হেফাজত আগুন নিয়ে খেলছে : প্রধানমন্ত্রী
jugantor
হেফাজত আগুন নিয়ে খেলছে : প্রধানমন্ত্রী

  সংসদ প্রতিবেদক  

০৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলছেন, এক ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুন অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি আপনাদের হিসাবে নেই। রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

হেফাজতের তাণ্ডবের চিত্র সংসদে তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, তাদের কারণে ২৬ মার্চ অনেক মানুষের জীবন গেছে, এজন্য দায়ী তো তারা। আমি শুধু বলব, আইন তার আপনগতিতে চলবে। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্বব্যাপী মারাত্মক আকার ধারণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে আবার দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এ ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতের কর্মকাণ্ড নিয়ে বলেন, একটা দুঃখজনক বিষয় হলো যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। সেই সময় যে ঘটনাগুলো ঘটানো হলো, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আশ্চর্যের বিষয় যে সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি ঠিক সেই সময়, হ্যাঁ আমাদের অনেক বিদেশি অতিথি এসেছেন। অনেকে বার্তা দিচ্ছেন। ব্রিটেনের রানী থেকে শুরু করে সৌদি বাদশাহ সবার বার্তা পাচ্ছি। এতবড় একটা সম্মান বাংলাদেশ পাচ্ছে। সেখানে কারা খুশি হতে পারেনি? ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাকে আসতে দেওয়া যাবে না, বাধা দেওয়া হলো কেন?

হেফাজতের প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়, তারা কি দেওবন্দে যায় না? শিক্ষা গ্রহণ করতে। তারা যদি এসব ঘটনা ঘটায় তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দেওবন্দে যাবে কিভাবে- সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে। আমরা তো কওমি মাদ্রাসায় সনদ দিচ্ছি।

তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তাদের কারিকুলাম ঠিক করে দিচ্ছি। যাতে তারা দেশে-বিদেশে চাকরির পায়, তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। তারপরেও কেন তারা এ তাণ্ডব ঘটাল? প্রথমে বিএনপি তাদের সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কিভাবে সমর্থন দিচ্ছে সেটাই আমার প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আসবে সেখানে তাদের আপত্তি। তিনি বলেন, আমার খুব অবাক লাগে বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে। প্রথমে খুব আপত্তি হেফাজতের সঙ্গে, যত রকমের মদদ দেওয়া এবং জ্বালাও-পোড়াও করার যে পরামর্শ সেটাও তারা দিয়েছে। পরে যখন হরতাল দিয়েছে তখন আবার তারা সমর্থন দেয়, এদের রাজনৈতিক কোনো আদর্শ নেই। কোনো আদর্শ নিয়ে তারা চলে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের ২১ মে রাজীব গান্ধী মৃত্যুবরণ করেন। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আমরা যোগদান করেছিলাম। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। তখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে প্রায় সবাই এসেছিলেন। আমেরিকা থেকে, ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস, ইয়াসির আরাফাতসহ সবাই উপস্থিত। ইয়াসির আরাফাত সাহেব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেন খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম মোদির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার ছবি। সেই হাত যেন আর ছাড়ে না। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে টেলিফোনে সেই খিলখিল হাসি। তার যে হাসির আওয়াজ সেটাও তো সবার কানে গেছে। আবার যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মোদি সাহেব আসবেন তখন বাধা দেওয়া হয় এবং হেফাজতের সঙ্গে হাত মেলাল কেন? কি ঘটনা ঘটিয়েছে তারা?

তিনি বলেন, যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি তখন শুরু হলো হেফাজতের তাণ্ডব। হেফাজত তো একা নয় হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপিও জড়িত। তাদের প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডে দেখা যায়। হেফাজতের সবাই যে এরমধ্যে জড়িত তাও কিন্তু নয়। এটাও বাস্তবতা। তারপরেও

দেখেছি, ২৬ মার্চ হেফাজত একটা গুজব ছড়াল। কি বায়তুল মোকাররমে মানুষ মারা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে সহিংসতা চালায় এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজত এবং বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক অংশ। ২৮ মার্চ হরতাল দিয়ে সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে তারা তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, সরকারি অফিস-আদালত, পরিবহণে হামলা ও ভাঙচুর এবং পোড়ানো হয়। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর বেছে বেছে পোড়ানো হয়েছে। ছোট শিশুদের সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের হাতে লাঠি অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাগের ভেতরে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কি ধর্মে বিশ্বাস করে যে তারা কোরআন শরিফ পর্যন্ত পোড়ায়। ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে এ জ্বালাও-পোড়াও এটা কিভাবে আসল। ২০১৩ সালে দেখেছি বিএনপি-জামায়াত কিভাবে চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। কোনো কিছু হলেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাসায় আগুন দেওয়া হয়। রেলস্টেশন, ভূমি অফিস, ডিসি অফিস সব জায়গায় তারা আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের মাদ্রাসা তাদের বাড়িঘর সেগুলোতে যদি আগুন লাগে তখন তারা কি করবে? জনগণ কি শুধু বসে বসে এগুলো সহ্য করবে?

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে -প্রধানমন্ত্রী : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এক সপ্তাহ লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে যাতে সুরক্ষা দিতে পারি সেই ব্যবস্থাপনার ফাইলে কিছুক্ষণ আগে সই করে এখানে এসেছি। জানি সবার একটু কষ্ট হবে। মানুষের একটু সমস্যা হবে। তারপরও বলব, জীবনটা বড়। জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানোটাই সবার করণীয়।

করোনা সংক্রমণ প্রশ্নে তিনি বলেন, গত বছরের মার্চে করোনা শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হই। আজ আবার দেখা যাচ্ছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এ দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এবারের ভাইরাসটা কতটুকু ক্ষতি করল তা চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। এজন্য সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানাচ্ছি। ২৯ মার্চ থেকে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে গেল। এরপর থেকে বেড়েই চলছে। কখনো কখনো কমছে। সে কারণে আমরা এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিয়ে-শাদিসহ এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে এলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। শপিং মলগুলো অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। তারা সেখানে ভিড় বাড়াতে পারবে না। মূলত শপিং মল বন্ধ থাকবে। ১১ এপ্রিল নির্বাচন ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। সব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এক সপ্তাহের জন্য সব কিছু লকডাউন ঘোষণা দিয়েছি। সেটা মানলে অন্তত কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, আমরা টিকা দেওয়া শুরু করার পর মানুষ যেন ডেসপারেট হয়ে গেছে। তারা মনে করছে, কিছুই হবে না। সবাই যেন অবাধে চলাফেরা শুরু করে দিয়েছে। এ অবাধে চলাফেরা বন্ধ করতে হবে। এর আগে দেখেছি, বয়স্করা সংক্রমিত হয়। কিন্তু এবার দেখছি, তরুণ এমনকি শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদেরও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যেন একটু সুরক্ষিত থাকেন। চিকিৎসা, টিকাসহ সব ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এক দফা টিকা আমরা দিয়েছি। দ্বিতীয় ডোজ আমরা শুরু করব। সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুনভাবে টিকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব। প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। দূরত্ব বজায় রাখেতে হবে। কোথাও বের হলে ঘরে ফিরে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। গার্গল করবেন। এটা খুবই উপকার হয়। কারণ এই ভাইরাসটা নাকের ভেতরে সাইনাসের ওখানে বাসা বাঁধে। নাকে ভাপ নিলে এবং গার্গল করলে পরে এটা দুর্বল হয়ে যায়। এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা সবাই মেনে চলবেন। সেটাই আমরা আশা করি। করোনা থেকে সবাই ভালো ও সুস্থ থাকেন সেই কামনা করি।

সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ায় আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনএসআইর কর্মীদের দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) নবনির্মিত বহুতলবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ‘আমি চাই এনএসআইর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবেন। কর্তব্যপরায়ণতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভবন উদ্বোধনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু ’৭৫-এর পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা জাতির পিতার সেই আদর্শকে ফিরিয়ে এনেছি। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে একটা মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ মর্যাদাটা ধরে রাখা একান্তভাবে অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটা বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি এবং এসব ব্যাপারে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করলেও এ অবস্থা থেকেও বাংলাদেশ উত্তরণ ঘটাতে পারবে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষ যাতে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করে সেজন্য তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাই, সবাইকে একযোগে কাজ করার আমি আহ্বান জানাচ্ছি। গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এনএসআইর গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি এবং সংস্থার জনবল দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছি। একইভাবে আগের মঞ্জুরীকৃত পদকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এনএসআই সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের পরে বিভিন্ন পদে ১৬০১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে কখনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে ৯ দশমিক ৫৬ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন জনবল, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এনএসআই সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরকেও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও এ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণলব্ধ তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

হেফাজত আগুন নিয়ে খেলছে : প্রধানমন্ত্রী

 সংসদ প্রতিবেদক 
০৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলছেন, এক ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুন অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি আপনাদের হিসাবে নেই। রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

হেফাজতের তাণ্ডবের চিত্র সংসদে তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, তাদের কারণে ২৬ মার্চ অনেক মানুষের জীবন গেছে, এজন্য দায়ী তো তারা। আমি শুধু বলব, আইন তার আপনগতিতে চলবে। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্বব্যাপী মারাত্মক আকার ধারণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে আবার দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এ ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতের কর্মকাণ্ড নিয়ে বলেন, একটা দুঃখজনক বিষয় হলো যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। সেই সময় যে ঘটনাগুলো ঘটানো হলো, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আশ্চর্যের বিষয় যে সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি ঠিক সেই সময়, হ্যাঁ আমাদের অনেক বিদেশি অতিথি এসেছেন। অনেকে বার্তা দিচ্ছেন। ব্রিটেনের রানী থেকে শুরু করে সৌদি বাদশাহ সবার বার্তা পাচ্ছি। এতবড় একটা সম্মান বাংলাদেশ পাচ্ছে। সেখানে কারা খুশি হতে পারেনি? ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাকে আসতে দেওয়া যাবে না, বাধা দেওয়া হলো কেন? 

হেফাজতের প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়, তারা কি দেওবন্দে যায় না? শিক্ষা গ্রহণ করতে। তারা যদি এসব ঘটনা ঘটায় তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দেওবন্দে যাবে কিভাবে- সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে। আমরা তো কওমি মাদ্রাসায় সনদ দিচ্ছি।

তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তাদের কারিকুলাম ঠিক করে দিচ্ছি। যাতে তারা দেশে-বিদেশে চাকরির পায়, তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। তারপরেও কেন তারা এ তাণ্ডব ঘটাল? প্রথমে বিএনপি তাদের সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কিভাবে সমর্থন দিচ্ছে সেটাই আমার প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আসবে সেখানে তাদের আপত্তি। তিনি বলেন, আমার খুব অবাক লাগে বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে। প্রথমে খুব আপত্তি হেফাজতের সঙ্গে, যত রকমের মদদ দেওয়া এবং জ্বালাও-পোড়াও করার যে পরামর্শ সেটাও তারা দিয়েছে। পরে যখন হরতাল দিয়েছে তখন আবার তারা সমর্থন দেয়, এদের রাজনৈতিক কোনো আদর্শ নেই। কোনো আদর্শ নিয়ে তারা চলে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের ২১ মে রাজীব গান্ধী মৃত্যুবরণ করেন। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আমরা যোগদান করেছিলাম। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। তখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে প্রায় সবাই এসেছিলেন। আমেরিকা থেকে, ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস, ইয়াসির আরাফাতসহ সবাই উপস্থিত। ইয়াসির আরাফাত সাহেব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেন খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম মোদির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার ছবি। সেই হাত যেন আর ছাড়ে না। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে টেলিফোনে সেই খিলখিল হাসি। তার যে হাসির আওয়াজ সেটাও তো সবার কানে গেছে। আবার যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মোদি সাহেব আসবেন তখন বাধা দেওয়া হয় এবং হেফাজতের সঙ্গে হাত মেলাল কেন? কি ঘটনা ঘটিয়েছে তারা?

তিনি বলেন, যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি তখন শুরু হলো হেফাজতের তাণ্ডব। হেফাজত তো একা নয় হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপিও জড়িত। তাদের প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডে দেখা যায়। হেফাজতের সবাই যে এরমধ্যে জড়িত তাও কিন্তু নয়। এটাও বাস্তবতা। তারপরেও

দেখেছি, ২৬ মার্চ হেফাজত একটা গুজব ছড়াল। কি বায়তুল মোকাররমে মানুষ মারা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে সহিংসতা চালায় এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজত এবং বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক অংশ। ২৮ মার্চ হরতাল দিয়ে সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে তারা তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, সরকারি অফিস-আদালত, পরিবহণে হামলা ও ভাঙচুর এবং পোড়ানো হয়। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর বেছে বেছে পোড়ানো হয়েছে। ছোট শিশুদের সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের হাতে লাঠি অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাগের ভেতরে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কি ধর্মে বিশ্বাস করে যে তারা কোরআন শরিফ পর্যন্ত পোড়ায়। ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে এ জ্বালাও-পোড়াও এটা কিভাবে আসল। ২০১৩ সালে দেখেছি বিএনপি-জামায়াত কিভাবে চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। কোনো কিছু হলেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাসায় আগুন দেওয়া হয়। রেলস্টেশন, ভূমি অফিস, ডিসি অফিস সব জায়গায় তারা আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের মাদ্রাসা তাদের বাড়িঘর সেগুলোতে যদি আগুন লাগে তখন তারা কি করবে? জনগণ কি শুধু বসে বসে এগুলো সহ্য করবে?

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে -প্রধানমন্ত্রী : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এক সপ্তাহ লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে যাতে সুরক্ষা দিতে পারি সেই ব্যবস্থাপনার ফাইলে কিছুক্ষণ আগে সই করে এখানে এসেছি। জানি সবার একটু কষ্ট হবে। মানুষের একটু সমস্যা হবে। তারপরও বলব, জীবনটা বড়। জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানোটাই সবার করণীয়।

করোনা সংক্রমণ প্রশ্নে তিনি বলেন, গত বছরের মার্চে করোনা শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হই। আজ আবার দেখা যাচ্ছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এ দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এবারের ভাইরাসটা কতটুকু ক্ষতি করল তা চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। এজন্য সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানাচ্ছি। ২৯ মার্চ থেকে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে গেল। এরপর থেকে বেড়েই চলছে। কখনো কখনো কমছে। সে কারণে আমরা এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিয়ে-শাদিসহ এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে এলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। শপিং মলগুলো অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। তারা সেখানে ভিড় বাড়াতে পারবে না। মূলত শপিং মল বন্ধ থাকবে। ১১ এপ্রিল নির্বাচন ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। সব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এক সপ্তাহের জন্য সব কিছু লকডাউন ঘোষণা দিয়েছি। সেটা মানলে অন্তত কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, আমরা টিকা দেওয়া শুরু করার পর মানুষ যেন ডেসপারেট হয়ে গেছে। তারা মনে করছে, কিছুই হবে না। সবাই যেন অবাধে চলাফেরা শুরু করে দিয়েছে। এ অবাধে চলাফেরা বন্ধ করতে হবে। এর আগে দেখেছি, বয়স্করা সংক্রমিত হয়। কিন্তু এবার দেখছি, তরুণ এমনকি শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদেরও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যেন একটু সুরক্ষিত থাকেন। চিকিৎসা, টিকাসহ সব ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এক দফা টিকা আমরা দিয়েছি। দ্বিতীয় ডোজ আমরা শুরু করব। সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুনভাবে টিকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব। প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। দূরত্ব বজায় রাখেতে হবে। কোথাও বের হলে ঘরে ফিরে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। গার্গল করবেন। এটা খুবই উপকার হয়। কারণ এই ভাইরাসটা নাকের ভেতরে সাইনাসের ওখানে বাসা বাঁধে। নাকে ভাপ নিলে এবং গার্গল করলে পরে এটা দুর্বল হয়ে যায়। এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা সবাই মেনে চলবেন। সেটাই আমরা আশা করি। করোনা থেকে সবাই ভালো ও সুস্থ থাকেন সেই কামনা করি।

সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ায় আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনএসআইর কর্মীদের দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) নবনির্মিত বহুতলবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ‘আমি চাই এনএসআইর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবেন। কর্তব্যপরায়ণতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভবন উদ্বোধনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু ’৭৫-এর পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা জাতির পিতার সেই আদর্শকে ফিরিয়ে এনেছি। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে একটা মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ মর্যাদাটা ধরে রাখা একান্তভাবে অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটা বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি এবং এসব ব্যাপারে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে। 

করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করলেও এ অবস্থা থেকেও বাংলাদেশ উত্তরণ ঘটাতে পারবে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষ যাতে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করে সেজন্য তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাই, সবাইকে একযোগে কাজ করার আমি আহ্বান জানাচ্ছি। গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এনএসআইর গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি এবং সংস্থার জনবল দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছি। একইভাবে আগের মঞ্জুরীকৃত পদকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এনএসআই সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের পরে বিভিন্ন পদে ১৬০১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে কখনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে ৯ দশমিক ৫৬ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন জনবল, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এনএসআই সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরকেও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও এ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণলব্ধ তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন