন খাতুন। বাবার চাকরি সূত্রে এইচটি ইমাম রাজশাহী, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায় লেখাপড়া করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে তিনি ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে রাজশাহী কলেজে তিনি ভর্তি হন এবং সেখান থেকে তিনি ১৯৫৬ সালে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস (সিএসপি) পরীক্ষায় তিনি ৪র্থ স্থান লাভ করেন। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে ‘উন্নয়ন প্রশাসনে’ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।

১৯৭১ সালে এইচটি ইমাম অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি সড়ক এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত পরিকল্পনা সচিবের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যমুনা মাল্টিপারপাস ব্রিজ অথরিটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসাবে এইচটি ইমাম দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়।

উল্লাপাড়ায় প্রথম জানাজায় লাখো মানুষের ঢল : উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে এইচটি ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ নিজ গ্রাম সোনতলায় আনা হয়। এ সময় সোনতলাসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের শত শত নর-নারী সোনতলা তফছির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হয়। এরপর তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে আকবর আলী কলেজ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে।

রাঙামাটিতে শোকসভা : রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, এইচটি ইমামের মৃত্যুতে রাঙামাটিতে শোকসভা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবচার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, এইচটি ইমাম মহান মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠক ছিলেন। তৎকালীন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এইচটি ইমাম পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় সর্বাত্মক সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

উল্লাপাড়া ও ঢাকায় জানাজা

চিরনিদ্রায় শায়িত এইচটি ইমাম

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা * কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচটি ইমামের লাশ বৃহস্পতিবার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে বেলা দেড়টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ রাখা হয়। সেখানে তার প্রতি রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও বনানী আজাদ মসজিদে তার দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। জানাজার আগে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বুধবার রাত ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এইচটি ইমাম ইন্তেকাল করেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য এইচটি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা শোক জানিয়েছেন।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচটি ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি (ইমাম) দেশের স্বাধীনতার চেতনার উন্নয়নে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। এছাড়া তিনি সদ্যস্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক সার্ভিসে এইচটি ইমামের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের পুরো সময়টাও তিনি একই পদে থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। এছাড়া জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম শোক জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা : বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা থেকে বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এইচটি ইমামের প্রতি নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলিতে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। শুরুতে এইচটি ইমামের প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ প্রমুখ। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, কবি কামাল চৌধুরী। সাংগঠনিক পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি, যুব মহিলা লীগ, পূজা উদযাপন পরিষদ, জাসদ (ইনু), ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সাংবাদিক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সমিতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এইচটি ইমামের নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বাবা কখনো বিচ্যুত হননি : এইচটি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম বলেছেন, আমার বাবা সব সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করতেন। এ আদর্শ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। তার জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য তার বাবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করেছেন। বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তানভীর ইমাম বলেন, অসুস্থ হয়ে তার কথা বলা বন্ধ হওয়ার আগে আমাকে বলেছিলেন- ‘তুমি সবার কাছে আমার জন্য মাফ চাইবে। সবাই যেন আমাকে মাফ করে দেন।’ তিনি নিজেও জোরে জোরে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই তার কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আর কেউ তার কথা শুনতে পাইনি।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন : এইচটি (হোসেন তৌফিক) ইমাম ১৯৩৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তাফসির উদ্দীন আহমেদ ও মা তাহসিন খাতুন। বাবার চাকরি সূত্রে এইচটি ইমাম রাজশাহী, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায় লেখাপড়া করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে তিনি ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে রাজশাহী কলেজে তিনি ভর্তি হন এবং সেখান থেকে তিনি ১৯৫৬ সালে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস (সিএসপি) পরীক্ষায় তিনি ৪র্থ স্থান লাভ করেন। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে ‘উন্নয়ন প্রশাসনে’ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।

১৯৭১ সালে এইচটি ইমাম অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি সড়ক এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত পরিকল্পনা সচিবের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যমুনা মাল্টিপারপাস ব্রিজ অথরিটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসাবে এইচটি ইমাম দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়।

উল্লাপাড়ায় প্রথম জানাজায় লাখো মানুষের ঢল : উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে এইচটি ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ নিজ গ্রাম সোনতলায় আনা হয়। এ সময় সোনতলাসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের শত শত নর-নারী সোনতলা তফছির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হয়। এরপর তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে আকবর আলী কলেজ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে।

রাঙামাটিতে শোকসভা : রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, এইচটি ইমামের মৃত্যুতে রাঙামাটিতে শোকসভা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবচার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, এইচটি ইমাম মহান মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠক ছিলেন। তৎকালীন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এইচটি ইমাম পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় সর্বাত্মক সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন