নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবি ৫ নারীর লাশ উদ্ধার
jugantor
নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবি ৫ নারীর লাশ উদ্ধার
নিখোঁজ ১৫, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

  নারায়ণগঞ্জ, বন্দর ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত সোয়া ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এখনও ১৫ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সাঁতরিয়ে তীরে উঠে রক্ষা পেয়েছেন ২৬ যাত্রী। ঘটনাস্থলে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, দমকল বাহিনী, নৌ ও থানা পুলিশের উদ্ধারকর্মীরা। লঞ্চটিতে ৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রোববার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ উদ্ধার কাজের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। তিনি জানিয়েছেন, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশের বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ ঘাট দিয়ে ১০ ও পশ্চিম পাশের ঘাট দিয়ে আরও ১৬ জন জীবিত অবস্থায় তীরে উঠতে পেরেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। জেলা প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যেই পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ভার নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ আরও জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহেরা খানম ববিকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। নৌ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ উৎঘাটনে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টির কারণে আমাদের উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করেছি। আমাদের কার্যক্রম চলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের নিরাপত্তকর্মী মোহাম্মদ হালিম জানিয়েছেন, এসকেএল-৩ (এম : ০১২৬৪৩) নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকের নাম আলাল হোসেন। তিনি মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এ রুটে ২৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। আমাদের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর আয়তন ছোট। কোস্টার জাহাজগুলো এ রুটে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। বারবার বলার পরও তারা কোনো সমঝোতা করে চলাচল করে না। কোস্টার জাহাজগুলো যেন নিয়ম মেনে যেন চলাচল করে এ দাবি তোলেন তিনি।
নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট ও হাসপাতালে ভিড় : শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট ও হাসপাতালে ভিড় করছেন। স্বজনদের খোঁজে অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে নদীর দিকে, কখন ট্রলার বা অন্য কোনো মাধ্যমে হাজির হবে লঞ্চঘাটে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার হওয়া চার যাত্রীকে নিয়ে আসে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। চিকিৎসা শেষে মো. গনি ও স্বপন মাদবর নামে দুজনকে ছেড়ে দিলেও মো. রিফাত ও লিয়ন কাজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লঞ্চে থাকা যাত্রীরা প্রায় সবাই মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা।

নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবি ৫ নারীর লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ ১৫, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন
 নারায়ণগঞ্জ, বন্দর ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত সোয়া ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এখনও ১৫ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সাঁতরিয়ে তীরে উঠে রক্ষা পেয়েছেন ২৬ যাত্রী। ঘটনাস্থলে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, দমকল বাহিনী, নৌ ও থানা পুলিশের উদ্ধারকর্মীরা। লঞ্চটিতে ৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রোববার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ উদ্ধার কাজের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। তিনি জানিয়েছেন, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশের বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ ঘাট দিয়ে ১০ ও পশ্চিম পাশের ঘাট দিয়ে আরও ১৬ জন জীবিত অবস্থায় তীরে উঠতে পেরেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। জেলা প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যেই পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ভার নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ আরও জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহেরা খানম ববিকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। নৌ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ উৎঘাটনে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টির কারণে আমাদের উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করেছি। আমাদের কার্যক্রম চলছে। 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের নিরাপত্তকর্মী মোহাম্মদ হালিম জানিয়েছেন, এসকেএল-৩ (এম : ০১২৬৪৩) নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকের নাম আলাল হোসেন। তিনি মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এ রুটে ২৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। আমাদের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর আয়তন ছোট। কোস্টার জাহাজগুলো এ রুটে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। বারবার বলার পরও তারা কোনো সমঝোতা করে চলাচল করে না। কোস্টার জাহাজগুলো যেন নিয়ম মেনে যেন চলাচল করে এ দাবি তোলেন তিনি। 
নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট ও হাসপাতালে ভিড় : শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট ও হাসপাতালে ভিড় করছেন। স্বজনদের খোঁজে অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে নদীর দিকে, কখন ট্রলার বা অন্য কোনো মাধ্যমে হাজির হবে লঞ্চঘাটে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার হওয়া চার যাত্রীকে নিয়ে আসে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। চিকিৎসা শেষে মো. গনি ও স্বপন মাদবর নামে দুজনকে ছেড়ে দিলেও মো. রিফাত ও লিয়ন কাজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লঞ্চে থাকা যাত্রীরা প্রায় সবাই মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন