প্রীতিময় স্মৃতি
jugantor
প্রীতিময় স্মৃতি

  মাকিদ হায়দার  

২১ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তখনকার দিনের ধানমন্ডি নিরিবিলি, লোকজন খুব একটা নেই, ড্রয়িং রুমে বসে থাকার কিছুক্ষণ পরই সেই সুদর্শন ব্যক্তিটি এলেন গায়ে সাদা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে। সুদর্শন বললেন, শহীদ; তুই একটু এদিকে আয়, শহীদ ভাই এবং সেই সুদর্শন ড্রয়িং রুমের বাইরে গিয়ে কী বিষয় নিয়ে ৮-১০ মিনিট শলাপরামর্শ শেষে ফিরে এলেন। ড্রয়িং রুমে ফিরে এসেই শহীদ ভাইকে সুদর্শন জানতে চাইলেন, সঙ্গের ছেলেটি কে?

শহীদ ভাই আমার নাম বলার পরই তিনি বললেন, ও জগন্নাথ কলেজে পড়ে। সুদর্শন লোকটি শহীদ ভাইয়ের কে হোন, নাম কী আমি কিছুই জানি না। সেই ফাঁকে শহীদ ভাই আরও জানালেন, ও জগন্নাথ কলেজে পড়ে, তখনই সেই ভদ্রলোক আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন।

তোদের কলেজের প্রিন্সিপ্যালের নাম কী?

নাম বললাম সাইদুর রহমান। তোদের কলেজে অজিতগুহ কী পড়ান? বললাম উনি আমাদের বাংলা পড়ান। এবার সুদর্শন জানতে চাইলেন তোদের কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি কে? বললাম রাজিউদ্দিন রাজু ভাই। আমার মনে হলো তিনি এতক্ষণ পরীক্ষা নিলেন এবং আমি পরীক্ষায় পাস করার পর পরই তিনি আমার বাম কাঁধে হাত দিয়ে জানতে চাইলেন-তোর বাড়ি কোথায়। বললাম পাবনায়। পাবনার কাউকে চিনিস কিনা যিনি আওয়ামী লীগের নেতা, বললাম ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী। মুনসুর চাচার ছেলে নাসিম তো আমার বন্ধু। তখন সুদর্শন বললেন ভালো করে লেখাপড়া করবি, লেখাপড়া না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এমন সময় বাড়ির ভেতর থেকে একজন মহিলা কাকে যেন বললেন, মুরগির খাবার আর কবুতরের খাবারগুলো ঠিক মতো দিস। ভদ্রমহিলার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুদর্শন বললেন, এই রেণু এদিকে এসো, তিনি ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই সুদর্শন বললেন, মা টুঙ্গিপাড়া থেকে যে খেজুরের গুড় আর মুড়ি পাঠিয়েছে এই দু’জনকে খেতে দাও, সেই রেণু নামের ভদ্রমহিলা ফিরে গিয়ে আমাদের জন্য পাটালি গুড় আর মুড়ি পাঠালেন। খাওয়াদাওয়া শেষে আমরা যখন ফিরে আসব, ঠিক তক্ষুনি সুদর্শন আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, পড়ালেখা ভালো করে করবি, পড়ালেখা না শিখলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আমি আর শহীদ ভাই রাস্তায় নেমে এসে শহীদ ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম এতক্ষণ যে ভদ্রলোক আমাদের সঙ্গে কথা বললেন, তিনি আপনার কে হোন, শেখ শহীদ ভাই জানালেন, উনি আমার মামা, আগে ওনাকে দ্যাখোনি? আমি বললাম, ঢাকায় এসেছি মাত্র কয়েক মাস, শহীদ ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ওনার নাম কী? তিনি বললেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন আমি বললাম, আমি নাম শুনেছি কিন্তু স্বচক্ষে দেখিনি। আর উনিই যে শেখ মুজিব, আমি আগে জানলে ওনার দুই পা ধরে সালাম করতাম।

এলো ১৯৬৬ সাল। এলো ৬ দফা। আমি ‘মুড়ির টিন’ মার্কা বাসে মালিবাগ থেকে রমনা পার্ক হয়ে কলেজে যাওয়ার পথে জীবনে প্রথম টিয়ার গ্যাস খেয়েছিলাম, ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে। সেই ৬ দফাকে কেন্দ্র করে শেখ মুজিবকে জেলে ঢুকিয়ে দিল আইয়ুব খান। দেখতে দেখতে ১৯৬৭ এলো। পুরো দেশটাতে মোনেম খাঁ-আইয়ুব খাঁর করাল শাসনব্যবস্থা। চারদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়। সেই ধরপাকড়ের মধ্যেই একদিন রাজু ভাই আমাদের ছাত্রলীগের সব ছেলেমেয়েকে ক্যান্টিনে ডেকে বললেন, আজকেই আমরা ইডেন গার্লস কলেজে যাব। ইডেন গার্লস কলেজে ছাত্রলীগের সভানেত্রী হয়েছেন শেখ মুজিব কন্যা, শেখ হাসিনা। তাকে সংবর্ধনা দিতে যাব। এলাম দলেবলে। সেই প্রথম আমি শেখ হাসিনাকে দেখলাম।

এলো ১৯৬৯ সালের অগ্নিঝরা দিন। শেখ মুজিব তখনো বন্দি। আমরা রাজপথে সারা দিন হাজার হাজার কণ্ঠে বলেছি, ‘জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো’। ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা’। পিন্ডি না ঢাকা? আমরা বলেছি ঢাকা। শেখ মুজিব জেল থেকে বেরোলেন। কিছুদিন পরই তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হলো। ১৯৭০ সালে এলো গণভোট। গণভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পার্লামেন্ট গঠন করতে দিল না পাকিস্তান সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সলের ৭ মার্চ মাত্র ১৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের পৃথিবী বিখ্যাত এক ঐতিহাসিক ভাষণেই জানিয়ে দিলেন আমাদের স্বাধীনতার কথা। সেই স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহে আমি বিখ্যাত সাংবাদিক মার্কটানিয়ার সঙ্গে পাবনায় দেখা হওয়ার সুবাদে তাকে জানিয়েছিলাম, পাবনায় পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর মানুষ হত্যা, অগ্নি সংযোগ, নারী ধর্ষণের কথা। তিনি বিবিসিতে সংবাদটি প্রচার করেছিলেন ১৯৭১ সালের জুলাইয়ের ২য় সপ্তাহে। ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের পরাধীন দেশ স্বাধীন হলো, একটিমাত্র ভাষণে। একটি তর্জনীর নির্দেশে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এলো ১৯৭৫ সালের কালরাত্রি ১৫ আগস্ট। তার পরে এলো ২১ আগস্টে ২০০৪। ইতোমধ্যে এসে গেছে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

যার আবদানে আজকের বাংলাদেশ। তার স্মৃতি চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল কতিপয় পাকপ্রেমী। সব কিছুই ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে এসেছে আজ ৫০ বছরের সেই সুবর্ণকাল। রবীন্দ্রনাথ স্বদেশ সম্পর্কে বলেছেন- (১) দেশকে ভালোবাসিবার প্রথম লক্ষণ ও প্রথম কর্তব্য দেশকে জানা। (২) আমরা দেশকে যে যতই ভালোবাসি না কেন, দেশকে ঠিকমতো কেহ কোনোদিন জানি না। (৩) দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। যতক্ষণ দেশকে না জানি... ততক্ষণ সে দেশ আপনার নয়। আমি জানি হীরকজয়ন্তী আমি দেখে যেতে পারব না। তাই আমার নিকট সুবর্ণজয়ন্তী হয়ে থাক চিরভাস্বর। যেমন হয়ে আছেন জাতির পিতা। যেমন হয়ে আছেন শেখ হাসিনা। জয় হোক বাঙালির, বাংলাদেশের।

লেখক : কবি

প্রীতিময় স্মৃতি

 মাকিদ হায়দার 
২১ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তখনকার দিনের ধানমন্ডি নিরিবিলি, লোকজন খুব একটা নেই, ড্রয়িং রুমে বসে থাকার কিছুক্ষণ পরই সেই সুদর্শন ব্যক্তিটি এলেন গায়ে সাদা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে। সুদর্শন বললেন, শহীদ; তুই একটু এদিকে আয়, শহীদ ভাই এবং সেই সুদর্শন ড্রয়িং রুমের বাইরে গিয়ে কী বিষয় নিয়ে ৮-১০ মিনিট শলাপরামর্শ শেষে ফিরে এলেন। ড্রয়িং রুমে ফিরে এসেই শহীদ ভাইকে সুদর্শন জানতে চাইলেন, সঙ্গের ছেলেটি কে?

শহীদ ভাই আমার নাম বলার পরই তিনি বললেন, ও জগন্নাথ কলেজে পড়ে। সুদর্শন লোকটি শহীদ ভাইয়ের কে হোন, নাম কী আমি কিছুই জানি না। সেই ফাঁকে শহীদ ভাই আরও জানালেন, ও জগন্নাথ কলেজে পড়ে, তখনই সেই ভদ্রলোক আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন।

তোদের কলেজের প্রিন্সিপ্যালের নাম কী?

নাম বললাম সাইদুর রহমান। তোদের কলেজে অজিতগুহ কী পড়ান? বললাম উনি আমাদের বাংলা পড়ান। এবার সুদর্শন জানতে চাইলেন তোদের কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি কে? বললাম রাজিউদ্দিন রাজু ভাই। আমার মনে হলো তিনি এতক্ষণ পরীক্ষা নিলেন এবং আমি পরীক্ষায় পাস করার পর পরই তিনি আমার বাম কাঁধে হাত দিয়ে জানতে চাইলেন-তোর বাড়ি কোথায়। বললাম পাবনায়। পাবনার কাউকে চিনিস কিনা যিনি আওয়ামী লীগের নেতা, বললাম ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী। মুনসুর চাচার ছেলে নাসিম তো আমার বন্ধু। তখন সুদর্শন বললেন ভালো করে লেখাপড়া করবি, লেখাপড়া না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এমন সময় বাড়ির ভেতর থেকে একজন মহিলা কাকে যেন বললেন, মুরগির খাবার আর কবুতরের খাবারগুলো ঠিক মতো দিস। ভদ্রমহিলার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুদর্শন বললেন, এই রেণু এদিকে এসো, তিনি ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই সুদর্শন বললেন, মা টুঙ্গিপাড়া থেকে যে খেজুরের গুড় আর মুড়ি পাঠিয়েছে এই দু’জনকে খেতে দাও, সেই রেণু নামের ভদ্রমহিলা ফিরে গিয়ে আমাদের জন্য পাটালি গুড় আর মুড়ি পাঠালেন। খাওয়াদাওয়া শেষে আমরা যখন ফিরে আসব, ঠিক তক্ষুনি সুদর্শন আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, পড়ালেখা ভালো করে করবি, পড়ালেখা না শিখলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আমি আর শহীদ ভাই রাস্তায় নেমে এসে শহীদ ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম এতক্ষণ যে ভদ্রলোক আমাদের সঙ্গে কথা বললেন, তিনি আপনার কে হোন, শেখ শহীদ ভাই জানালেন, উনি আমার মামা, আগে ওনাকে দ্যাখোনি? আমি বললাম, ঢাকায় এসেছি মাত্র কয়েক মাস, শহীদ ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ওনার নাম কী? তিনি বললেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন আমি বললাম, আমি নাম শুনেছি কিন্তু স্বচক্ষে দেখিনি। আর উনিই যে শেখ মুজিব, আমি আগে জানলে ওনার দুই পা ধরে সালাম করতাম।

এলো ১৯৬৬ সাল। এলো ৬ দফা। আমি ‘মুড়ির টিন’ মার্কা বাসে মালিবাগ থেকে রমনা পার্ক হয়ে কলেজে যাওয়ার পথে জীবনে প্রথম টিয়ার গ্যাস খেয়েছিলাম, ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে। সেই ৬ দফাকে কেন্দ্র করে শেখ মুজিবকে জেলে ঢুকিয়ে দিল আইয়ুব খান। দেখতে দেখতে ১৯৬৭ এলো। পুরো দেশটাতে মোনেম খাঁ-আইয়ুব খাঁর করাল শাসনব্যবস্থা। চারদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়। সেই ধরপাকড়ের মধ্যেই একদিন রাজু ভাই আমাদের ছাত্রলীগের সব ছেলেমেয়েকে ক্যান্টিনে ডেকে বললেন, আজকেই আমরা ইডেন গার্লস কলেজে যাব। ইডেন গার্লস কলেজে ছাত্রলীগের সভানেত্রী হয়েছেন শেখ মুজিব কন্যা, শেখ হাসিনা। তাকে সংবর্ধনা দিতে যাব। এলাম দলেবলে। সেই প্রথম আমি শেখ হাসিনাকে দেখলাম।

এলো ১৯৬৯ সালের অগ্নিঝরা দিন। শেখ মুজিব তখনো বন্দি। আমরা রাজপথে সারা দিন হাজার হাজার কণ্ঠে বলেছি, ‘জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো’। ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা’। পিন্ডি না ঢাকা? আমরা বলেছি ঢাকা। শেখ মুজিব জেল থেকে বেরোলেন। কিছুদিন পরই তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হলো। ১৯৭০ সালে এলো গণভোট। গণভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পার্লামেন্ট গঠন করতে দিল না পাকিস্তান সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সলের ৭ মার্চ মাত্র ১৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের পৃথিবী বিখ্যাত এক ঐতিহাসিক ভাষণেই জানিয়ে দিলেন আমাদের স্বাধীনতার কথা। সেই স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহে আমি বিখ্যাত সাংবাদিক মার্কটানিয়ার সঙ্গে পাবনায় দেখা হওয়ার সুবাদে তাকে জানিয়েছিলাম, পাবনায় পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর মানুষ হত্যা, অগ্নি সংযোগ, নারী ধর্ষণের কথা। তিনি বিবিসিতে সংবাদটি প্রচার করেছিলেন ১৯৭১ সালের জুলাইয়ের ২য় সপ্তাহে। ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের পরাধীন দেশ স্বাধীন হলো, একটিমাত্র ভাষণে। একটি তর্জনীর নির্দেশে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এলো ১৯৭৫ সালের কালরাত্রি ১৫ আগস্ট। তার পরে এলো ২১ আগস্টে ২০০৪। ইতোমধ্যে এসে গেছে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

যার আবদানে আজকের বাংলাদেশ। তার স্মৃতি চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল কতিপয় পাকপ্রেমী। সব কিছুই ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে এসেছে আজ ৫০ বছরের সেই সুবর্ণকাল। রবীন্দ্রনাথ স্বদেশ সম্পর্কে বলেছেন- (১) দেশকে ভালোবাসিবার প্রথম লক্ষণ ও প্রথম কর্তব্য দেশকে জানা। (২) আমরা দেশকে যে যতই ভালোবাসি না কেন, দেশকে ঠিকমতো কেহ কোনোদিন জানি না। (৩) দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। যতক্ষণ দেশকে না জানি... ততক্ষণ সে দেশ আপনার নয়। আমি জানি হীরকজয়ন্তী আমি দেখে যেতে পারব না। তাই আমার নিকট সুবর্ণজয়ন্তী হয়ে থাক চিরভাস্বর। যেমন হয়ে আছেন জাতির পিতা। যেমন হয়ে আছেন শেখ হাসিনা। জয় হোক বাঙালির, বাংলাদেশের।

লেখক : কবি

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অগ্নিঝরা মার্চ

১৮ মার্চ, ২০২১