সুবর্ণ বাংলাদেশ
jugantor
সুবর্ণ বাংলাদেশ

  আবদুস সেলিম  

১৮ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হরিচরণ চট্টোপাধ্যায় তার বঙ্গীয় শব্দকোষে সুবর্ণ শব্দটির অর্থ দিয়েছেন একাধিক, যেমন-শোভনবর্ণ, উজ্জ্বলবর্ণ, স্বর্ণবর্ণ এবং ইত্যাকার আরও বর্ণ। অর্থাৎ সবকিছু বর্ণময়। আমরা যারা ভাষা আন্দোলনের ঢেউয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছি, পাকিস্তানের উপনিবেশবাদী চোখ রাঙানি দেখে বড় হয়েছি, যুবক হয়েছি, তারপর একসময় ‘অনেক হয়েছে’ সিদ্ধান্তে এসে আন্দোলন করেছি এবং দেওয়ালে পিঠ ঠেকার পর যুদ্ধে নেমেছি বা যুদ্ধকে সমর্থন করেছি।

সর্বোপরি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অমানুষিক অর্থকষ্ট, অভাব-অনটন সহ্য করেছি ভালো দিনের আশায় এবং অদৃষ্টের পরিহাসে বঙ্গবন্ধু এবং চার নেতার হত্যা দেখেছি। যে পাকিস্তানের সেনাশাসনকে মনের গভীর থেকে ঘৃণা করেছি, আবার সেই দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়েছি দীর্ঘদিন এবং এখনো বেঁচে আছি, তাদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা পঞ্চাশ বছর পূর্তি একটি বিরাট প্রাপ্তিই বটে।

আমরা গর্বিত যে এ দেশটা আবার স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের হাতে। অর্থাৎ আমরা যে আদর্শে বিশ্বাস করি, তাদের হাতে ফিরে এসেছে। আমরা গর্বিত দেখে যে বাংলাদেশ তার সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাঙ্গলিক ক্ষণে নিু আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এসে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

এর চেয়ে আর সুখের কী হতে পারে যে এ দেশের স্বাধীন মানুষ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থেকে তাদের আপনাপন শক্তি ও যোগ্যতায় শুধু কর্মরতই নয়, এ দেশের অর্থনীতি দৃঢ়তর করার জন্য অমূল্য অবদান রাখছে। পোশাকশিল্প বিশ্বের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানরূপে প্রতিষ্ঠিত আজ। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়েছে এবং এ কর্মকাণ্ডের ফলে আমাদের মুদ্রামান আজ পাকিস্তানি মুদ্রার চেয়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে, যে পাকিস্তান স্বাধীনতার পর আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছিল। আজ বাংলাদেশি মার্কিনিরা বাইডেন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত হতে পেরেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিকমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার আমাদের আখ্যায়িত করেছিল তলাহীন ঝুড়িরূপে। দেশে যে অসংখ্য উন্নয়ন কাজ চলছে এবং আমাদের জীবনযাত্রার মান যে অনেক-অনেক উন্নত হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু আমরা কি আদর্শ মানুষ হতে পেরেছি, আমরা কি সোনার বাংলার যোগ্য উত্তরসূরি হতে পেরেছি, আমরা কি শোভনবর্ণ, উজ্জ্বলবর্ণ, স্বর্ণবর্ণ হতে পেরেছি? সম্ভবত এখানেই সেই শেকসপিয়রীয় চরিত্র হ্যামলেট উচ্চারিত সংলাপ সবচেয়ে প্রযোজ্য: সমস্যাটা সেখানেই (There's the rub!)।

বঙ্গবন্ধু নিশ্চয় আমাদের সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাননি এবং সেই বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তার অনবদ্য অবদান রাখেননি যে, বাংলাদেশে মৌলবাদীদের সঙ্গে আমাদের আপস করে বাঁচতে হয়, তাদের বক্তব্যকে ধর্মপালনের স্বাধীনতার অজুহাতে সেন্সর করা হবে না, সেন্সর হবে যুক্তিবাদী বক্তব্যের, অন্যের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অজুহাতে।

আমরা ভাবিনি বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি সংসদ সদস্যরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ও সম্পদের পাহাড় বানাবে। আমাদের কল্পনায়ও ছিল না বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের তাড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও এত নারী, শিশু, যুবতি ধর্ষিত হবে। আমরা ভাবিনি ব্যবসার ফাঁদে ফেলে এবং সরল মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে একজন প্রশান্ত কুমার হালদার হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে বিদেশে পালাবে।

আমাদের কল্পনায়ও ছিল না, যে পুলিশ প্রশাসনের বীর সদস্যরা রাজারবাগে স্বাধীনতার জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল, তাদেরই উত্তরসূরিরা ঘুস নিয়ে, প্রতারণা-গুম করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করবে।

আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে হয়তো; কিন্তু সেই মান উন্নত করার যে সামগ্রী, তা কি সঠিকভাবে ধরে রাখতে পারছি? আমরা কি সভ্যভাবে সেই সামগ্রীকে ব্যবহার করছি? ভাবতে হবে। এর জন্য যে সাংস্কৃতিক এবং নান্দনিক মনোভাবের দরকার, তা আমরা গড়তে পারিনি। ফলে শহরকে নোংরা করছি, নদীকে দূষণ করছি, অবৈধভাবে জমি, খালবিল, নদী দখল করছি, রাস্তাঘাটে যানজট সৃষ্টি করছি-সবাই মিলে এক দখল ও পরিবেশ নোংরার মাতমে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

আরও একটি কথা বলতে চাইছি-বাংলাদেশ আমাদের এ অতি ভালোবাসার ধন, যে দাম দিয়ে অর্জিত হয়েছিল তার অন্যতম প্রধান একটি বিচার্য বিষয় ছিল বাংলা ভাষা। দুঃখজনক হলেও সত্যি আজ পঞ্চাশ বছর পরও এ বিচার্য বিষয়টির একটি অন্যতম বিতর্ক এখনো সমাধান হয়নি, আর সেটা হলে আমাদের ভাষানীতি কী হবে। আমরা যদি একটা সুচিন্তিত ভাষানীতি প্রস্তুত করতে পারতাম, যা করাটা জরুরি ছিল, তাহলে কোন ভাষাতে আমরা শিক্ষা দেব এবং শিক্ষা গ্রহণ করব, আমাদের বানানরীতি কী হবে, আমরা কোন বাংলা ভাষাকে আমাদের তথাকথিত প্রমিত বা মানভাষারূপে গ্রহণ করব, বিদেশি ভাষার স্থান আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এবং প্রশাসনে কী হবে, কোন বিদেশি ভাষা আমরা শিখব এবং কতটা শিখব-এসব তাবৎ বিষয়ে একটা প্রয়োগসিদ্ধ সমাধানে পৌঁছাতে পারতাম সম্ভবত।

এ সমাধান স্বার্থবাদী আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে এ যাবৎকাল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাংলামাধ্যম এবং ইংরেজিমাধ্যম শিক্ষাদানে সমাজে সুবিধাভোগী ও সুবিধাবঞ্চিত দুটি স্বতন্ত্র শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে। এমনটা আমরা চাইনি।

এ সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা আরও শোভনবর্ণ, উজ্জ্বলবর্ণ, স্বর্ণবর্ণ হতে পারতাম যদি সমস্যার সমাধানটা আদর্শ এবং নীতিবোধের ওপর স্থাপন করতাম। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরীক্ষায় উজ্জ্বল হওয়ার প্রক্রিয়া বলে গণ্য না করে জ্ঞান অন্বেষণের যাত্রা বলে গণ্য করলে স্বাধীন দেশের বর্ণছটা আরও দৃষ্টিনন্দন হতে পারত। আমাদের যে সে যোগ্যতা আছে, তার প্রমাণ তো ইতিহাসে মেলে, যার সাক্ষ্য বঙ্গবন্ধু নিজেই দিয়েছেন।

লেখক : শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক

সুবর্ণ বাংলাদেশ

 আবদুস সেলিম 
১৮ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হরিচরণ চট্টোপাধ্যায় তার বঙ্গীয় শব্দকোষে সুবর্ণ শব্দটির অর্থ দিয়েছেন একাধিক, যেমন-শোভনবর্ণ, উজ্জ্বলবর্ণ, স্বর্ণবর্ণ এবং ইত্যাকার আরও বর্ণ। অর্থাৎ সবকিছু বর্ণময়। আমরা যারা ভাষা আন্দোলনের ঢেউয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছি, পাকিস্তানের উপনিবেশবাদী চোখ রাঙানি দেখে বড় হয়েছি, যুবক হয়েছি, তারপর একসময় ‘অনেক হয়েছে’ সিদ্ধান্তে এসে আন্দোলন করেছি এবং দেওয়ালে পিঠ ঠেকার পর যুদ্ধে নেমেছি বা যুদ্ধকে সমর্থন করেছি।

সর্বোপরি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অমানুষিক অর্থকষ্ট, অভাব-অনটন সহ্য করেছি ভালো দিনের আশায় এবং অদৃষ্টের পরিহাসে বঙ্গবন্ধু এবং চার নেতার হত্যা দেখেছি। যে পাকিস্তানের সেনাশাসনকে মনের গভীর থেকে ঘৃণা করেছি, আবার সেই দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়েছি দীর্ঘদিন এবং এখনো বেঁচে আছি, তাদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা পঞ্চাশ বছর পূর্তি একটি বিরাট প্রাপ্তিই বটে।

আমরা গর্বিত যে এ দেশটা আবার স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের হাতে। অর্থাৎ আমরা যে আদর্শে বিশ্বাস করি, তাদের হাতে ফিরে এসেছে। আমরা গর্বিত দেখে যে বাংলাদেশ তার সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাঙ্গলিক ক্ষণে নিু আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এসে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

এর চেয়ে আর সুখের কী হতে পারে যে এ দেশের স্বাধীন মানুষ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থেকে তাদের আপনাপন শক্তি ও যোগ্যতায় শুধু কর্মরতই নয়, এ দেশের অর্থনীতি দৃঢ়তর করার জন্য অমূল্য অবদান রাখছে। পোশাকশিল্প বিশ্বের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানরূপে প্রতিষ্ঠিত আজ। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়েছে এবং এ কর্মকাণ্ডের ফলে আমাদের মুদ্রামান আজ পাকিস্তানি মুদ্রার চেয়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে, যে পাকিস্তান স্বাধীনতার পর আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছিল। আজ বাংলাদেশি মার্কিনিরা বাইডেন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত হতে পেরেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিকমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার আমাদের আখ্যায়িত করেছিল তলাহীন ঝুড়িরূপে। দেশে যে অসংখ্য উন্নয়ন কাজ চলছে এবং আমাদের জীবনযাত্রার মান যে অনেক-অনেক উন্নত হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু আমরা কি আদর্শ মানুষ হতে পেরেছি, আমরা কি সোনার বাংলার যোগ্য উত্তরসূরি হতে পেরেছি, আমরা কি শোভনবর্ণ, উজ্জ্বলবর্ণ, স্বর্ণবর্ণ হতে পেরেছি? সম্ভবত এখানেই সেই শেকসপিয়রীয় চরিত্র হ্যামলেট উচ্চারিত সংলাপ সবচেয়ে প্রযোজ্য: সমস্যাটা সেখানেই (There's the rub!)।

বঙ্গবন্ধু নিশ্চয় আমাদের সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাননি এবং সেই বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তার অনবদ্য অবদান রাখেননি যে, বাংলাদেশে মৌলবাদীদের সঙ্গে আমাদের আপস করে বাঁচতে হয়, তাদের বক্তব্যকে ধর্মপালনের স্বাধীনতার অজুহাতে সেন্সর করা হবে না, সেন্সর হবে যুক্তিবাদী বক্তব্যের, অন্যের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অজুহাতে।

আমরা ভাবিনি বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি সংসদ সদস্যরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ও সম্পদের পাহাড় বানাবে। আমাদের কল্পনায়ও ছিল না বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের তাড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও এত নারী, শিশু, যুবতি ধর্ষিত হবে। আমরা ভাবিনি ব্যবসার ফাঁদে ফেলে এবং সরল মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে একজন প্রশান্ত কুমার হালদার হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে বিদেশে পালাবে।

আমাদের কল্পনায়ও ছিল না, যে পুলিশ প্রশাসনের বীর সদস্যরা রাজারবাগে স্বাধীনতার জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল, তাদেরই উত্তরসূরিরা ঘুস নিয়ে, প্রতারণা-গুম করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করবে।

আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে হয়তো; কিন্তু সেই মান উন্নত করার যে সামগ্রী, তা কি সঠিকভাবে ধরে রাখতে পারছি? আমরা কি সভ্যভাবে সেই সামগ্রীকে ব্যবহার করছি? ভাবতে হবে। এর জন্য যে সাংস্কৃতিক এবং নান্দনিক মনোভাবের দরকার, তা আমরা গড়তে পারিনি। ফলে শহরকে নোংরা করছি, নদীকে দূষণ করছি, অবৈধভাবে জমি, খালবিল, নদী দখল করছি, রাস্তাঘাটে যানজট সৃষ্টি করছি-সবাই মিলে এক দখল ও পরিবেশ নোংরার মাতমে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

আরও একটি কথা বলতে চাইছি-বাংলাদেশ আমাদের এ অতি ভালোবাসার ধন, যে দাম দিয়ে অর্জিত হয়েছিল তার অন্যতম প্রধান একটি বিচার্য বিষয় ছিল বাংলা ভাষা। দুঃখজনক হলেও সত্যি আজ পঞ্চাশ বছর পরও এ বিচার্য বিষয়টির একটি অন্যতম বিতর্ক এখনো সমাধান হয়নি, আর সেটা হলে আমাদের ভাষানীতি কী হবে। আমরা যদি একটা সুচিন্তিত ভাষানীতি প্রস্তুত করতে পারতাম, যা করাটা জরুরি ছিল, তাহলে কোন ভাষাতে আমরা শিক্ষা দেব এবং শিক্ষা গ্রহণ করব, আমাদের বানানরীতি কী হবে, আমরা কোন বাংলা ভাষাকে আমাদের তথাকথিত প্রমিত বা মানভাষারূপে গ্রহণ করব, বিদেশি ভাষার স্থান আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এবং প্রশাসনে কী হবে, কোন বিদেশি ভাষা আমরা শিখব এবং কতটা শিখব-এসব তাবৎ বিষয়ে একটা প্রয়োগসিদ্ধ সমাধানে পৌঁছাতে পারতাম সম্ভবত।

এ সমাধান স্বার্থবাদী আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে এ যাবৎকাল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাংলামাধ্যম এবং ইংরেজিমাধ্যম শিক্ষাদানে সমাজে সুবিধাভোগী ও সুবিধাবঞ্চিত দুটি স্বতন্ত্র শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে। এমনটা আমরা চাইনি।

এ সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা আরও শোভনবর্ণ, উজ্জ্বলবর্ণ, স্বর্ণবর্ণ হতে পারতাম যদি সমস্যার সমাধানটা আদর্শ এবং নীতিবোধের ওপর স্থাপন করতাম। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরীক্ষায় উজ্জ্বল হওয়ার প্রক্রিয়া বলে গণ্য না করে জ্ঞান অন্বেষণের যাত্রা বলে গণ্য করলে স্বাধীন দেশের বর্ণছটা আরও দৃষ্টিনন্দন হতে পারত। আমাদের যে সে যোগ্যতা আছে, তার প্রমাণ তো ইতিহাসে মেলে, যার সাক্ষ্য বঙ্গবন্ধু নিজেই দিয়েছেন।

লেখক : শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অগ্নিঝরা মার্চ

২১ মার্চ, ২০২১