বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর র‌্যাব-পুলিশ
jugantor
বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর র‌্যাব-পুলিশ

  সিরাজুল ইসলাম  

০৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর র‌্যাব-পুলিশ

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের সব ইউনিটকে কড়া বার্তা দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। কনফারেন্সের অন্য প্রান্তগুলোতে সব রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং জেলার এসপিরা যুক্ত ছিলেন। রোববার বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্স চলে। কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, করোনাভাইরাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার রোববার যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এদিকে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা শতভাগ সফলতার সঙ্গে পালন করতে চাই। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই। অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ নিশ্চিত করা এবং সামজিক দূরত্ব বাজার রাখতে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা ও মানুষকে সচেতন করতে আমরা ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণসহ নানা কার্যক্রম শুরু করেছি। মাঠ পর্যায়ে মাইকিংসহ নিয়মিত প্রচারণা অব্যাহত আছে। টহল এবং চোকপোস্ট বাড়িয়েছি। করোনার প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সোমবার থেকে আমরা নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করব।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের যত দায়িত্ব আছে সব বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। সরকারি নির্দেশনায় যেসব যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে সেসব চলতে দেওয়া হবে না। মার্কেট খোলার সময়সূচি যথাযথভাবে মানতে হবে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামীকাল (আজ) সকাল থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ মাঠে থাকবে।
র‌্যাব সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আড়াই হাজারের বেশি র‌্যাব সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। তাই এবার সদস্যদের সংক্রমণ রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। ব্যারাকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে। অভিযান, টহল ও চেকপোস্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। র‌্যাব সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। খাদ্যে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া জিংক, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া র‌্যাব সদস্যদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইউনিটসমূহের প্রবেশপথে যানবাহন ও ব্যক্তি পর্যায়ে জীবাণু মুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আবাসন, খাদ্য গ্রহণ ও নৈমিত্তিক কাজে স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৫ জন প্যারামেডিক্স নিয়োগ করা হয়েছে। ২২টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও ২২টি ভেন্টিলেটর সংযোগ করা হয়েছে। এই কনসেনট্র্রেটর বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। তাই সিলিন্ডারের প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া পালস, অক্সিমিটার, ইসিজি, নেবুলাইজার, থারমাল স্ক্যানার ও বিপি মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় করোনা কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে এ সেল থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক ব্যাটালিয়নে পৃথক করোনা সেল গঠন করা হয়েছে।
সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইজিপির ভিডিও কনফারেন্স সম্পর্কে সিলেটের এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে যা যা করার প্রয়োজন সবই করতে আইজিপি মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন। নিজেদের নিরাপদ রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়ে আইজিপি বলেছেন, যারা সরকারের প্রজ্ঞাপন অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে পুলিশ।
ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপির বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, গত বছরের মতো এবারো খোলা বা উন্মুক্ত স্থানে বাজার বসার ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব দোকানপাট খোলা থাকবে সেখানে পূর্ণাঙ্গরূপে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা সম্পর্কে আইজিপি বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অবস্থানস্থল চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, জরুরি সেবাসমূহ, শিল্প কারখানা এবং গার্মেন্টস খোলা থাকবে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। পণ্য পরিবহণকারী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।
পুলিশ অফিসার ও ফোর্সকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই পিপিই, ফেসশিল্ড, মাস্ক ইত্যাদি সুরক্ষা সামগ্রী যথাযথভাবে পরিধান করতে হবে। পুলিশের সব স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন আইজিপি। আইজিপি পুলিশের সব স্থাপনা নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তা প্রতিরোধে পুলিশ জনগণের পাশে ছিল। এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানবিক পুলিশে পরিণত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়ও পুলিশসহ সবাই মিলে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে সচেষ্ট থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর র‌্যাব-পুলিশ

 সিরাজুল ইসলাম 
০৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর র‌্যাব-পুলিশ
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের সব ইউনিটকে কড়া বার্তা দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। কনফারেন্সের অন্য প্রান্তগুলোতে সব রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং জেলার এসপিরা যুক্ত ছিলেন। রোববার বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্স চলে। কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, করোনাভাইরাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার রোববার যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এদিকে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা শতভাগ সফলতার সঙ্গে পালন করতে চাই। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই। অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ নিশ্চিত করা এবং সামজিক দূরত্ব বাজার রাখতে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা ও মানুষকে সচেতন করতে আমরা ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণসহ নানা কার্যক্রম শুরু করেছি। মাঠ পর্যায়ে মাইকিংসহ নিয়মিত প্রচারণা অব্যাহত আছে। টহল এবং চোকপোস্ট বাড়িয়েছি। করোনার প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সোমবার থেকে আমরা নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করব। 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের যত দায়িত্ব আছে সব বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। সরকারি নির্দেশনায় যেসব যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে সেসব চলতে দেওয়া হবে না। মার্কেট খোলার সময়সূচি যথাযথভাবে মানতে হবে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামীকাল (আজ) সকাল থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ মাঠে থাকবে। 
র‌্যাব সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আড়াই হাজারের বেশি র‌্যাব সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। তাই এবার সদস্যদের সংক্রমণ রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। ব্যারাকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে। অভিযান, টহল ও চেকপোস্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। র‌্যাব সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। খাদ্যে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া জিংক, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া র‌্যাব সদস্যদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইউনিটসমূহের প্রবেশপথে যানবাহন ও ব্যক্তি পর্যায়ে জীবাণু মুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আবাসন, খাদ্য গ্রহণ ও নৈমিত্তিক কাজে স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৫ জন প্যারামেডিক্স নিয়োগ করা হয়েছে। ২২টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও ২২টি ভেন্টিলেটর সংযোগ করা হয়েছে। এই কনসেনট্র্রেটর বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। তাই সিলিন্ডারের প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া পালস, অক্সিমিটার, ইসিজি, নেবুলাইজার, থারমাল স্ক্যানার ও বিপি মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় করোনা কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে এ সেল থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক ব্যাটালিয়নে পৃথক করোনা সেল গঠন করা হয়েছে। 
সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইজিপির ভিডিও কনফারেন্স সম্পর্কে সিলেটের এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে যা যা করার প্রয়োজন সবই করতে আইজিপি মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন। নিজেদের নিরাপদ রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়ে আইজিপি বলেছেন, যারা সরকারের প্রজ্ঞাপন অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে পুলিশ। 
ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপির বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, গত বছরের মতো এবারো খোলা বা উন্মুক্ত স্থানে বাজার বসার ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব দোকানপাট খোলা থাকবে সেখানে পূর্ণাঙ্গরূপে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা সম্পর্কে আইজিপি বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অবস্থানস্থল চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, জরুরি সেবাসমূহ, শিল্প কারখানা এবং গার্মেন্টস খোলা থাকবে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। পণ্য পরিবহণকারী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। 
পুলিশ অফিসার ও ফোর্সকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই পিপিই, ফেসশিল্ড, মাস্ক ইত্যাদি সুরক্ষা সামগ্রী যথাযথভাবে পরিধান করতে হবে। পুলিশের সব স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন আইজিপি। আইজিপি পুলিশের সব স্থাপনা নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তা প্রতিরোধে পুলিশ জনগণের পাশে ছিল। এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানবিক পুলিশে পরিণত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়ও পুলিশসহ সবাই মিলে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে সচেষ্ট থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস