নন্দীগ্রামে প্রার্থী মমতা, তালিকায় ১০ তারকা
jugantor
আংশিক তালিকা বামদের
নন্দীগ্রামে প্রার্থী মমতা, তালিকায় ১০ তারকা

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

০৬ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টিতে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।

এবার মমতা নিজের পুরোনো আসন ভবানীপুরের পরিবর্তে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামকে বেছে নিয়েছেন। বহুজাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ নন্দীগ্রামে দুবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রার্থিতা ঘোষণায় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

অবশ্য মমতার এ সিদ্ধান্তের মধ্যে ‘রাজনীতি’ দেখছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এদিকে একইদিন বামদলগুলো আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে।

এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি পাঁচজন মন্ত্রীকে বাদ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৪৯ জন পুরনো বিধায়ক বাদ পড়েছেন।

২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে মহিলা ৫০ জন, মুসলিম ৪২ জন এবং তফসিলি প্রার্থী ৭৯ জন। পুরনো বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বাদ দেওয়া সম্পর্কে মমতার ঘোষণা, ‘৮০ বছরের বেশি বয়সি কয়েকজনকে যেমন বাদ দিয়েছি, তেমনই অন্য সব বিষয়ও রয়েছে। নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে সমন্বয় করেই প্রার্থী তালিকা করা হয়েছে।’

মমতার তালিকায় টলিউডের অভিনেতা, অভিনেত্রী ও চিত্রপরিচালক যেমন ঠাঁই পেয়েছেন, তেমনই ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি ও সাবেক ফুটবলার বিদেশ বসু, মানস ব্যানার্জিরাও টিকিট পেয়েছেন।

মমতার প্রার্থী হয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা, জুন মালিকা, কাঞ্চন মল্লিক, সোহম চক্রবর্তী, জল নূপুরের নায়িকা লাভলিরা।

পশ্চিমবঙ্গে আগে টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বামদলগুলো আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ৬০টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ও কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।

যে আসনে কংগ্রেস বা আইএসএফ প্রার্থী দেবে, সেই আসনগুলো সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

তবে প্রথম দফায় পূর্ব মেদিনীপুর এগরা, পুরুলিয়ার কাশীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা কেন্দ্রেও ভোট রয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় দফাতেও নন্দীগ্রাম, পিংলা এবং দাসপুর কেন্দ্রেও কোন দল প্রার্থী দেবে, তা ঠিক হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোটের মধ্যে প্রথম দফায় ২৭ মার্চ নির্বাচন হবে।

মমতার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। পূর্ণেন্দুর কেন্দ্র রাজারহাট-গোপালপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ২৪ ঘণ্টা আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি।

যিনি স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি দেবরাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যানপালন দপ্তরের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাকে ভাঙড়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

একদা বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য রেজ্জাককে বয়সের কারণেই ‘অব্যাহতি’ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটের আরেক দাবিদার, সাবেক বিধায়ক আরাবুল ইসলামকেও হতাশ হতে হয়েছে।

ভাঙড়ে এবার তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সিপিএম নেতা ডা. মহম্মদ রেজাউল করিম। বাদ পড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন (তফসিলি) কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা।

সেখানে টিকিট পেয়েছেন কল্পনা কিস্কু। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী রত্না ঘোষ করও তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে ছাঁটাই হয়েছেন। তিনি ছিলেন নদিয়ার চাকদহের বিধায়ক।

সেখানে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক শঙ্কর সিংহের ছেলে শুভঙ্করকে টিকিট দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। তৃণমূল সূত্র জানায়, স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরোধিতার কারণেই রত্নাকে ভোটে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ নন্দীগ্রামে এবার প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মমতা তার আগের ভবানীপুর আসনটি রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ছেড়ে দিয়েছেন।

নন্দীগ্রাম থেকে যে তিনি লড়বেন, তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মমতা। ২০১১ ও ২০১৬ সালে তিনি ভবানীপুর থেকে জিতেছেন। ফলে ভবানীপুরের প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল।

ভবানীপুরের জন্য মমতা তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক শোভনদেবকে বেছে নিয়েছেন। কারণ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের কংগ্রেস বিধায়ক হৈমী বসুর মৃত্যুতে ওই আসনের উপনির্বাচনে শোভনদেব জয়ী হয়ে তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করেছিলেন। এবার সেই শোভনদেবকেই নিজের আসন ছেড়ে দিলেন মমতা।

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এ সিদ্ধান্তের মধ্যে অবশ্য ‘রাজনীতি’ দেখছে। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ টুইট করে বলেছেন, ‘নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে মমতা ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামে একটি ঐতিহাসিক লং-জাম্প দিয়েছেন।

কিন্তু আপনি দৌড়ালেও লুকোতে পারবেন না। নন্দীগ্রাম ভুলে যান। বাংলার কোনো আসনই মমতার জন্য নিরাপদ নয়।’

বিজেপির প্রথম সারির নেতা শিশির বাজোরিয়ার কথায়, ‘বুঝতে হবে যে, মুখ্যমন্ত্রী একজন অভিজ্ঞ এবং পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতে ভবানীপুর লড়তে দিয়েছেন।

উনি যদি অত নিশ্চিন্তই হতেন, তা হলে তো কোনো তারকা প্রার্থীকে ভবানীপুরে দাঁড় করিয়ে হাসতে হাসতে জিতিয়ে আনতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর নিয়ে নিশ্চিত নন।’ শিশিরের আরও দাবি, অবাঙালি অধ্যুষিত ভবানীপুর কেন্দ্র আর তৃণমূলের জন্য নিরাপদ নয়।

সেটা বুঝেই মমতা নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন। নন্দীগ্রাম যেমন এবারের নির্বাচনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, তেমনই ভবানীপুর নির্বাচনী আকর্ষণের দ্বিতীয় কেন্দ্রবিন্দু।

কারণ নন্দীগ্রামে মমতা যেমন নিজে প্রার্থী হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, একই সঙ্গে শোভনদেবকে ভবানীপুরে প্রার্থী করে আরও বড় একটা চ্যালেঞ্জ নিলেন মমতা।

কারণ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ভবানীপুর তার ‘বড়বোন’। এবার সেই বড়বোনকে রক্ষার দায়িত্ব দিলেন একদা বক্সিং রিংয়ে অনায়াস শোভনদেবকে।

আংশিক তালিকা বামদের

নন্দীগ্রামে প্রার্থী মমতা, তালিকায় ১০ তারকা

 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
০৬ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মমতা
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টিতে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।

এবার মমতা নিজের পুরোনো আসন ভবানীপুরের পরিবর্তে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামকে বেছে নিয়েছেন। বহুজাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ নন্দীগ্রামে দুবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রার্থিতা ঘোষণায় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

অবশ্য মমতার এ সিদ্ধান্তের মধ্যে ‘রাজনীতি’ দেখছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এদিকে একইদিন বামদলগুলো আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে।

এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি পাঁচজন মন্ত্রীকে বাদ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৪৯ জন পুরনো বিধায়ক বাদ পড়েছেন।

২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে মহিলা ৫০ জন, মুসলিম ৪২ জন এবং তফসিলি প্রার্থী ৭৯ জন। পুরনো বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বাদ দেওয়া সম্পর্কে মমতার ঘোষণা, ‘৮০ বছরের বেশি বয়সি কয়েকজনকে যেমন বাদ দিয়েছি, তেমনই অন্য সব বিষয়ও রয়েছে। নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে সমন্বয় করেই প্রার্থী তালিকা করা হয়েছে।’

মমতার তালিকায় টলিউডের অভিনেতা, অভিনেত্রী ও চিত্রপরিচালক যেমন ঠাঁই পেয়েছেন, তেমনই ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি ও সাবেক ফুটবলার বিদেশ বসু, মানস ব্যানার্জিরাও টিকিট পেয়েছেন।

মমতার প্রার্থী হয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা, জুন মালিকা, কাঞ্চন মল্লিক, সোহম চক্রবর্তী, জল নূপুরের নায়িকা লাভলিরা।

পশ্চিমবঙ্গে আগে টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বামদলগুলো আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ৬০টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ও কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।

যে আসনে কংগ্রেস বা আইএসএফ প্রার্থী দেবে, সেই আসনগুলো সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

তবে প্রথম দফায় পূর্ব মেদিনীপুর এগরা, পুরুলিয়ার কাশীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা কেন্দ্রেও ভোট রয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় দফাতেও নন্দীগ্রাম, পিংলা এবং দাসপুর কেন্দ্রেও কোন দল প্রার্থী দেবে, তা ঠিক হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোটের মধ্যে প্রথম দফায় ২৭ মার্চ নির্বাচন হবে। 

মমতার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। পূর্ণেন্দুর কেন্দ্র রাজারহাট-গোপালপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ২৪ ঘণ্টা আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি।

যিনি স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি দেবরাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যানপালন দপ্তরের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাকে ভাঙড়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

একদা বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য রেজ্জাককে বয়সের কারণেই ‘অব্যাহতি’ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটের আরেক দাবিদার, সাবেক বিধায়ক আরাবুল ইসলামকেও হতাশ হতে হয়েছে।

ভাঙড়ে এবার তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সিপিএম নেতা ডা. মহম্মদ রেজাউল করিম। বাদ পড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন (তফসিলি) কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা।

সেখানে টিকিট পেয়েছেন কল্পনা কিস্কু। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী রত্না ঘোষ করও তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে ছাঁটাই হয়েছেন। তিনি ছিলেন নদিয়ার চাকদহের বিধায়ক।

সেখানে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক শঙ্কর সিংহের ছেলে শুভঙ্করকে টিকিট দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। তৃণমূল সূত্র জানায়, স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরোধিতার কারণেই রত্নাকে ভোটে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ নন্দীগ্রামে এবার প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মমতা তার আগের ভবানীপুর আসনটি রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ছেড়ে দিয়েছেন।

নন্দীগ্রাম থেকে যে তিনি লড়বেন, তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মমতা। ২০১১ ও ২০১৬ সালে তিনি ভবানীপুর থেকে জিতেছেন। ফলে ভবানীপুরের প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল।

ভবানীপুরের জন্য মমতা তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক শোভনদেবকে বেছে নিয়েছেন। কারণ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের কংগ্রেস বিধায়ক হৈমী বসুর মৃত্যুতে ওই আসনের উপনির্বাচনে শোভনদেব জয়ী হয়ে তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করেছিলেন। এবার সেই শোভনদেবকেই নিজের আসন ছেড়ে দিলেন মমতা।

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এ সিদ্ধান্তের মধ্যে অবশ্য ‘রাজনীতি’ দেখছে। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ টুইট করে বলেছেন, ‘নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে মমতা ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামে একটি ঐতিহাসিক লং-জাম্প দিয়েছেন।

কিন্তু আপনি দৌড়ালেও লুকোতে পারবেন না। নন্দীগ্রাম ভুলে যান। বাংলার কোনো আসনই মমতার জন্য নিরাপদ নয়।’

বিজেপির প্রথম সারির নেতা শিশির বাজোরিয়ার কথায়, ‘বুঝতে হবে যে, মুখ্যমন্ত্রী একজন অভিজ্ঞ এবং পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতে ভবানীপুর লড়তে দিয়েছেন।

উনি যদি অত নিশ্চিন্তই হতেন, তা হলে তো কোনো তারকা প্রার্থীকে ভবানীপুরে দাঁড় করিয়ে হাসতে হাসতে জিতিয়ে আনতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর নিয়ে নিশ্চিত নন।’ শিশিরের আরও দাবি, অবাঙালি অধ্যুষিত ভবানীপুর কেন্দ্র আর তৃণমূলের জন্য নিরাপদ নয়।

সেটা বুঝেই মমতা নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন। নন্দীগ্রাম যেমন এবারের নির্বাচনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, তেমনই ভবানীপুর নির্বাচনী আকর্ষণের দ্বিতীয় কেন্দ্রবিন্দু।

কারণ নন্দীগ্রামে মমতা যেমন নিজে প্রার্থী হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, একই সঙ্গে শোভনদেবকে ভবানীপুরে প্রার্থী করে আরও বড় একটা চ্যালেঞ্জ নিলেন মমতা।

কারণ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ভবানীপুর তার ‘বড়বোন’। এবার সেই বড়বোনকে রক্ষার দায়িত্ব দিলেন একদা বক্সিং রিংয়ে অনায়াস শোভনদেবকে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন