মামুনুল হককে নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড
jugantor
মামুনুল হককে নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড
স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস * রাত ১১টা পর্যন্ত হেফাজতের কর্মীরা রাস্তায়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার দুপুরের পর হোটেল রয়েল রিসোর্টে ‘নারী’সহ বেড়াতে গিয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন। ওই নারী সম্পর্কে তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রী আমিনা তৈয়বাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। তবে রিসোর্টে তাকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হেফাজত নেতাকর্মীরা সোনারগাঁয়ে বিক্ষোভ করেন। এরপর রিসোর্টে গিয়ে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালান। মাওলানা মামুনুল হক ও ওই নারীকে তারা ছিনিয়ে নিয়ে যান। মামুনুল হককে হেনস্তা করার প্রতিবাদে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পথচারী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ ১৫ জন আহত হন।
সন্ধ্যায় মহাসড়ক থেকে সরে গিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করেন। রাত ১০টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে তারা আবার রয়েল রিসোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। এ সময় র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। উভয়পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতকর্মীদের পিছু হটতে দেখা যায়। পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, সোনারগাঁর ঘটনার পর স্ত্রীর সঙ্গে মাওলানা মামুনুল হকের ফোনালাপ (অডিও) ফাঁস হয়েছে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে মামুনুল হক বলেন, ‘তুমি বইলো আমি সব জানি’।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, মাওলানা মামুনুল হককে হোটেল কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় হেফাজত নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসেন। তারা হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করেন। নেতাকর্মীদের শান্ত করার কথা বলে মাওলানা মামুনুল হক নিচে নেমে আসেন। এরপর তিনি হেফাজতকর্মীদের সঙ্গে মিশে যান। হেফাজতকর্মীদের অব্যাহত হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পুলিশ দ্বিতীয় ‘স্ত্রী’ আমিনাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
রয়েল রিসোর্টের জিএম লাল মিয়া বলেন, মাওলানা মামুনুল হক ও আমিনা তৈয়বা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠেন। কিন্তু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হোটেলে এলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আর এর জেরে হেফাজতকর্মীরা হোটেলে ভাঙচুর করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরের পর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ আমিনা তৈয়বাকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের হোটেল রয়েল রিসোর্টে ওঠেন মাওলানা মামুনুল হক। রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে তিনি অবস্থান করেন। বেলা ৩টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামুনুল হক বলেন, অবকাশ যাপনের অংশ হিসাবে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর পর তিনি হোটেলে উঠেছেন। তবে নানা ধরনের প্রশ্নে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তফা মুন্না, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ও সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। অন্যদের বের করে দিয়ে কক্ষে মাওলানা মামুনুল হককে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অপরদিকে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা
মিছিল নিয়ে হোটেলের মূল ফটকে অবস্থান নেন এবং মামুনুলকে গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হেফাজতের হাজার হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হোটেলের সামনে গেলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। এরপর হেফাজতকর্মীরা হোটেলের প্রধান ফটক, দরজা-জানালার কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। বিভিন্ন স্থানে তারা হামলা চালান। এরপর তারা হোটেল থেকে মাওলানা মামুনুলকে ছিনিয়ে নেন। আমিনাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্যও তারা হোটেলে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে তারা আমিনাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এরপর মিছিল নিয়ে তারা স্থানীয় হাবিবপুর ঈদগাঁ মাঠে সমবেত হন। সেখানে তাৎক্ষণিক সভায় বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুল হক। সমাবেশ শেষে হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্থানীয় মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং আগুন জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। সোনারগাঁ যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর মার্কেটেও তারা হামলা চালান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেফাজত নেতাকর্মীরা নান্নুর শ্বশুরবাড়ি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ রনির বাড়িতে হামলা চালান।
