প্রয়োজন স্বাধীন কমিশন
jugantor
অর্থ পাচার রোধ প্রসঙ্গে ড. আবুল বারকাত
প্রয়োজন স্বাধীন কমিশন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার

অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বলেছেন, বছরে পঞ্চান্ন হাজার কোটি টাকা পাচার করা অর্থ উদ্ধার করতে হবে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা উত্তরোত্তর আরও জোরদার করতে হবে। এজন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। এ কমিশন গঠনের সুপারিশ করে তিনি বলেন, কমিশনের প্রধান কাজ হবে দুর্নীতি, কালো টাকা ও অর্থ পাচার বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল প্রতি তিন মাস অন্তর দেশের সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে। একই সঙ্গে কমিশনের নিজস্ব ভেরিফায়েড ওয়েবসাইটে এ ফলাফলের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। অর্থ পাচার প্রতিরোধে যুগান্তরকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়া তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বারকাত আরও বলেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে যে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে তা পরিচালনার জন্য নীতি-দর্শন হবে বাংলাদেশ সংবিধানের প্রাধান্য-৭(১) ও ৭(২) অনুচ্ছেদ আলোকে। যেহেতু কমিশন হবে স্বাধীন এজন্য কমিশন তার কাজের জন্য সরাসরি জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবে, প্রয়োজনে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের প্রধানের কাছে রিপোর্ট দেবে। এ কমিশনের সদস্য সংখ্যা হবে ৯ জন। এর মধ্যে একজন হবেন প্রধান কমিশনার (নারী বা পুরুষ)। বাকি ৮ জন কমিশনারের মধ্যে চারজন নারী ও চার পুরুষ কমিশনার থাকবেন।
বিদেশে অর্থ পাচার প্রসঙ্গে ড. বারকাত বলেন, বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয় তা নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্যনির্ভর বা নির্ভরযোগ্য গবেষণা নেই। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) রিপোর্ট (২০১৯) অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচারের পরিমাণ হবে বৈশ্বিক জিডিপির ৫ শতাংশের সমান।

অর্থ পাচার নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন: ব্যারি. আমীর-উল ইসলাম

ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। আর অর্থ পাচার প্রতিরোধে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধে বড় দুই পাহারাদার তারা। বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধে তারাই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। অর্থ পাচারের ব্যাপারে প্রতি মাসে কী ঘটছে সবাই জানতে পারছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ও জানছে।
অর্থ পাচার প্রতিরোধে আইনে কোনো ব্যত্যয় আছে কিনা জানতে চাইলে আমীর-উল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত আইন পরিষ্কার। আইনের যারা পাহারাদার তারাই এটি ভালো বলতে পারবেন। আর আইনের জায়গা পরিষ্কার আছে। এখন পাহারাদারদের কাজ করতে হবে।

দুর্নীতি বন্ধ না হলে অর্থ পাচার বন্ধ হবে না: ড. মইনুল ইসলাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ না হলে অর্থ পাচার বন্ধ হবে না। তবে তার আগে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। কারণ খেলাপি ঋণের বেশির ভাগই বিদেশে পাচার হয়েছে। এ টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আর খেলাপিরাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অট্টালিকা গড়ে বসবাস করছেন।
যুগান্তরকে ড. মইনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি- ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু সরকার তা শোনেনি। খেলাপিদের জেলে ঢুকিয়ে সম্পদ ক্রোক করে; তারপর টাকা আদায় করতে হবে। তা না হলে বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে খেলাপির মধ্যে যারা রাঘববোয়াল- তারা এখনো বিদেশে অবাধে যাতায়াত করছেন, এটা বন্ধ করতে হবে। তাদের জেলের ভাত না খাওয়ালে টাকা ফেরত আসবে না।

বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার হচ্ছে: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে।
যুগান্তরকে ড. মির্জ্জা আজিজুল বলেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। এ কারণে অর্থ পাচার হচ্ছে। অনেকে এ দেশে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করেন না। তাই টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, টাকা কারা পাচার করছে, সবার আগে তা চিহ্নিত করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ একবার বিদেশে টাকা গেলে তা ফেরত আনা খুব কঠিন। তিনি আরও বলেন, সরকার তার ভাবমূর্তি হারানোর ভয়ে তথ্য লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এগুলো করে লাভ হয় না। কারণ ভাবমূর্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যায় না।
প্রসঙ্গত, জিএফআইর রিপোর্ট অনুসারে গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এখনো দেশ থেকে অর্থ পাচার অব্যাহত আছে। আর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্য মতে, পাচারকারীরা বেশির ভাগ অর্থ সুনির্দিষ্ট ১০টি দেশে পাচার করছে। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কর কম এবং আইনের শাসন আছে- এমন দেশকে তারা বেছে নিয়েছে। দেশগুলো হলো-সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড।
পাচারকারীরা রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ছে। সুইস ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটিতে বাংলাদেশিদের আমানত সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে ৮৪ জন বাংলাদেশির টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশ থেকে যেসব টাকা পাচার হয়, তা যায় উন্নত ৩৬টি দেশে। এর মধ্যে উল্লিখিত ১০ দেশ চিহ্নিত করেছে বিএফআইইউ ও দুদক। মূলত এসব দেশেই বড় অংশ পাচার হয়।

অর্থ পাচার রোধ প্রসঙ্গে ড. আবুল বারকাত

প্রয়োজন স্বাধীন কমিশন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অর্থ পাচার
প্রতীকী ছবি

অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বলেছেন, বছরে পঞ্চান্ন হাজার কোটি টাকা পাচার করা অর্থ উদ্ধার করতে হবে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা উত্তরোত্তর আরও জোরদার করতে হবে। এজন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। এ কমিশন গঠনের সুপারিশ করে তিনি বলেন, কমিশনের প্রধান কাজ হবে দুর্নীতি, কালো টাকা ও অর্থ পাচার বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল প্রতি তিন মাস অন্তর দেশের সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে। একই সঙ্গে কমিশনের নিজস্ব ভেরিফায়েড ওয়েবসাইটে এ ফলাফলের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। অর্থ পাচার প্রতিরোধে যুগান্তরকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়া তিনি এসব কথা বলেন। 
ড. বারকাত আরও বলেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে যে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে তা পরিচালনার জন্য নীতি-দর্শন হবে বাংলাদেশ সংবিধানের প্রাধান্য-৭(১) ও ৭(২) অনুচ্ছেদ আলোকে। যেহেতু কমিশন হবে স্বাধীন এজন্য কমিশন তার কাজের জন্য সরাসরি জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবে, প্রয়োজনে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের প্রধানের কাছে রিপোর্ট দেবে। এ কমিশনের সদস্য সংখ্যা হবে ৯ জন। এর মধ্যে একজন হবেন প্রধান কমিশনার (নারী বা পুরুষ)। বাকি ৮ জন কমিশনারের মধ্যে চারজন নারী ও চার পুরুষ কমিশনার থাকবেন। 
বিদেশে অর্থ পাচার প্রসঙ্গে ড. বারকাত বলেন, বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয় তা নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্যনির্ভর বা নির্ভরযোগ্য গবেষণা নেই। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) রিপোর্ট (২০১৯) অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচারের পরিমাণ হবে বৈশ্বিক জিডিপির ৫ শতাংশের সমান।

অর্থ পাচার নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন: ব্যারি. আমীর-উল ইসলাম

ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। আর অর্থ পাচার প্রতিরোধে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধে বড় দুই পাহারাদার তারা। বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধে তারাই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। অর্থ পাচারের ব্যাপারে প্রতি মাসে কী ঘটছে সবাই জানতে পারছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ও জানছে। 
অর্থ পাচার প্রতিরোধে আইনে কোনো ব্যত্যয় আছে কিনা জানতে চাইলে আমীর-উল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত আইন পরিষ্কার। আইনের যারা পাহারাদার তারাই এটি ভালো বলতে পারবেন। আর আইনের জায়গা পরিষ্কার আছে। এখন পাহারাদারদের কাজ করতে হবে।

দুর্নীতি বন্ধ না হলে অর্থ পাচার বন্ধ হবে না: ড. মইনুল ইসলাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ না হলে অর্থ পাচার বন্ধ হবে না। তবে তার আগে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। কারণ খেলাপি ঋণের বেশির ভাগই বিদেশে পাচার হয়েছে। এ টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আর খেলাপিরাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অট্টালিকা গড়ে বসবাস করছেন।
যুগান্তরকে ড. মইনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি- ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু সরকার তা শোনেনি। খেলাপিদের জেলে ঢুকিয়ে সম্পদ ক্রোক করে; তারপর টাকা আদায় করতে হবে। তা না হলে বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে খেলাপির মধ্যে যারা রাঘববোয়াল- তারা এখনো বিদেশে অবাধে যাতায়াত করছেন, এটা বন্ধ করতে হবে। তাদের জেলের ভাত না খাওয়ালে টাকা ফেরত আসবে না।

বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার হচ্ছে: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে। 
যুগান্তরকে ড. মির্জ্জা আজিজুল বলেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। এ কারণে অর্থ পাচার হচ্ছে। অনেকে এ দেশে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করেন না। তাই টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, টাকা কারা পাচার করছে, সবার আগে তা চিহ্নিত করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ একবার বিদেশে টাকা গেলে তা ফেরত আনা খুব কঠিন। তিনি আরও বলেন, সরকার তার ভাবমূর্তি হারানোর ভয়ে তথ্য লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এগুলো করে লাভ হয় না। কারণ ভাবমূর্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যায় না।
প্রসঙ্গত, জিএফআইর রিপোর্ট অনুসারে গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এখনো দেশ থেকে অর্থ পাচার অব্যাহত আছে। আর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্য মতে, পাচারকারীরা বেশির ভাগ অর্থ সুনির্দিষ্ট ১০টি দেশে পাচার করছে। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কর কম এবং আইনের শাসন আছে- এমন দেশকে তারা বেছে নিয়েছে। দেশগুলো হলো-সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড। 
পাচারকারীরা রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ছে। সুইস ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটিতে বাংলাদেশিদের আমানত সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে ৮৪ জন বাংলাদেশির টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশ থেকে যেসব টাকা পাচার হয়, তা যায় উন্নত ৩৬টি দেশে। এর মধ্যে উল্লিখিত ১০ দেশ চিহ্নিত করেছে বিএফআইইউ ও দুদক। মূলত এসব দেশেই বড় অংশ পাচার হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন