স্বাধীন দেশের স্বপ্ন সবার চোখে
jugantor
অগ্নিঝরা মার্চ
স্বাধীন দেশের স্বপ্ন সবার চোখে

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

১৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অসহযোগ আন্দোলন চলছে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের যে কোনো আঘাতের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাঙালি। স্বাধীন দেশের স্বপ্ন সবার চোখে।

১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অফিস-আদালতে পূর্ণ কর্মবিরতি চলে। রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী সভা ও শোভাযাত্রা হয়। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে এবং যানবাহনে কালো পতাকা উড়ে।

একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান তাকে স্বাগত জানান। কোনো সাংবাদিক ও বাঙালিকে এ সময় বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না-এটি বুঝতে অসুবিধা হয়নি পাকিস্তানি সামরিক জান্তার। কূটকৌশল নিয়ে করাচি থেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় এলেও বাঙালি স্বাধীনতার দাবি থেকে একচুলও সরেনি। বরং এ দাবিতে পূর্ব পাকিস্তান ক্রমেই উত্তাল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শহরে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং চলতে থাকে।

এদিন কবি সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে তোপখানা রোডে মহিলাদের সভা হয়। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বেতার ও টিভি শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে গণসংগীত, পথনাটক পরিবেশন করেন। নতুন সামরিক বিধি জারির প্রতিবাদে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সভার আয়োজন করে। সভায় ছাত্রনেতারা অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশবাসীকে অধিকার বঞ্চিত করার প্রতিবাদস্বরূপ শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরা তাদের খেতাব বর্জন অব্যাহত রাখেন। শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শিল্পাচার্য জয়নুলের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী তাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব বর্জন করেন। এ বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

খুলনার হাদিস পার্কের জনসভায় বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলার প্রতিটি মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুর পেছনে একতাবদ্ধ। তিনি বলেন, রেডিও, টিভি, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, সেক্রেটারিয়েট প্রভৃতি আজ আওয়ামী লীগ প্রধানের আজ্ঞাবাহী।

এদিন নেত্রকোনায় সুইপার ও ঝাড়ুদাররা ঝাড়ু, দা, লাঠি ও কোদাল নিয়ে মিছিল করেন। এছাড়া বগুড়া, খুলনা, রংপুর, লাকসাম, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার পক্ষে মিছিল-সমাবেশ হয়।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচিতে সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাবি উত্থাপন করে বলেন, ‘কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও পিপলস পার্টির সমন্বয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে।’

এদিন করাচিতে এক জনসভায় কয়েকজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বলেন, ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনেক কথাই বলেছেন। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন তার পিপলস পার্টি এ অঞ্চলে শতকরা ৩৮ ভাগ ভোটও পায়নি। তারা বলেন, ক্ষমতা লাভ করার জন্য আওয়ামী লীগই একমাত্র দল।

রাতে ঢাকায় প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ বিবৃতির মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের ব্যাখ্যা করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ আহ্বানে জনগণের নিরঙ্কুশ সাড়া পাওয়া গেছে।

অগ্নিঝরা মার্চ

স্বাধীন দেশের স্বপ্ন সবার চোখে

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
১৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অসহযোগ আন্দোলন চলছে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের যে কোনো আঘাতের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাঙালি। স্বাধীন দেশের স্বপ্ন সবার চোখে।

১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অফিস-আদালতে পূর্ণ কর্মবিরতি চলে। রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী সভা ও শোভাযাত্রা হয়। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে এবং যানবাহনে কালো পতাকা উড়ে।

একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান তাকে স্বাগত জানান। কোনো সাংবাদিক ও বাঙালিকে এ সময় বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না-এটি বুঝতে অসুবিধা হয়নি পাকিস্তানি সামরিক জান্তার। কূটকৌশল নিয়ে করাচি থেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় এলেও বাঙালি স্বাধীনতার দাবি থেকে একচুলও সরেনি। বরং এ দাবিতে পূর্ব পাকিস্তান ক্রমেই উত্তাল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শহরে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং চলতে থাকে।

এদিন কবি সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে তোপখানা রোডে মহিলাদের সভা হয়। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বেতার ও টিভি শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে গণসংগীত, পথনাটক পরিবেশন করেন। নতুন সামরিক বিধি জারির প্রতিবাদে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সভার আয়োজন করে। সভায় ছাত্রনেতারা অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশবাসীকে অধিকার বঞ্চিত করার প্রতিবাদস্বরূপ শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরা তাদের খেতাব বর্জন অব্যাহত রাখেন। শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শিল্পাচার্য জয়নুলের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী তাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব বর্জন করেন। এ বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

খুলনার হাদিস পার্কের জনসভায় বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলার প্রতিটি মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুর পেছনে একতাবদ্ধ। তিনি বলেন, রেডিও, টিভি, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, সেক্রেটারিয়েট প্রভৃতি আজ আওয়ামী লীগ প্রধানের আজ্ঞাবাহী।

এদিন নেত্রকোনায় সুইপার ও ঝাড়ুদাররা ঝাড়ু, দা, লাঠি ও কোদাল নিয়ে মিছিল করেন। এছাড়া বগুড়া, খুলনা, রংপুর, লাকসাম, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার পক্ষে মিছিল-সমাবেশ হয়।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচিতে সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাবি উত্থাপন করে বলেন, ‘কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও পিপলস পার্টির সমন্বয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে।’

এদিন করাচিতে এক জনসভায় কয়েকজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বলেন, ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনেক কথাই বলেছেন। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন তার পিপলস পার্টি এ অঞ্চলে শতকরা ৩৮ ভাগ ভোটও পায়নি। তারা বলেন, ক্ষমতা লাভ করার জন্য আওয়ামী লীগই একমাত্র দল।

রাতে ঢাকায় প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ বিবৃতির মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের ব্যাখ্যা করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ আহ্বানে জনগণের নিরঙ্কুশ সাড়া পাওয়া গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অগ্নিঝরা মার্চ

২১ মার্চ, ২০২১
১৮ মার্চ, ২০২১