রাত ১০টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আবার রয়েল রিসোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকেন। চিলারবাগ এলাকায় তারা পৌঁছলে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে হেফাজতকর্মীদের পালটাপালটি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন এবং কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতকর্মীরা পিছু হটতে থাকেন। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তুমি বইলো আমি সব জানি : সোনারগাঁয়ের ঘটনার পর স্ত্রীর সঙ্গে মামুনুল হকের ফোনালাপ (অডিও) ফাঁস হয়েছে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আটকের পর মামুনুল হক বলেন, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। তবে ফোনালাপে মামুনুল হক তার স্ত্রীকে ওই নারীর পরিচয় হিসাবে শহীদুল ইসলাম নামে একজনের স্ত্রী বলে জানান। বাসায় গিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করার কথাও বলেন এবং স্ত্রীকে আগে থেকে ‘সব জানি বলে’ মিথ্যা কথা বলার পরামর্শ দেন। ফোনালাপ (হুবহু) :
মামুনুল হকের স্ত্রী : আসসালামু আলাইকুম
মামুনুল হক : ওলাইকুম সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ। পুরা বিষয়টা আমি তোমাকে সামনে আইসা বলবো। ওই মহিলা যে ছিল সাথে সে হইলো আমগো শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ। বুঝছো? ওইটা নিয়া এমন একটা, মানে অবস্থা এরকম তৈরি হইয়া গেছে যে এই কথা বললে তারা ওখানে, মানে ই কইরা ফেলছিল আমাকে।
মামুনুল হকের স্ত্রী : আচ্ছা, বাসায় আসেন, তারপর যা বলার তারপর বইলেন।
মামুনুল হক : বলুম তো। তুমি বিষয়টা মানে অন্যান্য কথা বলতে হইবো, পরিস্থিতিটা এমন হইয়া গেছে। এখন এই জন্য তুমি আবার মাঝখান দিয়া অন্য কিছু মনে কইরো না। তোমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে ‘তুমি বইলো হ্যাঁ আমি সব জানি।’ এই রকম কিছু একটা বইলো।
মামুনুল হকের স্ত্রী : ঠিক আছে।
মামুনুল হক : আচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম।
সিলেটে বিক্ষোভ : সিলেট ব্যুরো জানায়, মামুনুল হককে নারীসহ আটক করার খবরে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামিয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকরা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল
করেন। এতে অংশ নেন মাদ্রাসার পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ‘শাহজালালের তলোয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার, মামুনুল হকের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ বলে তারা স্লোগান দেন।

মামুনুল হককে নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস * রাত ১১টা পর্যন্ত হেফাজতের কর্মীরা রাস্তায়
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার দুপুরের পর হোটেল রয়েল রিসোর্টে ‘নারী’সহ বেড়াতে গিয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন। ওই নারী সম্পর্কে তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রী আমিনা তৈয়বাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। তবে রিসোর্টে তাকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হেফাজত নেতাকর্মীরা সোনারগাঁয়ে বিক্ষোভ করেন। এরপর রিসোর্টে গিয়ে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালান। মাওলানা মামুনুল হক ও ওই নারীকে তারা ছিনিয়ে নিয়ে যান। মামুনুল হককে হেনস্তা করার প্রতিবাদে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পথচারী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ ১৫ জন আহত হন। 
সন্ধ্যায় মহাসড়ক থেকে সরে গিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করেন। রাত ১০টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে তারা আবার রয়েল রিসোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। এ সময় র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। উভয়পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতকর্মীদের পিছু হটতে দেখা যায়। পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 
এদিকে, সোনারগাঁর ঘটনার পর স্ত্রীর সঙ্গে মাওলানা মামুনুল হকের ফোনালাপ (অডিও) ফাঁস হয়েছে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে মামুনুল হক বলেন, ‘তুমি বইলো আমি সব জানি’।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, মাওলানা মামুনুল হককে হোটেল কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় হেফাজত নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসেন। তারা হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করেন। নেতাকর্মীদের শান্ত করার কথা বলে মাওলানা মামুনুল হক নিচে নেমে আসেন। এরপর তিনি হেফাজতকর্মীদের সঙ্গে মিশে যান। হেফাজতকর্মীদের অব্যাহত হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পুলিশ দ্বিতীয় ‘স্ত্রী’ আমিনাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। 
রয়েল রিসোর্টের জিএম লাল মিয়া বলেন, মাওলানা মামুনুল হক ও আমিনা তৈয়বা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠেন। কিন্তু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হোটেলে এলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আর এর জেরে হেফাজতকর্মীরা হোটেলে ভাঙচুর করেন। 
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরের পর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ আমিনা তৈয়বাকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের হোটেল রয়েল রিসোর্টে ওঠেন মাওলানা মামুনুল হক। রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে তিনি অবস্থান করেন। বেলা ৩টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামুনুল হক বলেন, অবকাশ যাপনের অংশ হিসাবে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর পর তিনি হোটেলে উঠেছেন। তবে নানা ধরনের প্রশ্নে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তফা মুন্না, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ও সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। অন্যদের বের করে দিয়ে কক্ষে মাওলানা মামুনুল হককে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অপরদিকে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা
মিছিল নিয়ে হোটেলের মূল ফটকে অবস্থান নেন এবং মামুনুলকে গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হেফাজতের হাজার হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হোটেলের সামনে গেলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। এরপর হেফাজতকর্মীরা হোটেলের প্রধান ফটক, দরজা-জানালার কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। বিভিন্ন স্থানে তারা হামলা চালান। এরপর তারা হোটেল থেকে মাওলানা মামুনুলকে ছিনিয়ে নেন। আমিনাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্যও তারা হোটেলে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে তারা আমিনাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এরপর মিছিল নিয়ে তারা স্থানীয় হাবিবপুর ঈদগাঁ মাঠে সমবেত হন। সেখানে তাৎক্ষণিক সভায় বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুল হক। সমাবেশ শেষে হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্থানীয় মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং আগুন জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। সোনারগাঁ যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর মার্কেটেও তারা হামলা চালান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেফাজত নেতাকর্মীরা নান্নুর শ্বশুরবাড়ি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ রনির বাড়িতে হামলা চালান। 
রাত ১০টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আবার রয়েল রিসোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকেন। চিলারবাগ এলাকায় তারা পৌঁছলে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে হেফাজতকর্মীদের পালটাপালটি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন এবং কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতকর্মীরা পিছু হটতে থাকেন। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তুমি বইলো আমি সব জানি : সোনারগাঁয়ের ঘটনার পর স্ত্রীর সঙ্গে মামুনুল হকের ফোনালাপ (অডিও) ফাঁস হয়েছে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আটকের পর মামুনুল হক বলেন, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। তবে ফোনালাপে মামুনুল হক তার স্ত্রীকে ওই নারীর পরিচয় হিসাবে শহীদুল ইসলাম নামে একজনের স্ত্রী বলে জানান। বাসায় গিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করার কথাও বলেন এবং স্ত্রীকে আগে থেকে ‘সব জানি বলে’ মিথ্যা কথা বলার পরামর্শ দেন। ফোনালাপ (হুবহু) :
মামুনুল হকের স্ত্রী : আসসালামু আলাইকুম
মামুনুল হক : ওলাইকুম সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ। পুরা বিষয়টা আমি তোমাকে সামনে আইসা বলবো। ওই মহিলা যে ছিল সাথে সে হইলো আমগো শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ। বুঝছো? ওইটা নিয়া এমন একটা, মানে অবস্থা এরকম তৈরি হইয়া গেছে যে এই কথা বললে তারা ওখানে, মানে ই কইরা ফেলছিল আমাকে।
মামুনুল হকের স্ত্রী : আচ্ছা, বাসায় আসেন, তারপর যা বলার তারপর বইলেন।
মামুনুল হক : বলুম তো। তুমি বিষয়টা মানে অন্যান্য কথা বলতে হইবো, পরিস্থিতিটা এমন হইয়া গেছে। এখন এই জন্য তুমি আবার মাঝখান দিয়া অন্য কিছু মনে কইরো না। তোমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে ‘তুমি বইলো হ্যাঁ আমি সব জানি।’ এই রকম কিছু একটা বইলো।
মামুনুল হকের স্ত্রী : ঠিক আছে।
মামুনুল হক : আচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম।
সিলেটে বিক্ষোভ : সিলেট ব্যুরো জানায়, মামুনুল হককে নারীসহ আটক করার খবরে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামিয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকরা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল
করেন। এতে অংশ নেন মাদ্রাসার পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ‘শাহজালালের তলোয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার, মামুনুল হকের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ বলে তারা স্লোগান দেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন