প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি
jugantor
প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি

  আতাউর রহমান  

১৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পঞ্চাশ বছর আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি-এ কথা আমি নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম।

তারই প্রদত্ত ১৯৭১-এর ৭ মার্চের বক্তৃতা বাঙালির রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং বহু প্রাণের বিনিময়ে এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাম উৎকীর্ণ করতে পেরেছিলাম এবং আমরা মুক্ত হলাম অপমান ও সব ধরনের নিষ্পেষণের সুকঠিন লৌহকপাট থেকে।

আমাদের জাতির পিতার ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বক্তৃতা কেবল দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করার বক্তৃতা ছিল না-এ অবিস্মরণীয় বক্তৃতা ছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ চালনার ব্যবস্থাপত্র। এরপর পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম তাণ্ডবলীলা ঘটে গেল আমাদের দেশে।

তার রাষ্ট্র পরিচালনার মাত্র সাড়ে তিন বছরের প্রান্তে পৃথিবীর নৃশংসতম ও জঘন্যতম খুনিদের দল ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাদের দেশে এবং আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল দেশের প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এমনকি তার শিশুপুত্র শেখ রাসেলকেও তারা রেহাই দিল না।

এরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের শত্রু ছিল যারা বাঙালিদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুত্থান ও অস্তিত্বকে মেনে নিতে পারেনি। দেশীয় শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল বিদেশি শত্রুরা।

ভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর দুই তনয়া- শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তার জ্যেষ্ঠ কন্যা আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পিতার হাতের আলোর বর্তিকাটি নিজ হাতে তুলে নিয়ে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন উন্নয়নের এক মহাসড়কে।

বাঙালি বীরের জাতি। সব সুকুমার গুণাবলির অধিকারী হয়েও বাঙালি সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করতে জানে। নিজেদের দাবি আদায় করার জন্য যুদ্ধ করতে জানে। বাঙালির ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেয়েছে। বাঙালির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ছোট আয়তনের দেশ হয়েও বাঙালি জাতি একটি গৌরবজনক মানবিক ঐতিহ্যের জয়-তিলক বহন করে চলেছে।

সব জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সম-অধিকারের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এই বৈশ্বিক মহামারির দীর্ঘসময়েও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করছেন।

১৯৭১ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সময়ে তার বিদেশ সচিব চতুর হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়ে বক্রোক্তি করেছিলেন। আজ বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে এ জন্য যে, এই ঘনবসতিপূর্ণ ছোট্ট আয়তনের একটি দেশ বিশ্বসংসারে একটি সম্ভ্রমপূর্ণ আলোচিত দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ গৌরবের স্থানে অধিষ্ঠিত।

বাংলাদেশ দীর্ঘসময় পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করার তালিকায় সব শর্ত পূর্ণ করে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাবে।

বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি পেল যখন আমারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি এবং পালন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ অতিমারির সময়েও দেশবাসীর মনটা ভালো হয়ে গেল এই কাক্সিক্ষত অর্জনে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা যথার্থভাবেই এ অর্জনকে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করেছেন। ২০৩১ সালে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করবে এবং ২০৪১ সালে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ জিডিপি-এর হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় স্থান অধিকারের মর্যাদা পেয়েছে। উচ্চ হারের জিডিপি অর্জনের বাংলাদেশ এশিয়ায় এবং বিশ্বের অনেক দেশকেই ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

আজ আমাদের আনন্দ এজন্য-আমাদের অনেক কষ্টার্জিত বাংলাদেশ; আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব মানচিত্রে উন্নত দেশের মর্যাদায় দাঁড়িয়ে গৌরবান্বিত হবে। দেশমাতৃকার পরাজয় নেই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা, জয় আমাদের নতুন প্রজন্মের।

লেখক : অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, লেখক, কবি

প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি

 আতাউর রহমান 
১৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পঞ্চাশ বছর আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি-এ কথা আমি নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম।

তারই প্রদত্ত ১৯৭১-এর ৭ মার্চের বক্তৃতা বাঙালির রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং বহু প্রাণের বিনিময়ে এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাম উৎকীর্ণ করতে পেরেছিলাম এবং আমরা মুক্ত হলাম অপমান ও সব ধরনের নিষ্পেষণের সুকঠিন লৌহকপাট থেকে।

আমাদের জাতির পিতার ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বক্তৃতা কেবল দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করার বক্তৃতা ছিল না-এ অবিস্মরণীয় বক্তৃতা ছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ চালনার ব্যবস্থাপত্র। এরপর পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম তাণ্ডবলীলা ঘটে গেল আমাদের দেশে।

তার রাষ্ট্র পরিচালনার মাত্র সাড়ে তিন বছরের প্রান্তে পৃথিবীর নৃশংসতম ও জঘন্যতম খুনিদের দল ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাদের দেশে এবং আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল দেশের প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এমনকি তার শিশুপুত্র শেখ রাসেলকেও তারা রেহাই দিল না।

এরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের শত্রু ছিল যারা বাঙালিদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুত্থান ও অস্তিত্বকে মেনে নিতে পারেনি। দেশীয় শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল বিদেশি শত্রুরা।

ভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর দুই তনয়া- শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তার জ্যেষ্ঠ কন্যা আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পিতার হাতের আলোর বর্তিকাটি নিজ হাতে তুলে নিয়ে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন উন্নয়নের এক মহাসড়কে।

বাঙালি বীরের জাতি। সব সুকুমার গুণাবলির অধিকারী হয়েও বাঙালি সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করতে জানে। নিজেদের দাবি আদায় করার জন্য যুদ্ধ করতে জানে। বাঙালির ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেয়েছে। বাঙালির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ছোট আয়তনের দেশ হয়েও বাঙালি জাতি একটি গৌরবজনক মানবিক ঐতিহ্যের জয়-তিলক বহন করে চলেছে।

সব জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সম-অধিকারের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এই বৈশ্বিক মহামারির দীর্ঘসময়েও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করছেন।

১৯৭১ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সময়ে তার বিদেশ সচিব চতুর হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়ে বক্রোক্তি করেছিলেন। আজ বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে এ জন্য যে, এই ঘনবসতিপূর্ণ ছোট্ট আয়তনের একটি দেশ বিশ্বসংসারে একটি সম্ভ্রমপূর্ণ আলোচিত দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ গৌরবের স্থানে অধিষ্ঠিত।

বাংলাদেশ দীর্ঘসময় পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করার তালিকায় সব শর্ত পূর্ণ করে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাবে।

বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি পেল যখন আমারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি এবং পালন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ অতিমারির সময়েও দেশবাসীর মনটা ভালো হয়ে গেল এই কাক্সিক্ষত অর্জনে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা যথার্থভাবেই এ অর্জনকে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করেছেন। ২০৩১ সালে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করবে এবং ২০৪১ সালে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ জিডিপি-এর হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় স্থান অধিকারের মর্যাদা পেয়েছে। উচ্চ হারের জিডিপি অর্জনের বাংলাদেশ এশিয়ায় এবং বিশ্বের অনেক দেশকেই ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

আজ আমাদের আনন্দ এজন্য-আমাদের অনেক কষ্টার্জিত বাংলাদেশ; আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব মানচিত্রে উন্নত দেশের মর্যাদায় দাঁড়িয়ে গৌরবান্বিত হবে। দেশমাতৃকার পরাজয় নেই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা, জয় আমাদের নতুন প্রজন্মের।

লেখক : অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, লেখক, কবি

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অগ্নিঝরা মার্চ

২১ মার্চ, ২০২১
১৮ মার্চ, ২০২১